ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১২ ঘন্টা আগে
২৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:০৫

পৃথিবী বদলে দেয়া হিরোদের তালিকায় দুই চিকিৎসক

পৃথিবী বদলে দেয়া হিরোদের তালিকায় দুই চিকিৎসক

মেডিভয়েস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম সিএনএন সামাজিক সেবামূলক নানা কাজের মাধ্যমে পৃথিবী বদলে দেয়ার মতো ১০ উল্লেখযোগ্য পথপ্রদর্শক বাছাই করেছে। সে তালিকায় রয়েছেন দুই স্বনামধন্য চিকিৎসক। তাদের প্রত্যেকেই একটি করে পথ বেছে নিয়ে নিজের জ্ঞান ও উৎসাহ দিয়ে অসংখ্য মানুষকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানা যায়।

সম্প্রতি সিএনএন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে শীর্ষ ১০ সিএনএন হিরোদের নাম-পরিচয় এবং তাদের প্রচেষ্টা সম্পর্কে তুলে ধরা হয়। আর এ কাজের প্রতিদানস্বরূপ ওই ১০ জনের প্রত্যেকেই দশ হাজার ডলারের ক্যাশ প্রাইজ পাবেন। আর এই ১০ জনের মধ্যে যিনি ‘সিএনএন হিরো অব দ্য ইয়ার’ হবেন, তিনি পাবেন অতিরিক্ত এক লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার একটি ব্রডকাস্ট টিভি অনুষ্ঠানে তাদের প্রচেষ্টাগুলো তুলে ধরা হবে। এবং ৯ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় রাত আটটায় ‘সিএনএন হিরোজ: অ্যান অল-স্টার ট্রিবিউট’ নামের এই অনুষ্ঠান প্রচারিত হবে। 

শীর্ষ ১০ সিএনএন হিরো চিকিৎসকদের মধ্যে অন্যতম একজন রব গোর। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে খুব কাছ থেকেই সহিংসতার পরবর্তী অবস্থা দেখেছেন। তিনি ২০০৯ সালে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে কিংস এগেইনস্ট ভায়োলেন্স ইনিশিয়েটিভ (কেএভিআই) শুরু করেন। তারা হাইস্কুলে শিক্ষার্থীদেরকে মেডিটেশন এবং দ্বন্দ্ব নিরসনের উপায় শিক্ষা দিতেন শুরু করেন।

কেএভিআই কিংস ইতোমধ্যে কিংস কাউন্টি হসপিটাল, স্থানীয় স্কুলগুলো এবং বর্ডার কমিউনিটিতে এন্টি-ভায়োলেন্স প্রোগ্রাম চালু করে ২৫০জনের বেশি তরুণকে সহযোগিতা করেছে। তারা অলাভজনকভাবে ‘হসপিটাল রেসপন্ডার্স’ হিসেবে সহিংসতার শিকার এবং তাদের পরিবারকে সহযোগিতা করে থাকে। গোরের মতে, সহিংসতা সব জায়গায়…কিন্তু সহিংসতাকারীরা যেন তোমার কাছ থেকে শেখে যে কিভাবে এটা এড়ানো যায়।

শীর্ষ ১০ সিএনএন হিরো চিকিৎসকদের আরেকজন ডা. রিকার্ডো পুন-চোং। তিনি সরাসরি চিকিৎসাসেবা না দিলেও তার জীবনের একটা বড় সময় ধরে পেরুর রাজধানী লিমার বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনের দায়িত্ব পালন করেছেন। দিনের পর দিন তিনি হাসপাতালে মেঝেয় অসংখ্য পরিবারকে ঘোমাতে দেখেছেন। শহরের ভালো কোনও জায়গায় থাকার অর্থ না থাকায় এবং নিজের বাসা থেকে অনেক দূরে হওয়ায় হাসপাতালের মেঝেয় রাত কাটায় তারা। অনেক পরিবারের সন্তানদের জীবন যখন শঙ্কার মুখে, তখন তাদের বাবা-মা গৃহহীন। এসব মানুষের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন পুন-চোং।

তার গড়ে তোলে অলাভজনক সংগঠন ‘ইন্সপিরা’। তারা ২০০৮ সাল থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর আত্মীয়দেরকে আশ্রয়, খাবার এবং যথাসম্ভব রোগীকে সহায়তা করে থাকে। সংগঠনটি এ পর্যন্ত নয় শতাধিক পরিবারকে সহযোগিতা করেছে। পুন-চোং বলেন, আমি যখন এসব শিশুর সঙ্গে থাকি, তখন আমি অনুভব করতে পারি যে তারা কতো দৃঢ় মানসিকতার। আমার মনে হয় এমন কোনও সমস্যা নেই, যা আমরা সমাধান করতে পারি না।

এই বছরের সেরা ১০ সিএনএন হিরোর মধ্যে অন্যান্যরা হলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সদস্য ক্রিস স্টাউট, শিক্ষিকা এলেন স্ট্যাকেবল যিনি তার লেখনীর মাধ্যমে আশাহীনদেরকে উজ্জীবিত করছেন, বিভিন্ন কমিউনিটি-বিল্ডিং প্রজেক্টর ফ্লোরেন্স ফিলিপস যিনি ইংরেজি শোখানোর কাজ করেছেন। 

এছাড়াও ১০ সিএনএন হিরোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্যালিফোর্নিয়ার কিশোরী সুসান মুনসে, যিনি একটি পতিতালয়ের পতিতা হিসেবে একজন তরুণীর অপব্যবহার হওয়া সরাসরি দেখেন এবং শেষমেশ তিনি এই জগৎ থেকে পালিয়ে এসে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কার এবং সাইকোথেরাপিস্ট হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইডাহো অঙ্গরাজ্যের টুইন ফলসে ‘স্লিপ ইন হ্যাভেন্টলি পিস’ নামের একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠান করেন। 

আমান্দা বক্সটেল একটি ভয়ঙ্কর স্কিইং দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আর কখনোই হাঁটতে পারবেন না। কিন্তু, বিকলাঙ্গ মানুষদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

মারিয়া রোজ বেল্ডিং যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘মিনস’(MEANS) নামের একটি ফ্রি অনলাইন প্ল্যাটফরম খুলেছেন, যেখানে কেউ চাইলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার দান করতে পারে ক্ষুধার্তদের জন্য। এবং নাইজেরিয়ার লাগোসে মেয়েদের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখাতে নিজের চাকরি ছাড়েন আবিসোয়ে আজায়ি-আকিনফোলারিন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত