ঢাকা      মঙ্গলবার ১৮, ডিসেম্বর ২০১৮ - ৪, পৌষ, ১৪২৫ - হিজরী



আসির মোসাদ্দেক সাকিব

ডেন্টাল সার্জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


সুপারবাগ ও আমাদের পুরনো ব্রহ্মাস্ত্র

মানুষ বনাম ব্যাকটেরিয়া যুদ্ধের শুরু সেই হাজার বছর আগে থেকেই। হাজার বছর ধরে মানুষ নির্মম ভাবে পরাজিত হয়ে এসেছে বারবার ব্যাকটেরিয়ার হাতে।  মাত্র ৯৭ বছর আগের কথা। স্কটল্যান্ডের কৃষক ঘরের এক ছেলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মিত্রবাহিনীর ক্যাপ্টেন ছিল। আবার অন্য দিকে এই ছেলে ছিল ১৯০৮ সালের লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল্ড মেডেলিস্ট MBBS । এই তরুণ ডাক্তার ১৯২১ সালে একদিন পৃথিবী কাঁপানো এক আবিষ্কার করে লাইসোজাইম নামের এক এনজাইম এবং ঠিক ৭ বছর পরেই ১৯২৮ এ সেই হাজার বছরের পুরোনো মানুষ-ব্যাকটেরিয়া যুদ্ধে মানুষের পক্ষে প্রথম এবং সম্ভবত শেষ প্রতিরক্ষা কবচ ভুলবশত আবিষ্কার করেন “পেনিসিলিন” নামে। এই আবিষ্কারের আকস্মিকতায় এই তরুণ ডা. ফ্লেমিং বলেন "One sometimes finds what one is not looking for"। এরপর একে একে সালফোনামাইড, স্ট্রেপ্টোমাইসিন, ক্লোরামফেনিকল, টেট্রাসাইক্লিন আবিষ্কারের পরে ১৯৪২ এ স্যালম্যান ওয়াক্সম্যান “ANTIBIOTICS” নামের একটা শব্দ উচ্চারণ করেন এই প্রতিরক্ষা কবচের নাম হিসেবে।

এরপর মানুষের কেবল জয়জয়াকার। মানব বিজয়ের অর্ধশত বছর পরে আশির দশকে হঠাত চীন দেশে আমাদের অস্ত্র প্রথম ব্যর্থ হয়েছে বলে বলাবলি শুরু হল। বিজ্ঞানীদের বুকে ধুকপুক শুরু হলো। দ্রুত গবেষণা শুরু হলো ব্যর্থতার কারণ নিয়ে। একের পর এক আমাদের চোখে ধরা পরতে লাগল আমাদের দুর্বলতা আর ব্যাকটেরিয়ার চালাকি। দেখা গেল এই যুদ্ধের “লর্ড ক্লাইভ”  কিছু অতিচালাক ব্যাকটেরিয়া আর “মীর জাফর-রায়দুর্লভ-জগৎশেঠ” হল আমাদের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, দ্রুত আরোগ্যের লোভ আর অসচেতনতা। ২০০৮ সালে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করলো যে আমাদের শক্তিশালী মানবের রক্ষাকবচ নবাব “এন্টিবায়োটিকের” শীঘ্রই পতন হতে চলেছে কারণ ইতোমধ্যে সর্বঅস্ত্রবিরোধী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি “SUPERBUG” চারটি মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা এই সুপারবাগ তৈরির কারণ হিসেবে বলেছে- যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে একে একে ব্যবহৃত আমাদের অস্ত্রের সর্বশেষ ছিল কার্বাপেনেম। এই কার্বাপেনেম রেসিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়া যখন পূর্বের মানব বিরোধী অস্ত্র কলিস্টিন রেসিস্ট্যান্ট জিন কে গ্রহণ করে নেয় তখনই তৈরি হচ্ছে এই superbug রা।  সেই থেকে আমাদের স্বাধীনতার সূর্য অস্ত হয়ে চলেছে আজ পর্যন্ত।

সপ্তাহখানেক বয়সের বাচ্চা হাসপাতালের বেডে মায়ের কোলে প্রচন্ড জ্বরে কাতরাচ্ছে, তার সাথে আমাদের মানবতা- উৎকৃষ্ট বুদ্ধি-দক্ষতাকে বোবা বানিয়ে সেই বেডের পাশে ৯৫ বা ১০০ ভাগ এন্টিবায়োটিক রেসিস্টেন্সের কালচার সেন্সিটিভিটি রিপোর্ট পড়ে রয়েছে—এই দৃশ্য অচেনা নয় আমাদের এই যুগে।

ধারণা মোতাবেক আর ৫০ বছরেই সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিধ্বস্ত হয়ে যাবে আমাদের। তাই সেই ভয়াহব মৃত্যুময় ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি ক্রমাগত এন্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্সের বিরুদ্ধে।

এবার আসি এই যুদ্ধের অন্তরালের ঘটনায়। এই পরোক্ষ যুদ্ধের চড়াই উৎরায়ে মানুষ কখনোই বসে ছিলনা হাত পা গুটিয়ে। সৃষ্টির সেরা জীব এত সহজে হেরে যেতে পারে না। মাইক্রোবায়োম নিয়ে শত বছর আগে থেকেই গবেষণা। এন্টনি হুকের সেই গ্রাউন্ড ব্রেকিং আবিষ্কারের পরে অবিরত চলতেই আছে আমাদের অনুসন্ধান। এবার অন্য টাইমলাইনে আসি।

সময়টা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মধ্যকার ১৯১৪ তে। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক ফ্রেডরিক উইলিয়াম টোয়র্ট গরুর চামড়ায় পক্স ভ্যাক্সিন দেয়ার পরে খেয়াল করেন যে অই সব স্থানে স্ট্যাফাইলোকক্কাস জড়ো হচ্ছে। ধারনা করলেন ভ্যাক্সিনিয়া ভাইরাস বাঁচার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ এই স্ট্যাফাইলকক্কাসের ভেতরে আছে বলে এসবকে সেখানে জড়ো করছে ভাইরাসটি। পরে তিনি প্যাট্রিডিশে নিউট্রিয়েন্ট এগারে স্মল পক্স ভ্যাক্সিন নিয়ে দেখলেন সেখানে বিভিন্ন রঙের ব্যাকটেরিয়া জড়ো হচ্ছে। মাইক্রোস্কোপে দেখেন যে কিছু গ্লাসি জিনিস ছড়িয়ে আছে এগুলোর পাশে যা আলাদা ভাবে কখনোই দেখেননি। তার মানে এই জিনিসগুলো in vitro তেই তৈরি হয় শুধু যা আমাদের শরীরের কোষ নয় বরং ব্যাকটেরিয়ার নির্দিষ্ট এনজাইমের উপর নির্ভরশীল। টোয়র্ট বলেন এসব পার্টিকেলের অধিকাংশই পর্সেলিন ফিল্টার দিয়েও বেরিয়ে যায়। তিনি একটি গবেষণামূলক বই লিখেন the contagion the bacteriolytic agent নামে। এটি বিজ্ঞানমহল গ্রহণ করেনি।

১৯১৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ফরাসী সেনাবাহিনীতে কর্মরত মাইক্রোবায়োলজিস্ট ল্যাব এসিস্ট্যান্ট ফেইলিক্স ডি’হ্যরেল্লে একই জিনিস আবিষ্কার করেন এক শিগেলারী ডিসেন্ট্রির পেশেন্টের মল থেকে। ১৯১৯ এ একই রকম জিনিস পান  মুরগির বিষ্টা থেকে। বলেন যে it was a biological organism that reproduces, somehow feeding off bacteria । অর্থাৎ তিনি এই জিনিস গুলাকে কোন নাম দিতে পারেননি বায়োলজিক্যাল অর্গানিজম ছাড়া। হ্যরেল্লে চিকেন টাইফাস এর বিরুদ্ধে এই বস্তু কে লেলিয়ে দেন এবং চমৎকার ভাবেই কোন ভ্যাক্সিন ছাড়াই মুরগী টাইফাস থেকে বেচে উঠে। মাইক্রোবায়োলজিস্ট দের চক্ষু চড়কগাছ। এমন আলাদীনের প্রদীপ পেয়ে যাবে স্বপ্নেও ভাবেনি কেউ। খেয়াল রাখবেন যে, তখনো এন্টিবায়োটিক নামের কিছু মানুষ পাইনি হাতে এবং এডওয়ার্ড জেনারের স্মল পক্স ভ্যাক্সিন ছাড়া আর কোন ভ্যাক্সিন চিনত না মানুষ। এমন সময় হঠাত এই প্রাকৃতিক অস্ত্রের আবিষ্কার। এবার তিনি মানুষের উপর হাত দেন। ১৯১৯ সালেই শিগেলারী ডিসেন্ট্রির প্রথম রোগকে এই আইসোলেটেড জিনিস খাইয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলেন। মানুষের হাতে এই আজব জিনিস চলে এল। ১৯২০ সালে কলেরা এবং প্লেগের উপর গবেষণা শেষে ১৯২১ সালে এই বিনা বেতনের ল্যাব এসিস্ট্যান্ট , প্রখ্যাত বায়োলজিস্ট এডোয়ার্ড পোজেরাস্কির অনুপ্রেরণায় একটি মনোগ্রাফ বের করে The Bacteriophage: Its Role in Immunity নামের। এই বইতে তিনি ব্যাক্টেরিওফাজ দিয়ে ব্যাকটেরিয়া নিধন পদ্ধতিকে Phage Therapy নামে বলেন। কিন্তু ১৯৩৯ এ জার্মান গবেষক হেলমুট রুস্কা ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে এগুলোকে দেখার আগে পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা এই ব্যাকটেরিওফাজের অস্তিত্ত্ব নিয়ে সন্দেহে ছিলেন। হ্যরেল্লে বলেন শুধুমাত্র এক প্রজাতির ফাজ দিলে রেসিস্ট্যান্ট হতে পারে তাই কয়েক প্রজাতির ফাজ মিশিয়ে “ফাজ কক্টেল” দেয়া উত্তম। বর্ডাটেলা ব্যাক্টেরিয়ার আবিষ্কারক জুলস বর্ডেট পুরোন নথি ঘেঁটে সেই ১৯১৪ এর ফ্রেডরিক টোয়র্ট এর গবেষণা লোকের সামনে এনে ওনাকে প্রথম আবিষ্কারকের সম্মান দেন। হ্যরল্লের বন্ধু এলিয়াভা ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা জর্জ এলিয়াভা এই আবিষ্কারকে পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে দেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই হ্যারেল্লে পরপর ১০ বার নোবেল নমিনেশন পেয়েও বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে নোবেন পাননি।

এই সময়ে অন্যদিকে সুলভ এন্টিবায়োটিকের জয়জয়াকারের কারণে ফাজ থেরাপির ব্যাপার খানিকটা চাপা পড়ে যায়। তবে স্নায়ু যুদ্ধের সময় রাশিয়া আর জর্জিয়া ব্যাপক ভাবে এর ব্যবহার চালাতে থাকে। একে একে ক্যম্ফাইলোব্যাকটার, লিস্টেরিয়া, সালমোনেলা, ভিব্রিও, জেন্থোমোনাস, এশ্চেরেচিয়া, ল্যাকটোকক্কাস, স্ট্রেপটোকক্কাস, স্টেফাইলোকক্কাস এর বিরুদ্ধের ফাজ থেরাপি ব্যাপকভাবে সফল হয়।

ব্যাকটেরিওফাজ পাওয়া যায়না এমন কোন স্থান নেই ভূপৃষ্ঠে। পৃথিবীর সমস্ত ব্যাক্টেরিয়া সহ সমস্ত জীবের সংখ্যার চেয়ে কয়েকশ গুণ বেশি ফাজ ভাইরাস রয়েছে। মহাসমুদ্র গুলোতে যত ব্যাকটেরিয়া রয়েছে তাদের ৪০% প্রতিদিন নিহত হচ্ছে ব্যাকটেরিওফাজের হাতে। তবে ব্যাকটেরিয়ারা কেবল টিকে আছে তাদের অতি উচ্চ প্রজনন হারের জন্য। ফাজ আর ব্যাকটেরিয়ার এই গোপন শত্রুতা আমাদের জন্য আশির্বাদ হয়ে দেখা দিল। “enemies of the ememy are always friends” এই সুত্রে ফাজ ভাইরাস আর মানুষে সখ্যতা হল।

ফাজ থেরাপির সুবিধা হল- এরা ব্যাকটেরিয়ার মিউটেশনের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেরা মিউটেশন ঘটায় তাই ব্যাকটেরিয়ারা এদের হাত থেকে বেঁচে যেতে পারেনা। ফাজ দের কর্মক্ষমতা নিয়ে তাই আমাদের বারবার হস্তক্ষেপ না করলেও চলবে। আরেকটি বড় সুবিধা হল এরা এমন সব অংশে দ্রুত প্রবেশ করতে পারে যেখানে এন্টিবায়োটিক মলিকিউল সহজে পারেনা যেমন bone cell আর meninges ইত্যাদি। এদের ব্লাড ব্রেন বেরিয়ার বাঁধা দিতে পারেনা তাই সহজেই ব্রেনে এন্ট্রি করতে পারবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হল এরা আমাদের দেহকোষকে আক্রান্ত করেনা বা প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়াদের মারে না তাই সুপার ইনফেকশন বা সাইড ইফেক্টের সম্ভাবনা নাই বললেই চলে।

ফাজ থেরাপির অসুবিধা বলতে গেলে- এটি খুবি ন্যারো স্পেকট্রাম তাই অনেক যাচাই বাচাই করে সুনির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার জন্য প্রযোজ্য ফাজ বের করে নিতে হয়। এন্টিবায়োটিকের চেয়ে প্রস্তুত খরচ বেশি বলে এটি তুলনামূলক দুর্লভ। এগুলোর কালচারের জন্য স্যম্পল কালেকশন করতে হয় নালা নর্দমার নোংরা পানি থেকে যেখানে ব্যাকটেরিয়ারা সুলভ। আর ফাজের শেলফ লাইফ ১৪ মাস তাই এগুলোকে ঘন ঘন পরিবর্তন করতে হয় এন্টিবায়োটিকের তুলনায়।

 বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে ভাল ফাজ থেরাপি দেয় জর্জিয়ার এলিয়াভা ইন্সটিটিউট। এরাই ফাজ থেরপির অগ্রদূত বলা যায়। রাশিয়াতে কিছু প্রতিষ্ঠান ও এটা দিয়ে যাচ্ছে। ২০০৭ সালে লন্ডনের ROYAL national ENT hospital এ সিউডোমোনাস অরিজিনোসার বিরুদ্ধে প্রথম ফাজ কক্টেল থেরাপি প্রয়োগ করে ১০০ ভাগ সফলতা পাওয়া যায়। ২০০৯ তে দ্বিতীয় ধাপে পরীক্ষাতে সফল হবার পরে intralytix নামের এক ইউরোপিয়ান কোম্পানি এই থেরাপি দিয়ে আসছে।

যেসব ব্যাকটেরিয়ারা রেসিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে বলে বিজ্ঞানীরা ১০০ ভাগ নিশ্চিত তাদের ESKAPE pathogens বলা হয়  (Enterococcus faecium, Staphylococcus aureus, Klebsiella pneumoniae, Acinetobacter baumannii, Pseudomonas aeruginosa, and Enterobacter sp.) এদের ক্ষেত্রে ফাজ থেরাপি অবিশ্বাস্য রকমের ফলাফল দেখায়। ব্যাকটেরিয়ার ভেতরে গঠিত নতুন ফাজ রা তাদের লাইটিক চক্রে দুই প্রকার মলিকিউল ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়ার কোষ পর্দা ছিড়তে। একটি হল ট্রান্সমেমব্রেন প্রোটিন holin আর endo lysine নামক হাইড্রোলেজ এনজাইম।

প্রতিটা ফেজ কয়েকপ্রকারের এন্ডোলাইসিন বানায়। সম্প্রতি রকেফেলার ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে যে মেথসিলিন রেসিস্ট্যান্ট MRSA এর বিরুদ্ধে বানানো লাইসিনটি কোড করার জিন হল cysteine-histidine-dependent amido hydrolase/peptidase (CHAPK) । তাই এই লাইসিন ল্যাব এ বানানো গেলে MRSA এর বিরুদ্ধে ফাজের প্রয়োজন নাও হতে পারে বলছেন বিজ্ঞানীরা। এজন্য ফাজ থেকে আলাদা করা এনজাইম কে enzybiotic নামে ঘোষণা করছেন তাঁরা।  ২০১৫ তে এক আমেরিকান গবেষণায় এই আলাদা লাইসিন দিয়ে ইঁদুরে মাল্টি ড্রাগ রেসিস্ট্যন্ট A. baumannii আর Streptococcus pneumonia এর সফল পরীক্ষা হয়েছে।

গত বছর এপ্রিলে University of California San Diego School of Medicine এর বিজ্ঞানীরা টম পিটারসন নামের এক সাইকিয়াট্রির প্রফেসরের MDR Acinetobacter baumannii ইনফেকশন সম্পুর্ণ ভাল করেন ফেজ থেরাপি দ্বারা।

২০১৬ তে ক্রান্তীয় অঞ্চল হিসেবে ম্যাক্সিকো আর বাংলাদেশে ১২০ জন বাচ্চার উপর enterotoxogenic E.coli এর জন্য জর্জিয়ায় প্রস্তুতকৃত ফাজ কক্টেল প্রয়োগ করে কোন উল্লেখযোগ্য সমাধান পাওয়া যাইনি। এর কারণ অনুসন্ধানে পাওয়া যায়যে একই ব্যাকটেরিয়া প্রকৃতিগত ভিন্নতার কারণে এক ফাজ দিয়ে আক্রান্ত হয়না। তাই আমাদের দেশের ব্যকটেরিয়ার ক্ষেত্রে করতে আমাদের আবহাওয়াতেই ফাজ থেরাপি দিতে হবে। শীত প্রধান দেশের ফাজ গুলো তাদের আবহাওয়াতেই ফলপ্রসূ হবে।

মজার ব্যাপার হল বিজ্ঞানীরা এই ব্যাপারে এতটা আশাবাদী হবার পরেও food and drug administration (FDA) এখনো ফাজ থেরাপিকে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। এর দুটো কারণ আছে। FDA এমন কিছু স্বীকৃতি দেয় না যা দ্বারা কোন প্যাটেন্ট কোম্পানির অর্থনৈতিক লাভ হবেনা। আর দ্বিতীয় কারণ হল পৃথিবীর প্রত্যেকটা জাতির জন্য প্রি ক্লিনিক্যাল টেস্ট এখনো সম্পন্ন হয়নি এই ফাজ থেরাপিক ক্ষেত্রে।

ফাজ ককটেলের আরেকটা প্রধান সমস্যা সম্প্রতি উঠে এসেছে- এক ব্যাকটেরিয়ার জন্য একটা ককটেল মিক্স দেয়ার ফলে এটা অন্য সাধারণ ব্যকটেরিয়া প্যাথজেনিক হতে পারে। তবে এটার সম্ভাবনা খুবি কম।

অনুসন্ধিৎসু দের মনে আরেকটি প্রশ্ন আসতে পারে। এই এন্টিবায়োটিকের মত ফাজ থেরাপি কি কখনো রেসিস্ট্যান্ট হবে কিনা। উত্তরে বল যায়- হতেও পারে। তবে এই ব্যাকটেরিওফাজরা “যেমন কুকুর তেমন মুগুর” টাইপের মিউটেশনের ফলে শত শত বছর লেগে যাবে রেসিস্ট্যান্ট হতে। আর যদি রেসিস্ট্যান্ট হয়েও যায় অর্থাৎ ফেজ রেসিস্ট্যান্ট সুপারবাগ তৈরি হয় তবেও আরেকটি উপায় আছে। গবেষনায় দেখা গেছে ব্যাকটেরিয়াদের একটা স্বভাব আছে- একদিকে রেসিস্ট্যান্ট বাড়লে অন্য কিছুর জন্য কমবে। যখন ব্যাকটেরিয়ারা ফাজ রেসিস্ট্যান্ট হবে তত দিনে এন্টিবায়োটিক সেন্সিটিভ হয়ে পড়বে নির্ঘাত। হয়ত তখন আবার সাধারণ এমোক্সিসিলিনের দিন আমরা ফিরে পাব। মনে রাখতে হবে যে, এই ফেজ থেরাপি প্রাক এন্টিবায়োটিক যুগের আবিষ্কার যা এখনো পর্যন্ত রেসিস্ট্যান্স বিহীন হয়ে সগর্বে টিকে আছে এবং থাকবে আমাদের শেষ ব্রহ্মাস্ত্র হিসেবে। আমাদের জ্ঞানীগুণী গবেষক, ডাক্তার এবং ফার্মা গুলোকে এই থেরাপির গবেষণায় দেশভিত্তিক লোকাল ইমপ্রুভমেন্টের জন্য এখনি এগিয়ে আসা উচিৎ।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন : মমেকহা পরিচালক

রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন : মমেকহা পরিচালক

প্রিয় ময়মনসিংহ বিভাগবাসী, আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ বছর ২ মাস…

আত্মহত্যা নিয়ে যতকথা!

আত্মহত্যা নিয়ে যতকথা!

সুইসাইড বা আত্মহত্যা হলো নিজেই নিজেকে হত্যা করা।  এটা হলো অস্বাভাবিক চিন্তার…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর