ঢাকা সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৮ আশ্বিন ১৪২৬,    আপডেট ১২ ঘন্টা আগে
আসির মোসাদ্দেক সাকিব

আসির মোসাদ্দেক সাকিব

ডেন্টাল সার্জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:২৪

গালি নিয়ে কিছু কথা

গালি নিয়ে কিছু কথা

গালাগালি আর শপথ নিয়ে মনোবিদ্যার একটা শাখা আছে।এটাকে Maledictology বলে। রেইনহোল্ড আম্যান আর টিমোথি জেই নামের দুই ফিলোসোফার ভাবতো গালাগালি আর শপথ হলো মানবিক স্বভাবের অংশ তাই এই ধারণা থেকে মেলেডিক্টোলজির শুরু। রেইহোল্ড ১৯৯৬ সালে একটা বই বের করে Opus Maledictorum- A Book of Bad Words নামে। ওখানে তিনি লিখেছেন গালাগালি হলো মানসিক প্রশান্তির একটি শারিরীক পদ্ধতি যেভাবে কান্না হলো দুঃখ কমানোর শারীরিক পদ্ধতি।

গালাগালিকে প্রমিত ইংরেজিতে profanity বলে। এর বহু সমার্থক শব্দ আছে অবশ্য। ১৩ শতকের দিকে গালি মানে বুঝাতো ব্লাস্ফেমি বা ধর্মদ্রোহিতা সংক্রান্ত যেকোন কথা। কিন্তু ইংরেজিতে গালি হিসেবে আমদানিকৃত সব শব্দই প্রোটো-জার্মান মূলের। আধুনিক গালাগালির অর্থ পাল্টেগেছে। এখন গালাগালি মানে অধিকাংশ রতিক্রিয়া বা সেক্স নিয়ে এবং বাকি কিছু আছে পায়খানা প্রস্রাব এসব নিয়ে।

সাম্প্রতিক গবেষণা বলে পৃথিবীর ৯০ ভাগ মানুষের দৈনিক উচ্চারিত সমগ্র শব্দের ভেতর জাতি ভেদে ০.৭ থেকে ৩.৪% গালি সংক্রান্ত শব্দ। এটা কিন্তু কম বলে মনে করার উপায় নাই। কারণ আমরা দিনে সমস্ত কথার ভেতরে আমি/আমরা এরকম ফার্স্ট পার্সন ওয়ালা কথা বলি ১%, সেখানে গালি যদি ০.৭% হয় তবে সেটা অনেক বেশিই বলা লাগে। বিভিন্ন সারনী তে দেখা যায় যে ছেলেরা একটু বেশি গালি দেয় মেয়েদের চেয়ে, কেরানীরা একটু বেশি গালি দেয় অফিসারের চেয়ে, কানাডিয়ানরা বেশি দেয় মার্কিনীদের চেয়ে... এরকম অনেক তথ্য।

ইংল্যান্ডের স্টাফোর্ডসায়ারের নিলি ইউনিভার্সিটিতে গালি নিয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়। এই ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক ২০১০ সালে Ig nobel prize পান একটা গবেষণায়। এই ইগ নোবেল প্রাইজ টা পৃথিবীর বিভিন্ন দরকারি কিন্তু হাস্যকর আবিষ্কারের জন্য দেয়া হয়। ঐ গবেষকেরা বলেন যে, গালি দিলে শারিরীক ব্যথা লাঘব হয়। এটা ব্রেন স্কেন করে তাঁরা পেয়েছিলেন। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোলজিস্ট এন্টনিও ডামাশিও বলেন যে, ব্রেনের স্বাভাবিক কথা বলার নিউরন গুলো নষ্ট হয়ে গেলেও গালি দেবার ক্ষমতা মানুষের অটুট থাকে। ব্রেনের ফ্রন্টাল লোব যেখানে আমাদের কথা বলা নিয়ন্ত্রিত হয় সেখানে হওয়া আলঝেইমার্স রোগ আর ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়া এই দুইটা রোগেরই প্রায় লক্ষণ এক কিন্তু এই গালির ক্ষমতা দেখে বাইরে থেকে পার্থক্য করা যায়, আলঝেইমার্স রোগীরা গালি দিতে পারেনা। গবেষক স্টিভেন পিংকার বলেন গালি মানুষ ৫ কারণে দেয়।

abusive মানে ঝগড়া লাগানোর গালি ;

cathartic মানে শারীরিক আঘাত পেলে গালি;

dysphemistic মানে কারো অবর্তমানে তার সম্পর্কে খারাপ বোঝানোর জন্য গালি; emphatic মানে অন্যজনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গালি, আর

idiomatic মানে উদ্দেশ্যহীন ভাবে মজা করে বন্ধু বা ক্লোজ কাউকে দেয়া গালি।

বিভিন্ন উন্নত দেশে গালির জন্য আলাদা আইন জারি করা আছে, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও আমেরিকাতে বিভিন্ন আইন আছে গালির জন্য। গালি দেয়া নিষেধ হলেও গালিকে একটু চেঞ্জ করে দেয়া কিন্তু অনেক দেশের আদালতেও বৈধ। এরকম পরিবর্তিত গালিকে minced oath বলে। সর্বোপরি বলা দরকার যে গালি ভালো কোন জিনিস নয়, এটা নিয়ে যতো গবেষণাই হোক না কেন সভ্য সমাজ এটাকে ভালোভাবে নেয় না। তাই পরীক্ষামূলক গালি দিতে গিয়ে কেউ আবার সম্পর্ক নষ্ট করে বসবেন না।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত