ডা. তাইফুর রহমান

ডা. তাইফুর রহমান

কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি

জেনারেল হাসপাতাল, কুমিল্লা।


১৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০১ পিএম

ইভিডেন্স বেসড মেডিসিন

ইভিডেন্স বেসড মেডিসিন

আমি তখন মেডিকেল কলেজে ৫ম বর্ষের ছাত্র। হঠাৎ খেয়াল করলাম চান্দি খালি হয়ে যাচ্ছে। আচড়াইতে গেলেই ঝরাপাতার মত ঝরঝর করে চুল পড়ে যাচ্ছে। ভরা যৌবনের প্রাণবন্ত জীবনে হঠাৎ যেন বিমর্ষতার ঢেউ লাগে। আমার চৌদ্দ গোষ্ঠীর মধ্যে টাক নাই।তাই এটা নিয়ে কখনো চিন্তাও করি নাই। বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। আমার এক চাচা তো অট্টহাসি উপহার দিয়ে বললেন বাবা এটা কোত্থেকে আমদানি করলা?

 

আমি আমাদের মেডিকেল কলেজের চর্মরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্র. বোরহান উদ্দিন স্যারের কাছে গেলাম। স্যার সব শুনে হেসে দিলেন, শোন টাকা লিখতে হলে আগে টাক লিখতে হয়।টাক শুরু হইছে মানে তোমার টাকা হবে।তুমি অনেক বড়লোক হবা।যাও।কোন রিক্সাওয়ালার টাক দেখছো? আমি মরিয়া, স্যার আমার টাকা লাগবো না, টাক ভাল কইরা দ্যান। আমার সিরিয়াসনেস দেখে স্যার নিজের মাথাটা আমার দিকে ঝুকিয়ে দিয়ে বললেন ৫ মিনিট তাকিয়ে থাক তারপর চলে যাও। উত্তেজণায় এতক্ষণ খেয়ালই করি নাই যে স্যারের মাথার পুরোটাই টাক!

 

মন খারাপ নিয়া ঘুরি। কখনো টুপি পড়ি, কখনো ক্যাপ পড়ি। ইন্ডিয়া থেকে উইগ নিয়ে আসলাম। নানান ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু ইউস করতে থাকলাম। এক বোতল শেষ না হতেই বিরক্ত হয়ে অন্য ব্র্যান্ডের আরেক বোতল শুরু করি। কিন্তু ফলাফল শুন্য। মাথায় তেল দেয়া শুরু করলাম। নারিকেল তেল, কালি জিরার তেল, তিব্বত কদুর তেল, সিন্ডেরেলা, নিদ্রাকুসুম আরো কতকি! ফলাফল তথৈবচ।

 

একদিন এক রিক্সায় উঠলাম দেওয়ানহাট যাব। রিক্সা চলছে। হঠাৎ খেয়াল হল রিক্সাওয়ালার মাথায় মস্তবড় টাক। মন বিষন্ন হয়ে গেল।তাহলে কি বড়লোক হওয়াটাও ঝুকির মধ্যে পড়ে গেল?

 

এবার মত ও পথ পাল্টালাম।লালদিঘীতে এক সর্বরোগ বিশেষজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের কাছে গেলাম। ডাক্তার সাহেব আমাকে দেখেই উৎফুল্ল। এটা কোন ব্যাপারই না।দুই ফোটা জিহ্বায় পড়লেই ধান ক্ষেতের মতো লকলকিয়ে উঠবে! আমিও আস্বস্ত। আহা কী আনন্দ আজি আকাশে বাতাসে!

 

ডাক্তার সাহেব আমার চিকিৎসা দিচ্ছেন না। পাশে বসিয়ে চা খাওয়াচ্ছেন আর কোন রোগী ঢুকলেই আমাকে দেখাচ্ছেন, এই যে দেখুন উনি এম.বি.বি.এস ডাক্তার আমার কাছে আসছেন চিকিৎসা নিতে। যাই হোক তিনি চিকিৎসা দিলেন। এতে চুলপড়া কমলো না বাড়লো কিছুই বুঝলাম না।

 

সব চেষ্টা যখন ব্যর্থ হয়ে গেল তখন তন্ত্র-মন্ত্র, কবিরাজি, তাবিজ-কবজ ব্যবহার করতে শুরু করলাম। পাশ করে ঢাকায় চলে গেলাম।উঠলাম পিজি হাসপাতালের হোস্টেলে। শাহবাগের শাহী ধুলা আমাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুললো। সারাদিন ধুলা পরিষ্কার করেও সন্ধ্যায় ধুলার স্তর। যাহোক একদিন মুড়ির টিনে চড়ে সদরঘাট যাচ্ছি। দেখলাম পন্চাশোর্ধ ড্রাইভারের মাথাভর্তি ঝাকরা চুল। ধুলা বালিতে সে চুল ধুসর হয়ে আছে। বুঝলাম ধুলাবালির কারনে চুল পড়ে না। সে নিশ্চয়ই শ্যাম্পুও ব্যবহার করে না। তার মানে শ্যাম্পু ও চুল বাঁচাতে পারে না। মনে পড়ে গেল গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর কথা। তাদের কারো মাথায় টাক নাই। হ্যা, তারা সবাই খাটি বাংলা সাবান ব্যবহার করে।

 

আর যায় কোথায়! সদরঘাট নেমেই কিনে নিলাম একটি আলমের পঁচা সাবান। এতদিনে পেয়ে গেলাম আমার মাথার মহৌষধ, টাকের যম! শুরু হলো পঁচা সাবান থেরাপি।

 

নাহ্। তাতেও কাজ হলো না।বুঝলাম,সাবানের ও কোন
কার্যকারিতা এখানে নেই।

 

এখন আমি আর এগুলো নিয়ে ভাবি না। বরং মিখাইল গরভাচেভ, ভ্লাদিমির পুটিন, জিনেদিন জিদান দের মত বিশ্ব বরেণ্যদের কাতারে নিজের মাথাটা রেখে বড় তৃপ্তি অনুভব করি।

 

চকচক করা বিশাল স্টেডিয়ামটাকেই এখন বড় মায়া লাগে।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না