ঢাকা      মঙ্গলবার ১৮, ডিসেম্বর ২০১৮ - ৪, পৌষ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মাহফুজুর রহমান রাজ

ডেন্টাল সার্জন

রাজশহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে


রক্তের ভিতরেই যখন সুস্থতা

বাচ্চাগুলোর শরীরের রক্তগুলো কিছুদিন পরপরই কে যেন খেয়ে ফেলে। আসলে ওদের শরীরে হিমোগ্লোবিন নষ্ট হয়ে যায়, আর এই হিমোগ্লোবিনই অক্সিজেন কে বহন করে। ফলে শরীরে দেখা যায় অক্সিজেনের সংকট। চোখ মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া অসম্ভব দুর্বলতা যখন গ্রাস করে ফেলে ওদের। নিঃশ্বাস নিতে যখন অক্সিজেন ওরা পায় না,  সে সময় কেমন লাগে, সেই অনুভূতি আমরা বুঝি না।

বাবা-মা সারা শহর ছুটে বেড়ায় এক ব্যাগ রক্তের জন্য। রক্ত তো বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। এই সময়টা বাচ্চাকে যা কিছুই দেন না কেন, টাকা পয়সা, খেলনা কিংবা সুস্বাদু ও লোভনীয় খাবার, কিছুই টানতে পারে না বাচ্চাকে, ভাল লাগে না কোন কিছুই, শুধু অপেক্ষা, বাবা কি রক্ত পেয়েছে? যদি না পায়, সারা রাত বাবা-মা আর নিষ্পাপ শিশুটা জেগে বসে থাকে সকালের অপেক্ষায় আবার খুঁজতে হবে সেই মহামানবকে যে দিবে রক্ত তারপর যখন রক্তের ব্যাগ থেকে চিকন পাইপে নেমে এসে শরীরে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে শিশুটার সুস্থ হয়ে ওঠে। ফ্যকাশে চেহারা স্বাভাবিক হয়ে আসে, রক্ত দেওয়ার পর, জীবনে নেমে আসে রাজ্যের শান্তি।

রক্ত দিতে হয় বিভিন্ন মানুষকে তাদের জীবন বাঁচাতে, কিন্তু এই থ্যলাসেমিয়া আক্রান্ত বাচ্চাদের ক্ষেত্রে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাতে হয় না, এদের সুস্থতার জন্য রক্ত লাগে। এই মহাকাব্য প্রতি মাসে দুইবার তিনবার মঞ্চস্থ হয়। অনেকেই এদেরকে রক্ত দিতে চায় কিন্তু সুচ ফুটানোর ভয় হয়তো আর দেওয়া হয় না। অথচ এই নিস্পাপ শিশুগুলোকে জীবনের প্রতিটা মাসে দুইবার তিনবার সুচ ফোটাতে হয়।

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই থ্যলাসেমিয়া কোনো দিন ভালো হয় না। সুস্থ জীবন-যাপনের জন্য রক্ত নেয়া আর আয়রণ চিলেশন এজেন্ট গ্রহণ এর মাঝে দিয়ে এদের জীবন পার করতে হয়। এটাই এদের চিকিৎসার নামে চলতে থাকে। বিশেষজ্ঞগণ যেটা বলেন যে রক্ত নেবার সময় কিংবা আয়রণ চিলেশন এর সঠিক পরিমাপটা নিয়ে কিছু ভিন্নমত থাকলেও মোটামুটি একই ধরনের চিকিৎসা সবাই দেন।

এই চিকিৎসা দেবার বিষয় নিয়ে গভীর কোন গবেষণা খুব বেশি সাহায্য করতে পারে না এই হতভাগা নিস্পাপ শিশুদের। যাদের বিবেক আছে মনুষ্যত্ব আছে যারা এই শিশুগুলোকে কাছ থেকে দেখেছেন তারা সকলেই বলবেন এই রোগকে ঠেকাতে হবে।

কিছু মানুষ আছে, যারা এই রোগকে ঠেকানোর চিন্তা না করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে গভীরভাবে চিন্তা করতে থাকেন চিকিৎসার নিয়ম নীতি কী হবে। যাদের বিবেক আছে, মানবিক বোধ আছে, সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে, তাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে এই থ্যলাসেমিয়াকে বাংলাদেশ থেকে বিদায় দিতে। গড়ে তুলতে হবে এক সামাজিক আন্দোলন যা মানুষকে সচেতন করবে কেন কিভাবে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর জন্ম হয়। কেন একজন থ্যলাসেমিয়া জিন বাহক সুস্থ জীবন-যাপন করে, স্বাভাবিক মানুষ হিসাবে অথচ এই থ্যালাসেমিয়ার জিন বাহক ভয়ংকর এক কাজ করে বসে, যখন আরেকজন থ্যলাসেমিয়া জিন বাহককে বিয়ে করে, ফলাফল এক নিষ্পাপ থ্যলাসেমিয়া রোগাক্রান্ত শিশুর জন্ম হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন : মমেকহা পরিচালক

রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন : মমেকহা পরিচালক

প্রিয় ময়মনসিংহ বিভাগবাসী, আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ বছর ২ মাস…

আত্মহত্যা নিয়ে যতকথা!

আত্মহত্যা নিয়ে যতকথা!

সুইসাইড বা আত্মহত্যা হলো নিজেই নিজেকে হত্যা করা।  এটা হলো অস্বাভাবিক চিন্তার…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর