ঢাকা      বুধবার ১২, ডিসেম্বর ২০১৮ - ২৮, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. আশরাফুল হক

মেডিকেল অফিসার,

এমআইএস, ডিজিএইচএস


ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা কি রক্ত দিতে পারবেন?

১৯৮০ সাল পর্যন্ত ইনসুলিন তৈরি হত গরু থেকে, এটা নিয়ে অনেক কমপ্লিকেশন তৈরি হয়েছিল তাই ইনসুলিন নেওয়া ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের রক্ত দান করা নিষেধ ছিল।এখন কিন্তু বভাইন বা গরুর থেকে ইনসুলিন তৈরি হয় না তাই সেই সমস্যা মুক্ত হয়েছে। তবুও আমরা আড়ষ্টতায় ভুগি, আসলেই কি দিতে পারবে তারা?

সমগ্র পৃথিবী যে লক্ষ্যে এগিয়েছে তা হল প্রথমে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন এবং দ্বিতীয়ত স্বেচ্ছায় রক্তাদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করা। রক্তদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি করতে গেলে রক্তদাতা বাতিলের তালিকা ছোট করতে হবে তাই বছরের পর বছর গবেষণা হয়েছে। ফলাফল হল এমন কোনও গাইডলাইন দেখানো সম্ভব হবে না যেখানে বলা আছে ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা রক্ত দিতে পারবে না যদি অন্য সমস্যায় না ভোগেন সেই মুহূর্তে (রক্তদান কালে)।

Americal Association of Blood Bank কর্তৃক প্রকাশিত গাইডলাইনকে আদর্শ ধরা হয় বিশ্বব্যাপী, সেখানে স্পষ্ট করে বলা আছে ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা রক্ত দিতে পারবেন যদি তা নিয়ন্ত্রণে থাকে সেটা মুখে খাওয়া ওষুধে হোক বা ইনসুলিন দিয়ে হোক। তাই বিভ্রান্তির সুযোগ নেই আর।

তবে হ্যাঁ, ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা রক্ত দিলে গ্রহীতার সমস্যা হতে পারে, তবে সেটা কখন? যখন গ্রহীতার চাহিদা থাকে WBC, কারণ Neutrofil এর কাজের কিছু সমস্যা থাকে এসব ক্ষেত্রে।

রক্ত দানের উপকারিতা আসলে কী?

অন্যের উপকার হয়, তাতে যে মানসিক শান্তি তাই হল উপকারিতা। কথায় কথায় বলা হয়ে থাকে রক্ত দিতে ডাইয়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। আসলেই কি তাই? ব্যাপারটা আসলে পরোক্ষ। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা তা জানতে আমরা HbA1c দেখে থাকি যা Erythocyte এর নানা অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত তাই Iron deficiency, Severe Kidney Diseases, Hemoglobin variant সহ অবস্থায় এর ভিন্নতা দেখা যায়।

রক্ত দান করলে যে পরিমাণ ভলিউম কমে তা পূরণ হতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে কিন্তু RBC পূরণ হতে সময় লাগে প্রায় ৮ সপ্তাহ। তাই এই অবস্থায় HbA1c পরিক্ষার রেজাল্টে হেরফের হওয়াটা অস্বাভাবিক নয় কারণ তখন পরিণিত RBC এর পরিমাণ কম থাকে স্বাভাবিকের চেয়ে।

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস থেকে আমরা এতটুকু সচেতন হতে পারি যে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের রক্ত দান করা থেকে বিরত করব না। আমরা আল্লাহর রহমতে সুস্থ আছি কিন্তু কারও কারও জীবন নির্ভর করে আরেকজনের দানকৃত রক্তের উপর।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ক্রিপটোমেনোরিয়া মাসিক যেথা লুকিয়ে রয়

ক্রিপটোমেনোরিয়া মাসিক যেথা লুকিয়ে রয়

রামিসা, চৌদ্দ বছরের টলটলে কিশোরী। ক্লাস নাইনে পড়ে। হাত পা বড় হয়ে…

সিজারের পর নরমাল ভেজাইনাল ডেলিভারি সম্ভব কি না?

সিজারের পর নরমাল ভেজাইনাল ডেলিভারি সম্ভব কি না?

আমাদের দেশে অনেকেরই ধারণা একবার সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারি হলে পরবর্তী প্রতিটি প্রেগনেনসিতে সিজার…

স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়

স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়

আগে স্ট্রোকের রোগী মানেই মাথায় আসতো বুড়ো কোন রোগীর মুখ। ।কিন্তু এই…

টার্নার সিনড্রোম কী, উপসর্গ ও চিকিৎসা

টার্নার সিনড্রোম কী, উপসর্গ ও চিকিৎসা

ক্রোমোসোমের সমস্যার জন্য টার্নার সিনড্রোম হয়।  মানুষের শরীরের দেহকোষে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। …

হরমোন থেরাপি এবং ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার

হরমোন থেরাপি এবং ডিম্বাশয়ে ক্যান্সার

৪৫-৫০ বছরের পর মেয়েদের মাসিক চিরতরে বন্ধ হযে যায়। এসময় মহিলারা নানা…

আমি তো মরে গেছি, আমাকে গোরস্তানে রাখো

আমি তো মরে গেছি, আমাকে গোরস্তানে রাখো

আমেনা বেগম, বয়স ৪৬।  কিছু দিন পূর্বে জ্বরে ভুগেন।  ৪-৫ দিন জ্বর…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর