ঢাকা      মঙ্গলবার ২১, মে ২০১৯ - ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


ডায়াবেটিস ও হার্ট অ্যাটাক

ডায়াবেটিস মেলাইটাস হলো রক্তে গ্লুকোজের অধিক উপস্থিতি। ইনসুলিন হরমোন যা প্যানক্রিয়াস থেকে উৎপন্ন হয় এর অভাবে ডায়াবেটিস হয়। ডাক্তাররা ডায়াবেটিসকে বলেন নিঃশব্দ আততায়ী। কারণ,কোন রকম শারীরিক উপসর্গ ছাড়াই একজন মানুষের ভেতর ডায়াবেটিস লুকিয়ে থাকতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে সারা জীবনই এতে ভুগতে হয়।কেননা,এর নির্মূল সম্ভব হয় না।

ডায়াবেটিস রোগটি জটিল হলেও এর চিকিৎসা জটিল নয়।সময়মতো এ রোগের চিকিৎসা না করালে হার্টের অসুখ, স্ট্রোক, কিডনীর অসুখ, চোখের সমস্যা এবং স্নায়ুর বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। কিন্তু প্রথম থেকেই যদি এ রোগের চিকিৎসা করা হয় তবে ডায়াবেটিস নিয়েও একজন মানুষ স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবন-যাপন করতে পারে।

ডায়াবেটিসের সাথে হার্ট অ্যাটাকের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ডাক্তারি ভাষায় হার্ট অ্যাটাককে বলা হয় মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন। হার্ট অ্যাটাকে হৃদপিন্ডের মাংসপেশী সম্পূর্ণ মারা যায় বা অকেজো হয়ে যায়। হার্ট অ্যাটাকের প্রধান উপসর্গ বুকে ব্যথা। তীব্র বুক ব্যথার ছাড়াও মানুষের হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।ডায়াবেটিস রোগীদের মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন অনেক সময় ব্যথা ছাড়া শুরু হয়।যদি কোন ডায়াবেটিস রোগী হঠাৎ করেই অত্যধিক ঘেমে যায় তার যদি শ্বাসকষ্ট হয় অথবা ব্লাড প্রেস্রার কমে যায় তবে ইসিজি করে নিশ্চিত হওয়া উচিত। কারণ হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা শুরু হতে যত দেরী হবে তত বেশী হৃদপিন্ডের ক্ষতি হবে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা অধিক হারে হার্ট অ্যাটাক আক্রান্ত হন। হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান একটি কারণ ডায়াবেটিস। বিভিন্ন কারণে ডায়াবেটিসের রোগীরা হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন। ডায়াবেটিস রোগে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের পরিমান বেশী থাকে এবং ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএল কম থাকে। ফলে কোলেস্টেরল হৃদপিন্ডের নালীতে জমে জমে নালীর ভেতর বন্ধ করে দেয়। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক হয়। আরো দেখা গেছে যাদের রক্তে সুগারের পরিমান বেশী তাদের রক্তের অনুচক্রিকা খুব তাড়াতাড়ি রক্ত জমাট বাঁধাতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের হার্ট অ্যাটাক বেশী হয়।

ডায়াবেটিস রোগীর হার্ট অ্যাটাক খুব বিপদজনক। কারণ প্রায় শতকরা পঁচিশ ভাগ ডায়াবেটিস রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয় ব্যথাহীন। রোগী সহজে বুঝতে পারেনা এবং হঠাৎ মৃত্যু ঘটে। তবে কিছু কিছু উপসর্গ থেকে ব্যথাহীন হার্ট অ্যটাক বোঝা যায়।

ডায়াবেটিস নতুন কোন রোগ নয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের খাদ্য নিয়ন্ত্রন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। যেসব খাবারে সুগার বেশী থাকে তা না খাওয়াই ভালো। গরুর মাংস, খাসির মাংস,ডিমের কুসুম,তেলজাতীয় খাদ্য কম খাওয়া উচিত। মাছের তেল উপকারী সুতরাং তা খাওয়া যাবে। মুরগির মাংস, ডাল, মাছ, সব্জী ও ফলমূল খেলে সমস্যা হবেনা। তবে চিনি, মিষ্টিজাতীয় দ্রব্য, কোমল পানীয়, মদ, চকোলেট, জ্যাম-জেলী ও মধু এড়িয়ে চলা উচিত।

দেখা গেছে যে সমস্ত রোগী নিয়মিত ব্যয়াম করেন তাদের হৃদরোগ কম হয়। প্রতিদিন আধা ঘন্টা দৌড়ালে ভালো ফল পাওয়া যায়। সপ্তাহে অন্ততঃ পাঁচদিন ব্যয়াম করা উচিত। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ভালো কোলেস্টেরল বাড়ে এবং মন্দ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রিত হয়। ডায়াবেটিস রোগী যদি নিয়মিত ব্যয়াম করে তবে তাদের ওষুধের মাত্রাও কমিয়ে আনা যায়। যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করা উচিত। যাদের চল্লিশের বেশী বয়স তাদের নিয়মিত চেক-আপ করানো উচিত। কঠোরভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করলে হার্ট অ্যাটাক বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। দুশ্চিন্তামুক্ত সুন্দর ও সাধারণ জীবন যাপন করা উচিত। এতে হার্ট অ্যাটাকের হাতে মৃত্যু অনেকাংশে কমে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

নাকের এলার্জিতে করণীয়

নাকের এলার্জিতে করণীয়

এলার্জিক রাইনাইটিস অথবা নাকের এলার্জি নাকের একটি এলার্জি জনিত সমস্যা যাতে নাকের…

পরিবারের কারও রক্ত নিলে যে রোগের শংকা!

পরিবারের কারও রক্ত নিলে যে রোগের শংকা!

রক্ত জীবন বাচায়,রক্তেই জীবন যায়।  হ্যাঁ, নিজ পরিবারের (বাবা, মা, সন্তান, ভাইবোন)…

গাউট বা গেঁটেবাত

গাউট বা গেঁটেবাত

আমাদের শরীরে রক্তের মধ্যে ইউরিক এসিড নামে এক প্রকার উপাদান থাকে। এই…

মাথাব্যাথা হলেই মাইগ্রেন নয়

মাথাব্যাথা হলেই মাইগ্রেন নয়

মাথাব্যথা হলেই অনেকে মাইগ্রেন ভেবে নেন। এমন ধারণা আমাদের মধ্যে অনেকেরই আছে।…

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, সম্ভাব্য জটিলতা ও প্রতিকার

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, সম্ভাব্য জটিলতা ও প্রতিকার

গর্ভাবস্থায় যে কোনো সময়ে ডায়াবেটিস শুরু হলে বা প্রথমবারের মত ধরা পড়লে…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর