ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কলামিস্ট, জনস্বাস্থ্য গবেষক।


১২ নভেম্বর, ২০১৮ ০৯:৫৩ পিএম

আপনি কি ইন্টারনেট এডিক্টেড?

আপনি কি ইন্টারনেট এডিক্টেড?

ইদানীং ইন্টারনেট ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে নিজেদের অজান্তেই অনেক সময় কেড়ে নিচ্ছে। ইন্টারনেটে ফেইসবুকিং, গেইমিং, সার্ফিং, শপিং ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনীয় কাজে মগ্ন থেকে আমরা আমাদের প্রয়োজনীয় অনেক কাজই সময় মতো করতে পারছি না। ইন্টারনেট অনেকটা মাদক দ্রব্যের নেশার মতো আমাদের গিলে খাচ্ছে। কমে যাচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মানসম্মত সময় ব্যয়।

 

এসব কারণেই অনেক দেশেই এখন কর্মকালীন সময়ে ফেইসবুকিং, গেমিং, ওড সাইটে সার্ফিং, পর্ন গ্রাফি সার্ফিং নিষিদ্ধ এমন কি ক্ষেত্র বিশেষে শাস্তি যোগ্য বিবেচনা করা হয়। তবে সবাই যে ইন্টারনেট থেকে থেকে এসব অপকর্মে সময় ক্ষেপণ করছেন তা নয়। অনেকে আছেন ভালো কাজে, একাডেমীক রিসার্চ কাজে জড়িত আছেন। আবার অনেক আছেন অনলাইনে পড়াশোনায়, পোগ্রামিং অথবা বিভিন্ন খবরাখবর সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন যা কারো কারো হয়ত পেশা। তাদের কথা আলাদা। তবে তাদের সংখ্যা শতকরা এক ভাগেরও কম।

 

ইদানীং অতিরিক্ত সময় নেট ব্যবহারে অনেকেই বিভিন্ন রকম মানসিক রোগে ভুগছেন। অনেকেই বিভিন্ন রকম সম্পর্কের টানাপোড়েন ভুগছেন। কারো সংসার ভেঙে যাচ্ছে, কেউবা মানসিক নির্যাতনে ভুগছেন। আবার এমনও আছে ফেইসবুকে অপমানের স্বীকার হয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

 

পরিবারের সদস্যদের ইন্টারনেট এ ফেইসবুকিং, গেইমিং, পর্ন সার্ফিং, এক্সট্রামেরিটাল রিলেশনশিপ ইত্যাদি নিয়ে অনেকেই এখন শংকিত। কেউ কেউ ইন্টারনেট এর এমন অবাধ ব্যবহারের বিপক্ষে এখন অবস্থান নিয়েছেন।
 

ইন্টারনেটে এসব ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি প্রনয়ণের জন্যে কেউবা আন্দোলন করে যাচ্ছেন। ইন্টারনেট এ শতকের একটি ভালো উদ্ভাবন হলেও আমরা অনেকেই এর ভালো কাজে ব্যবহার করতে সম্পুর্ণ ব্যর্থ হচ্ছি। এর মুল কারণ আমাদের অসচেতনতা আর সুনির্দিষ্ট আইনের অভাব।

অকাজে আমরা অনেকেই ইন্টারনেটে সময় ক্ষেপন করে অবচেতন মনে মাদকের দ্রব্যে মতো ইন্টারনেট এর প্রতি আসক্তি হয়ে পড়েছি। এটা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে আমরা কি ইন্টারনেটে সত্যিই আসক্ত হয়েছি? যদি তাই হয় তবে এখনই কারো কারো সাইকিয়াট্রিক কাউন্সেলিং এর প্রয়োজন।

একজন নেট ব্যবহারকারী কি করে বুঝবেন যে তিনি ইন্টারনেট এ আশক্ত হয়ে পড়লেন কিনা? এমন কিছু কি পরীক্ষানিরীক্ষা আছে, যা দিয়ে আমরা বুঝতে পারি, অবচেতন মনে ইন্টারনেট এ সত্য সত্যিই মাদকের দ্রব্যের মতো আসক্ত হয়ে গেছি? এ প্রসংগে আমি বলবো, হ্যা আছে।

সাইকিয়াট্রিস্ট ও মনোবিজ্ঞানীগণ দীর্ঘদিন গবেষণা করে ইন্টারনেট আসক্তি নিরুপনের জন্যে আবিষ্কার করেছেন "ইন্টারনেট এডিকশন টেস্ট স্কেল্।" কয়েকটি প্রশ্ন ও তার উত্তর গুলো এনালাইসিস করেই বের করা যায় কেউ ইন্টারনেট এ আসক্ত কিনা? এবং যদি থাকে তবে সেটা কী মাত্রায়?

আসুন এই স্কেলটা দেখে নেই এবং যাচাই করে নেই, আমি বা আপনি কি সত্যিই ইন্টারনেট এ আশক্ত হয়ে গেছি?

প্রশ্ন-১. ইন্টারনেট (ফেইসবুক/গেম) ব্যবহার করাকালীন সময় আপনি সময়জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, অথবা আপনি কি সময় অপচয়ে চমকে উঠেন?

উত্তরঃ

ক. কখনই না
খ. কদাচিৎ
গ. মাঝেমাঝে
ঘ. প্রায়শ
ঙ. প্রায় সময়

 

প্রশ্ন-২. ইন্টারনেটে অধিক সময় ব্যবহারের জন্যে কি আপনি লজ্জিত হন বা আপনি ব্যবহৃত সময় গোপন করার চেষ্টা করেন?

উত্তরঃ
ক. কখনই না
খ. কদাচিৎ
গ. মাঝেমাঝে
ঘ. প্রায়শ
ঙ. প্রায় সময়

 

প্রশ্ন-৩. ইন্টারনেট কম সময় অপচয় রোধ করা কি আপনার জন্যে চ্যালেঞ্জের বা কষ্টের?

উত্তরঃ

ক. কখনই না
খ. কদাচিৎ
গ. মাঝেমাঝে
ঘ. প্রায়শ
ঙ. প্রায় সময়

 

প্রশ্ন-৪. নেটওয়ার্ক না থাকা সত্তেও কি আপনি ইন্টারনেট সার্ফ করতে সময় ব্যয় করেন?

উত্তরঃ
ক. কখনই না
খ. কদাচিৎ
গ. মাঝেমাঝে
ঘ. প্রায়শ
ঙ. প্রায় সময়

 

প্রশ্ন-৫. ইন্টারনেট সার্ফিং ছেড়ে ঘুমাতে যাওয়া কি আপনার জন্যে কঠিন, বা শোয়া থেকে উঠে কি আপনি প্রায়ই ডিভাইসটি চেক করেন?

উত্তরঃ
ক. কখনই না
খ. কদাচিৎ
গ. মাঝেমাঝে
ঘ. প্রায়শ
ঙ. প্রায় সময়

 

প্রশ্ন-৬. ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় কেউ আপনাকে ডাকলে কি বিরক্ত হন?

উত্তরঃ

ক. কখনই না
খ. কদাচিৎ
গ. মাঝেমাঝে
ঘ. প্রায়শ
ঙ. প্রায় সময়

 

প্রশ্ন-৭. দীর্ঘ সময় নেট ব্যবহারের ফলে আপনার ঘাড় ব্যাথা, চোখে ব্যাথা বা মাথা ব্যাথা হয় বা এরকম দৈহিক কোন সমস্যা হয়?

উত্তরঃ

ক. কখনই না
খ. কদাচিৎ
গ. মাঝেমাঝে
ঘ. প্রায়শ
ঙ. প্রায় সময়

 

প্রশ্ন-৮. আপনাকে নিকটজন কেউ কি ইন্টারনেটে সময় অপচয়ের জন্যে সতর্ক করেন?

উত্তরঃ

ক. কখনই না
খ. কদাচিৎ
গ. মাঝেমাঝে
ঘ. প্রায়শ
ঙ. প্রায় সময়

 

প্রশ্ন-৯. স্কুল, অফিস, আদালত, কাজ কর্ম, বিয়ে বা অন্য কোন অনুস্টানে আপনি কি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন যা রীতিমত দৃষ্টিকটু ?

উত্তরঃ

ক. কখনই না
খ. কদাচিৎ
গ. মাঝেমাঝে
ঘ. প্রায়শ
ঙ. প্রায় সময়

 

প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর ক এর জন্যে মান -১ এবং ঙ এর জন্যে মান-৫।
 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না