ঢাকা      শনিবার ২৩, ফেব্রুয়ারী ২০১৯ - ১০, ফাল্গুন, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

মেডিকেল অফিসার, বিসিএস (স্বাস্থ্য)।


পৃথিবীর রহস্যময় বিজ্ঞানী কারা?

পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত অসম্ভব বলে যা কিছু আছে, তার মধ্যে একটি হল কৃত্রিম সোনা বানানো সেই প্রাচীনকাল থেকে যুগে যুগে অনেকেই চেষ্টা করেছে এটি, কিন্তু সবাই ব্যর্থ যারা কৃত্রিম সোনা বানানো নিয়ে গবেষণা করে তাদেরকে আলকেমিস্ট বলা হয়

 

এই আলকেমিস্টরা হল সবচেয়ে রহস্যময় বিজ্ঞানী মানুষ। নিউটন শেষ বয়সে এই আলকেমি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়েই পাগল হয়ে মারা যায়। তার চুলের ভেতর প্রচুর পারদ পাওয়া গিয়েছিল। এটা নিয়ে লিখেছিলাম এক সময়

 

আফ্রিকা মানেই আমরা বুঝি কালো চামড়া আর জঙ্গল। কিন্তু আফ্রিকার দেশগুলো হল পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপর

 

পুরো আফ্রিকা জুড়েই বনে, জঙ্গলে, মরুভুমি, নদীতে অজস্র সোনার খনি রয়েছে, যার বেশিরভাগই আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি, কিংবা করতে দেওয়া হয়নি

 

আর যেগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে, সবগুলোই দখল করে নিয়েছে পশ্চিমা গোল্ড কোম্পানিগুলো। ফলে প্রতিনিয়ত আফ্রিকা থেকে টনের পর টন সোনা উঠছে, আর সবগুলো চলে যাচ্ছে ইউরোপ - আমেরিকায়। এমনকি এমন জায়গা রয়েছে যেখানে পাকা রাস্তা নেই, অথচ এয়ারপোর্ট রয়েছে আর সেখান থেকে বিমান সরাসরি রাতের বেলা চলে যায় বিভিন্ন দেশে

 

প্রাকৃতিকভাবে সোনা সংগ্রহ করা হয় সোনার খনি থেকে। যেসব এলাকার মাটি লাল, সেখানে সাধারণত সোনা পাওয়া যায়। হিসেবে আফ্রিকা সবচেয়ে আদর্শ জায়গা। এখানকার বেশিরভাগ মাটিই লাল

 

তেলের খনির মূল উৎস প্রাচীন ফসিল হলেও সোনার খনির মূল উৎস হল পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগ

 

আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত কিংবা কোন কারণে ভুঅভ্যন্তরের উত্তপ্ত তরল যদি পৃথিবীর উপরিভাগে এসে পরে, তার সাথে সোনাও উঠে আসে

 

এরপর সেটি পাথরের সাথে লক্ষ লক্ষ বছর মিশে থাকে। এই পাথরগুলো একসময় বৃষ্টি বা অন্যান্য পানির সাথে নদীতে যায়। সোনা অপেক্ষাকৃত ভারী ধাতু হওয়াতে সেগুলো নদীর তলানিতে জমা হয়

 

অনেক সময় ভুমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত কিংবা টেকটোনিক প্লেটগুলোর নাড়াচাড়ার ফলে নদীর গতিপথ পাল্টে যায়। ফলে আগে যেখানে নদী ছিল, সেখানে আর নদী থাকে না। কিন্তু নদীতলের সোনাগুলো সেখানেই থেকে যায় যা আমরা পরে সোনার খনি হিসেবে পাই

 

এখান থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত করে সোনা সংগ্রহ করা হয়। আফ্রিকার দেশগুলো বিশেষ করে তানজানিয়া, মালি, আইভোরি কোস্ট তো বলতে গেলে সোনার খনি দিয়ে ভরা

 

কিন্তু সেটা উত্তোলন করা নিয়েই সমস্যা। দেশগুলোর মধ্যে জাতিগত গণ্ডগোল বিদ্রোহ এমভাবে জিইয়ে রয়েছে সবসময় যে এই অস্থিতিশীল পরিবেশে নিজেরা সেগুলো উত্তোলন করার সুযোগ পাচ্ছে না

 

তাছাড়া বেশিরভাগ খনির মালিক পশ্চিমা কোম্পানিগুলো। আর যেগুলোর মালিক সরকার বা বিদ্রোহী বাহিনী, তারাও উত্তোলিত সোনা ভোগ করতে পারে না। তারা যুদ্ধের জন্য পশ্চিমাদের কাছ থেকে অস্ত্র নেয়, আর বিনিময়ে তাদেরকে সোনা দেয়

 

আগেই বলেছি, সোনার মূল উৎস পৃথিবীর ভুঅভ্যন্তর। এখন পর্যন্ত এটা নির্ণয় করা যায় নি ঠিক কত পরিমাণ সোনা সেখানে রয়েছে

 

তবে বিজ্ঞানীরা এটা আন্দাজ করেছেন যে, এই মাটির নিচে অর্থাৎ পৃথিবীর ভুঅভ্যন্তরে যে পরিমাণ সোনা আছে, তা দিয়ে দেড় ফুট পুরু করে পুরো পৃথিবীকে মুড়ে ফেলা যাবে। শুধু সোনা নয়, প্লাটিনামসহ সকল মহামুল্যবান ধাতুও রয়েছে

 

সোনা, প্ল্যাটিনাম, ডায়মন্ড নিয়ে সারা পৃথিবীতে গণ্ডগোল সে সকল মুল্যবান ধাতুগুলো একসময় সব বের হয়ে আসবে, যখন ঠিক কিয়ামতের আগে একটি প্রকান্ড ভুমিকম্প হবে

 

পৃথিবী যখন ভয়াবহ কম্পনে প্রকম্পিত হবে, জমিন যখন তার ভেতরের সবকিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে, তখন মানুষ বলে উঠবেএর কী হলো’? (সূরা জিলজাল)

 

তখন চারিদিকে শুধু সোনা আর সোনা চোখে পড়বে, কিন্তু সেদিকে আর তাকানোর সময় কারো থাকবে না। সকলে ব্যস্ত হয়ে যাবে তার নিজ কর্মফল হিসেব নিয়ে

 

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও স্বাস্থ্যখাতের বড় সমস্যা

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও স্বাস্থ্যখাতের বড় সমস্যা

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে…

যে কথা হয় না বলা

যে কথা হয় না বলা

এক লোক পশ্চাৎদেশে ফোঁড়া নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে চিকিৎসা করাতে গেছে। ফোঁড়া কাটতে…

আমাদের দায়বদ্ধতা আসলে কোথায়?

আমাদের দায়বদ্ধতা আসলে কোথায়?

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ডাস্টবিনে মৃত ভ্রুন এবং ভ্রুনের অংশবিশেষ পাওয়া সংক্রান্ত গতকালের…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর