ঢাকা      বুধবার ১২, ডিসেম্বর ২০১৮ - ২৮, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. মৃণাল সাহা

চিকিৎসক, লেখক ও মেডিসিন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণরত।


‘হে ঈশ্বর এটাই শেষ কেইস, আর ডেলিভারি রোগীর দায়িত্ব নেব না!’

প্রতিবছর রেসিডেন্সির রেজাল্ট দিলে আমি দেখতে চেষ্টা করি কোন ছেলে চান্স পেলো কিনা। বিগত বছরে দুই-একজনের নাম শোনা গেলেও এবার কোন ছেলের নাম পেলাম না। ব্যাপারটা আমার কাছে কেমন যেন লাগে৷ সাবজেক্ট তো সাবজেক্টই, এখানে আবার ছেলে মেয়ে কী?

এত উন্নত হয়ে আমাদের কী লাভ হলো? আমি কখনোই মানতে পারি না গাইনোকলজি মেয়েদের সাবজেক্ট। আমার খুব বিরক্ত লাগে এই সাবজেক্ট নিয়ে কেউ যখন নেগেটিভ কথা বলে। আমার তো মনে হয় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক ছেলে গাইনি পড়তে আসে না শুধুমাত্র সামাজিকতার কারণে। কী অদ্ভুত!

আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের একটা সময় ছিল যখন আমি উপজেলায় চাকরি করতাম। একটা রোগীকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এন্টিনেটাল চেকআপ করে মা ও বাচ্চাসহ বিদায় দেয়ার মাঝে যে একটা তৃপ্তি আছে, সেটা আমি ভীষণ উপভোগ করতাম। এমন অনেক রাত কেটেছে ডেলিভারির রোগী ওয়ার্ডে ভর্তি, টেনশানে আমার ঘুম হচ্ছে না। 

মনে মনে কতবার ওয়াদা করেছি, হে ঈশ্বর এটাই শেষ কেইস, আর ডেলিভারির রোগীর দায়িত্ব নেব না৷ কিন্তু বাচ্চা হবার পরে ব্লিডিং কন্ট্রোল হয়ে গেলে আমাকে আর পায় কে? আমি ঈশ্বরের কাছে করা ওয়াদা বেমালুম ভুলে যেতাম।

যখন আল্ট্রাসনোগ্রাফি শিখলাম তখন আরো মজা পেতে শুরু করলাম, দেখলাম আমি নিজেই রোগী দেখি, আল্ট্রা সিদ্ধান্ত দেই, কনসালটেন্ট ডেকে সিজার করি। আসলেই হয়তো সময়ের প্রয়োজনেই এসব করেছিলাম। ইওসি ট্রেনিং করে কিছু সিজার করতে পারলে হুয়তো আরো স্মৃতি সঞ্জিত হতো। 

আমার এখনো মনে পড়ে, সিজারের পর ওউন্ড ইনফেকশান মেনেজ করার স্মৃতিগুলো। আমার ভেতর অদ্ভুত এক কনফিডেন্স কাজ করতো, আজ অব্দি ওউন্ড ইনফেকশান ম্যানেজ করতে পারি নাই এমন ইতিহাস নেই, ঈশ্বরকে সে জন্যই কৃতজ্ঞতা জানাই।

ভালোবাসা থেকেই যায়, আমার ইন্টার্ন লাইফ, আমার উপজেলায় চাকরি, আমার গাইনোকলজি এন্ড অবসের রোগী নিয়ে স্মৃতি চিরকালই আমাকে আপ্লুত করবে। ভালোবাসাকে ঘরে তুলতে নেই, তাই মেডিসিনের সাথেই ঘর বাঁধলাম। জানি না ভবিষ্যতে কী আছে।

সব গাইনোকলজিস্টদের জন্য আবারও শ্রদ্ধার্ঘ্য। আমি জানি প্রতিটা রাত এখানে কতটা দীর্ঘ, প্রতিটা মুহূর্তে কতটা হৃদস্পন্দন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন!

প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন!

রোগীর মুল সমস্যা, উপরের পেটে ব্যথা, বুকে জ্বালাপোড়া, পিঠে ব্যথা, দুর্বলতা। একটা…

মেয়েটি বেঁচে থাকলে হয়ত আগামীর মার্গারেট থ্যাচার হতো!

মেয়েটি বেঁচে থাকলে হয়ত আগামীর মার্গারেট থ্যাচার হতো!

আমার এসএসসি পাশের যোগ্যতা ছিল না। স্যারদের কথামত-‘‘ও কোন দিন পাশ করতে…

আবেগীয় স্মৃতির গুদামঘর

আবেগীয় স্মৃতির গুদামঘর

ইন স্টিমের উপরে কাঠবাদামের আকারের অঞ্চলটির নাম "এমাগডেলা"। লিম্বিক সিষ্টেমের দুটি অংশ…

অধ্যাপক মনসুর খলিল স্যারকে শেষ দেখা!

অধ্যাপক মনসুর খলিল স্যারকে শেষ দেখা!

আজ থেকে তিন বছর আগে ২০১৫ সনের ডিসেম্বরের ৭ তারিখে আমি বদলী…

সুইসাইড ও পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার

সুইসাইড ও পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার

"স্যার আদাব, অপিসি পয়সনিং, পুলিশ কেইস..." মোবাইলে ইমার্জেন্সী চিকিৎসকের ফোন পেয়ে আউট…

আত্মহনন কোন সমাধান নয়

আত্মহনন কোন সমাধান নয়

এফসিপিএস সেকেন্ড পার্টের জন্য তিন বছর ট্রেনিং লাগে। তিন বছর শুনতে যত…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর