ঢাকা      বুধবার ১২, ডিসেম্বর ২০১৮ - ২৮, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. সাঈদা ইসলাম

চিকিৎসক ও লেখক    


চাতক চাতকী

গাইনী আউটডোরে দেখতাম প্রায়ই রোগী আসে এবরশন করানোর জন্য। কখনও আসে কিভাবে এবরশন করাবে এ বিষয়ক পরামর্শ নিতে। কখনও আসে ফার্মেসীর পরামর্শে নিজেই অর্ধেক কর্ম সেরে ব্লিডিং নিয়ে। যারা পরামর্শ নিতে আসেন তাদের হয়তো বুঝিয়ে শুনিয়ে মাঝে মাঝে মন ফেরানো যায় কিন্তু যারা অর্ধেকখানা কর্ম সেরে আসেন তাদের বেলায় সাহায্যের হাত বলতে ঐ অর্ধেকের বাকী অর্ধেকখানাকে নিরাপদভাবে সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করা। কেউ কেউ তো আসেন একেবারে মরণাপন্ন হয়ে।

উল্টো পিঠে একজন স্বনামধন্য ইনফারটিলিটি স্পেশালিস্টের চেম্বারে কিছুদিন জুনিয়র ডাক্তার হিসেবে কাজ করার ফলে এমন অনেকের দেখা পেয়েছি যারা একটা বাচ্চার আশায় চাতকের মতো আল্লাহ তায়ালার দয়া বর্ষণের অপেক্ষায় আকুল হয়ে থাকেন। ইনফারটিলিটির ট্রিটমেন্ট বেশির ভাগ সময়ই একটি ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রিটমেন্ট (খুব কম সময়ই স্বল্প সময়ের টিট্রমেন্ট সাকসেসফুল হয়)।

একটা প্রাণ নষ্ট করতে লাগে পাঁচ দশ টাকার ‘সা****’ (ওষুধের নামটা লিখলাম না কারণ কেউ কেউ আবার আমার এই লেখাটাকেই প্রেসক্রিপশন হিসেবে চালিয়ে দিতে পারে)। আর একটা প্রাণের স্পন্দনের আকাঙ্খার হিসেবের অংক অনেক সময় কোন কোন বিত্তশালীকেও দুর্ভাবনায় ফেলে। আল্লাহর কী লীলা! যাদের আল্লাহ না চাইতেই দেন তারা পাওয়াটার যথাযথ সম্মান দেয় না। আর যারা পাওয়াটাকে সম্মানিত করতে চায় তাদেরকে হাজার চাওয়ার পরও না দিয়ে আল্লাহ ধৈর্য্য পরীক্ষা করেন।

একজন এবরশন করতে আগ্রহী রোগী যদি কোন বন্ধ্যা দম্পতির আকুতি অনুভব করতে পারতো তবে হয়তো সব গল্পই বাংলা সিনেমার মতো হতো- গর্ভধারিনী মা প্রেগনেন্ট হয়েছে শোনার পর যত বাঁধা-বিপত্তি প্রতিকূলতাই আসুক সবকিছু থেকে গর্ভের সন্তানটিকে আগলে রেখে বাচ্চা ডেলিভারির পর তা ঐ বন্ধ্যা দম্পতির হাতে তুলে দিত। আর কয়েক যুগ পর হয়তো সেই সন্তানই তাকে ফেলে যাওয়া মা-বাবার বিশেষ কোন উপকার করে ঘটনাচক্রে আসল মা বাবাকে ফিরে পেত।

অনেকে বলেন, এখন বাচ্চা নেওয়ার কোন প্ল্যান ছিল না, তাই আরকি। বুকে হাত দিয়ে সত্যি করে বলুন তো আপনার জীবনের সবকিছু সব সময় প্ল্যান মাফিক হয়েছে নাকি? আর হয়ে থাকলে গ্যারান্টি দেন তো সামনেও সবকিছু প্ল্যানমাফিক হবে! 

অনেকে বলেন, সবে মাত্র বিয়ে হলো তাই আসলে এখনই বাচ্চা নিতে চাচ্ছিলাম না। দুজন দুজনকে বুঝতেও তো একটু সময় দরকার। নিতে চান নাই ভাল কথা, সেভাবে তো সতর্ক থাকবেন। ঘটনা ঘটিয়ে হায় হুতাশ করে আরেকটা জীবন নষ্ট করার অধিকার আল্লাহ তো কাউকে দেন নাই। 

কেউ কেউ নষ্টামির নোংরা স্রোতে গা ভাসাতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনে, তাদের বলি নষ্টামি করার সময় একটু খেয়াল করলে পাপের উপর পাপ করা লাগে না। এক পাপ দিয়ে আরেক পাপকে না ডাকলে কি চুলকায় নাকি? 

আবার অনেকে বলেন- অভাবের সংসার, এত বাচ্চা! রিযিকের ভয়ে যে নিজের সন্তান হত্যা করে তার আবাসস্হল জাহান্নাম স্পষ্ট হাদীস। নড়ন চড়ন নাই গো বইন।

ইনফারটিলিটির একজন রোগীই কেবল বুঝে একজন এবরশনে আগ্রহী রোগী আল্লাহর দানকৃত কত বড় নিয়ামত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেকে বঞ্চিত করতে চাইছে। বাকি অনেকও বুঝে বাট ঐ চাতক-চাতকীর মতো না।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন!

প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন!

রোগীর মুল সমস্যা, উপরের পেটে ব্যথা, বুকে জ্বালাপোড়া, পিঠে ব্যথা, দুর্বলতা। একটা…

মেয়েটি বেঁচে থাকলে হয়ত আগামীর মার্গারেট থ্যাচার হতো!

মেয়েটি বেঁচে থাকলে হয়ত আগামীর মার্গারেট থ্যাচার হতো!

আমার এসএসসি পাশের যোগ্যতা ছিল না। স্যারদের কথামত-‘‘ও কোন দিন পাশ করতে…

আবেগীয় স্মৃতির গুদামঘর

আবেগীয় স্মৃতির গুদামঘর

ইন স্টিমের উপরে কাঠবাদামের আকারের অঞ্চলটির নাম "এমাগডেলা"। লিম্বিক সিষ্টেমের দুটি অংশ…

অধ্যাপক মনসুর খলিল স্যারকে শেষ দেখা!

অধ্যাপক মনসুর খলিল স্যারকে শেষ দেখা!

আজ থেকে তিন বছর আগে ২০১৫ সনের ডিসেম্বরের ৭ তারিখে আমি বদলী…

সুইসাইড ও পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার

সুইসাইড ও পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার

"স্যার আদাব, অপিসি পয়সনিং, পুলিশ কেইস..." মোবাইলে ইমার্জেন্সী চিকিৎসকের ফোন পেয়ে আউট…

আত্মহনন কোন সমাধান নয়

আত্মহনন কোন সমাধান নয়

এফসিপিএস সেকেন্ড পার্টের জন্য তিন বছর ট্রেনিং লাগে। তিন বছর শুনতে যত…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর