ঢাকা      বুধবার ২২, মে ২০১৯ - ৮, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ - হিজরী



ডা. সাঈদা ইসলাম

চিকিৎসক ও লেখক    


চাতক চাতকী

গাইনী আউটডোরে দেখতাম প্রায়ই রোগী আসে এবরশন করানোর জন্য। কখনও আসে কিভাবে এবরশন করাবে এ বিষয়ক পরামর্শ নিতে। কখনও আসে ফার্মেসীর পরামর্শে নিজেই অর্ধেক কর্ম সেরে ব্লিডিং নিয়ে। যারা পরামর্শ নিতে আসেন তাদের হয়তো বুঝিয়ে শুনিয়ে মাঝে মাঝে মন ফেরানো যায় কিন্তু যারা অর্ধেকখানা কর্ম সেরে আসেন তাদের বেলায় সাহায্যের হাত বলতে ঐ অর্ধেকের বাকী অর্ধেকখানাকে নিরাপদভাবে সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করা। কেউ কেউ তো আসেন একেবারে মরণাপন্ন হয়ে।

উল্টো পিঠে একজন স্বনামধন্য ইনফারটিলিটি স্পেশালিস্টের চেম্বারে কিছুদিন জুনিয়র ডাক্তার হিসেবে কাজ করার ফলে এমন অনেকের দেখা পেয়েছি যারা একটা বাচ্চার আশায় চাতকের মতো আল্লাহ তায়ালার দয়া বর্ষণের অপেক্ষায় আকুল হয়ে থাকেন। ইনফারটিলিটির ট্রিটমেন্ট বেশির ভাগ সময়ই একটি ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রিটমেন্ট (খুব কম সময়ই স্বল্প সময়ের টিট্রমেন্ট সাকসেসফুল হয়)।

একটা প্রাণ নষ্ট করতে লাগে পাঁচ দশ টাকার ‘সা****’ (ওষুধের নামটা লিখলাম না কারণ কেউ কেউ আবার আমার এই লেখাটাকেই প্রেসক্রিপশন হিসেবে চালিয়ে দিতে পারে)। আর একটা প্রাণের স্পন্দনের আকাঙ্খার হিসেবের অংক অনেক সময় কোন কোন বিত্তশালীকেও দুর্ভাবনায় ফেলে। আল্লাহর কী লীলা! যাদের আল্লাহ না চাইতেই দেন তারা পাওয়াটার যথাযথ সম্মান দেয় না। আর যারা পাওয়াটাকে সম্মানিত করতে চায় তাদেরকে হাজার চাওয়ার পরও না দিয়ে আল্লাহ ধৈর্য্য পরীক্ষা করেন।

একজন এবরশন করতে আগ্রহী রোগী যদি কোন বন্ধ্যা দম্পতির আকুতি অনুভব করতে পারতো তবে হয়তো সব গল্পই বাংলা সিনেমার মতো হতো- গর্ভধারিনী মা প্রেগনেন্ট হয়েছে শোনার পর যত বাঁধা-বিপত্তি প্রতিকূলতাই আসুক সবকিছু থেকে গর্ভের সন্তানটিকে আগলে রেখে বাচ্চা ডেলিভারির পর তা ঐ বন্ধ্যা দম্পতির হাতে তুলে দিত। আর কয়েক যুগ পর হয়তো সেই সন্তানই তাকে ফেলে যাওয়া মা-বাবার বিশেষ কোন উপকার করে ঘটনাচক্রে আসল মা বাবাকে ফিরে পেত।

অনেকে বলেন, এখন বাচ্চা নেওয়ার কোন প্ল্যান ছিল না, তাই আরকি। বুকে হাত দিয়ে সত্যি করে বলুন তো আপনার জীবনের সবকিছু সব সময় প্ল্যান মাফিক হয়েছে নাকি? আর হয়ে থাকলে গ্যারান্টি দেন তো সামনেও সবকিছু প্ল্যানমাফিক হবে! 

অনেকে বলেন, সবে মাত্র বিয়ে হলো তাই আসলে এখনই বাচ্চা নিতে চাচ্ছিলাম না। দুজন দুজনকে বুঝতেও তো একটু সময় দরকার। নিতে চান নাই ভাল কথা, সেভাবে তো সতর্ক থাকবেন। ঘটনা ঘটিয়ে হায় হুতাশ করে আরেকটা জীবন নষ্ট করার অধিকার আল্লাহ তো কাউকে দেন নাই। 

কেউ কেউ নষ্টামির নোংরা স্রোতে গা ভাসাতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনে, তাদের বলি নষ্টামি করার সময় একটু খেয়াল করলে পাপের উপর পাপ করা লাগে না। এক পাপ দিয়ে আরেক পাপকে না ডাকলে কি চুলকায় নাকি? 

আবার অনেকে বলেন- অভাবের সংসার, এত বাচ্চা! রিযিকের ভয়ে যে নিজের সন্তান হত্যা করে তার আবাসস্হল জাহান্নাম স্পষ্ট হাদীস। নড়ন চড়ন নাই গো বইন।

ইনফারটিলিটির একজন রোগীই কেবল বুঝে একজন এবরশনে আগ্রহী রোগী আল্লাহর দানকৃত কত বড় নিয়ামত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেকে বঞ্চিত করতে চাইছে। বাকি অনেকও বুঝে বাট ঐ চাতক-চাতকীর মতো না।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডারদের দাবি, বিপক্ষ মতের যুক্তিখণ্ডন

৩৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডারদের দাবি, বিপক্ষ মতের যুক্তিখণ্ডন

যুক্তি-১ বিপক্ষ মতের কাউকে কাউকে বলতে শোনা যায়, একসঙ্গে এত চিকিৎসক নিয়োগের…

‘প্রধানমন্ত্রীর স্বদিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়োগবঞ্চিত নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা’

‘প্রধানমন্ত্রীর স্বদিচ্ছা সত্ত্বেও নিয়োগবঞ্চিত নন-ক্যাডার চিকিৎসকরা’

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার আগের দুই মেয়াদে আওয়ামী…

নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থল বদল

নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থল বদল

যায় দিন ভাল, আসে দিন খারাপ! জানি না আর কি কি খারাপ…

শিশুদের উচ্চ রক্তচাপঃ এক অবহেলিত অধ্যায়

শিশুদের উচ্চ রক্তচাপঃ এক অবহেলিত অধ্যায়

শিশুদের রক্তচাপ মাপতে গেলেই রোগীর বাবা-মা সবসময়ই যে প্রশ্নটি করেন সেটি হল…

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার বাস্তবতা ও আমার কিছু অভিজ্ঞতা

দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার বাস্তবতা ও আমার কিছু অভিজ্ঞতা

আমার মা ২ সপ্তাহ আগে মারা গেছেন। উনি গত আড়াই বছর ধরে…

চিকিৎসক জীবনের সবচেয়ে মধুর সম্বোধন!

চিকিৎসক জীবনের সবচেয়ে মধুর সম্বোধন!

খবর: ‘দিদি’ বলে সম্বোধন করায় সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) সঞ্চিতা…























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর