ডা. সাঈদা ইসলাম

ডা. সাঈদা ইসলাম

চিকিৎসক ও লেখক    


১২ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:২১ এএম

চাতক চাতকী

চাতক চাতকী

গাইনী আউটডোরে দেখতাম প্রায়ই রোগী আসে এবরশন করানোর জন্য। কখনও আসে কিভাবে এবরশন করাবে এ বিষয়ক পরামর্শ নিতে। কখনও আসে ফার্মেসীর পরামর্শে নিজেই অর্ধেক কর্ম সেরে ব্লিডিং নিয়ে। যারা পরামর্শ নিতে আসেন তাদের হয়তো বুঝিয়ে শুনিয়ে মাঝে মাঝে মন ফেরানো যায় কিন্তু যারা অর্ধেকখানা কর্ম সেরে আসেন তাদের বেলায় সাহায্যের হাত বলতে ঐ অর্ধেকের বাকী অর্ধেকখানাকে নিরাপদভাবে সম্পূর্ণ করতে সাহায্য করা। কেউ কেউ তো আসেন একেবারে মরণাপন্ন হয়ে।

উল্টো পিঠে একজন স্বনামধন্য ইনফারটিলিটি স্পেশালিস্টের চেম্বারে কিছুদিন জুনিয়র ডাক্তার হিসেবে কাজ করার ফলে এমন অনেকের দেখা পেয়েছি যারা একটা বাচ্চার আশায় চাতকের মতো আল্লাহ তায়ালার দয়া বর্ষণের অপেক্ষায় আকুল হয়ে থাকেন। ইনফারটিলিটির ট্রিটমেন্ট বেশির ভাগ সময়ই একটি ব্যয়বহুল ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রিটমেন্ট (খুব কম সময়ই স্বল্প সময়ের টিট্রমেন্ট সাকসেসফুল হয়)।

একটা প্রাণ নষ্ট করতে লাগে পাঁচ দশ টাকার ‘সা****’ (ওষুধের নামটা লিখলাম না কারণ কেউ কেউ আবার আমার এই লেখাটাকেই প্রেসক্রিপশন হিসেবে চালিয়ে দিতে পারে)। আর একটা প্রাণের স্পন্দনের আকাঙ্খার হিসেবের অংক অনেক সময় কোন কোন বিত্তশালীকেও দুর্ভাবনায় ফেলে। আল্লাহর কী লীলা! যাদের আল্লাহ না চাইতেই দেন তারা পাওয়াটার যথাযথ সম্মান দেয় না। আর যারা পাওয়াটাকে সম্মানিত করতে চায় তাদেরকে হাজার চাওয়ার পরও না দিয়ে আল্লাহ ধৈর্য্য পরীক্ষা করেন।

একজন এবরশন করতে আগ্রহী রোগী যদি কোন বন্ধ্যা দম্পতির আকুতি অনুভব করতে পারতো তবে হয়তো সব গল্পই বাংলা সিনেমার মতো হতো- গর্ভধারিনী মা প্রেগনেন্ট হয়েছে শোনার পর যত বাঁধা-বিপত্তি প্রতিকূলতাই আসুক সবকিছু থেকে গর্ভের সন্তানটিকে আগলে রেখে বাচ্চা ডেলিভারির পর তা ঐ বন্ধ্যা দম্পতির হাতে তুলে দিত। আর কয়েক যুগ পর হয়তো সেই সন্তানই তাকে ফেলে যাওয়া মা-বাবার বিশেষ কোন উপকার করে ঘটনাচক্রে আসল মা বাবাকে ফিরে পেত।

অনেকে বলেন, এখন বাচ্চা নেওয়ার কোন প্ল্যান ছিল না, তাই আরকি। বুকে হাত দিয়ে সত্যি করে বলুন তো আপনার জীবনের সবকিছু সব সময় প্ল্যান মাফিক হয়েছে নাকি? আর হয়ে থাকলে গ্যারান্টি দেন তো সামনেও সবকিছু প্ল্যানমাফিক হবে! 

অনেকে বলেন, সবে মাত্র বিয়ে হলো তাই আসলে এখনই বাচ্চা নিতে চাচ্ছিলাম না। দুজন দুজনকে বুঝতেও তো একটু সময় দরকার। নিতে চান নাই ভাল কথা, সেভাবে তো সতর্ক থাকবেন। ঘটনা ঘটিয়ে হায় হুতাশ করে আরেকটা জীবন নষ্ট করার অধিকার আল্লাহ তো কাউকে দেন নাই। 

কেউ কেউ নষ্টামির নোংরা স্রোতে গা ভাসাতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনে, তাদের বলি নষ্টামি করার সময় একটু খেয়াল করলে পাপের উপর পাপ করা লাগে না। এক পাপ দিয়ে আরেক পাপকে না ডাকলে কি চুলকায় নাকি? 

আবার অনেকে বলেন- অভাবের সংসার, এত বাচ্চা! রিযিকের ভয়ে যে নিজের সন্তান হত্যা করে তার আবাসস্হল জাহান্নাম স্পষ্ট হাদীস। নড়ন চড়ন নাই গো বইন।

ইনফারটিলিটির একজন রোগীই কেবল বুঝে একজন এবরশনে আগ্রহী রোগী আল্লাহর দানকৃত কত বড় নিয়ামত গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেকে বঞ্চিত করতে চাইছে। বাকি অনেকও বুঝে বাট ঐ চাতক-চাতকীর মতো না।

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না