ডা. মোঃ এজাজ বারী চৌধুরী

ডা. মোঃ এজাজ বারী চৌধুরী

ডায়াবেটোলজিস্ট এবং হেড অব ডায়াবেটিস সেন্টার

মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল


০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০৩:০২ পিএম
শেষ পর্ব

একজন দ্বিতীয়ার গল্প

একজন দ্বিতীয়ার গল্প

আমার জীবনের শেষ দিন আজ৷ খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম৷ পৃথিবীটা এতো সুন্দর লাগছে কেন আজ? অন্তত তিনজনের সাথে শেষ দেখা করতে হবে আমার৷

মা আমাকে দেখে অবাক হয়ে বললেন, কী হয়েছে তোর? চেহারার কী অবস্থা হয়েছে? এমন শুকিয়ে গেলি কিভাবে?

বললাম, মা ইন্টার্ণীতে কাজের অনেক চাপসব ঠিক হয়ে যাবে৷ তুমি চিন্তা করো না তো!
- দুই মাস আগেও যখন আসলি, তখনো তো ঠিক ছিলি৷ কী এমন কাজ পড়লো এই দু'মাসে?
-  
ওহ মা, তুমি এমন গোয়েন্দাগিরি শুরু করলে কেন? আমি দুপুরেই চলে যাবোসময় বেশি নেই৷ আর আজ আমি তোমায় রান্না করে খাওয়াবো৷
না, তোকে আমি ছাড়ছি না৷ কয়েকদিন আমার সাথে থাকবি... শুধু খাবি আর ঘুমাবি৷
আমার সত্যিই সময় নেই মা৷ তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে হলো, একটু রান্না করে খাওয়াতে ইচ্ছে হলো- তাই চলে আসলাম৷

বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠছিলো বারবার৷ বাড়ির প্রতিটি কোনাই যে আমার শত সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার স্মৃতি দিয়ে মোড়া! যেদিকেই তাকাই, সব স্মৃতিগুলো জীবন্ত হয়ে আমার সামনে দিয়ে ভেসে যাচ্ছিলো৷ বড় অসময়ে বাবা আমাদের একা করে চলে গিয়েছিলেন৷ তারপর থেকে, ছোট বোন আর আমাকে ঘিরে স্বপ্ন নিয়েই বেঁচে আছেন মা৷

বিকেলে গেলাম ছোটবোনের হোস্টেলে৷ সঙ্গে নিলাম সেই শালটা যেটা বাবার দেয়া আমার সবচেয়ে প্রিয় উপহার৷ ইন্ডিয়া থেকে আমার জন্য এনেছিলেন উনি৷ ছোটবোনটা খুব কান্নাকাটি করছিলো ওটা নেবে বলে৷ বাবা বলছিলেন, তুমি তো এখনো ছোট মা৷ বড়ো হলে, এর চেয়েও সুন্দর শাল তোমায় কিনে দেবো৷ বাবা সেই কথা রেখে যেতে পারেননি৷ এটা বোনকে দিয়ে যেতে পারলে, একটু শান্তি নিয়ে মরতে পারবো আমি৷

সজীবকে ডেকেছিলাম ওর প্রিয় রেস্তোরায়৷ আমাকে দেখে সজীবও চমকে গিয়েছিল৷ ধরা গলায়... অনেক কষ্ট করে বললো, এতো ভালোবাসতে কবীর ভাইকে! এরপর অনেকক্ষন নীরবতা৷ বুঝতে পারছিলাম, চোখের জল আটকানোর প্রানপন চেষ্টা করে যাচ্ছে সে৷ তারপর হঠাতই আমার হাত দুটো চেপে ধরে বললো, আমার মনটাকে এবার একটু বোঝার চেষ্টা করো নাবিলা৷ কবীর ভাইয়ের যায়গাটা আমি চাই নাভালোও বাসার দরকার নেই আমায়! শুধু পাশে থাকো সারাটা জীবন! শুধু তোমাকে ভালোবেসে যাবার সুযোগ এবং অধিকারটুকু দাও!

বললাম, তোমার ভাৃলোবাসার প্রতিদানে তোমায় ভালোবাসতে পারিনি... এজন্য আমায় ক্ষমা করে দিও সজীব৷ তবে বিশ্বাস করো, আমি চেষ্টা করেছি৷ কিন্তু মন যে তোমায় বিশেষ যায়গাটা দিতে চায়নি! তোমার ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা ছিলো বলেই, তোমায় ঠকাতেও পারিনি৷ আমি বিশ্বাস করি, ভালোবাসার শেকড় যদি মনের গভীর থেকে না জন্মায় ... তবে সেই ভালবাসা কেবলই আগাছা হিসেবে জীবনকে জড়িয়ে থাকে.... গাছ হয়ে জীবনকে ফলে ফুলে ভরে দিতে পারে না!

পারলে ক্ষমা করে দিও আমায়৷             

॥দুই॥

হোস্টেলে ফিরে গোসল করলাম৷ সুন্দর ড্রেস পরলাম৷ অনেকদিন পর হালকা করে সাজলাম৷ আরেকটু পরেই এক অজানা জগতে পাড়ি জমাবো৷ সবকিছুই করছিলাম শেষ বারের মতো৷ একটা চিরকুট লিখলাম,

‘কবীর, ভালোবাসার যেই বাগানটি তোমার জন্য সাজিয়েছিলাম, সেটা তোমার জন্যই রেখে গেলাম৷ অনেক পরে বুঝেছি, আমি ছিলাম সেই বাগানের শুধুই একটি ফুল... ঝরে পড়াই যার একমাত্র নিয়তি!’

ওষুধের পাতাগুলো হাতে নিয়ে বসে থাকলাম কিছুক্ষণ৷ কেন জানি হাতগুলো আড়ষ্ট হয়ে ছিলো৷ যখন কল্পনা করলাম, কবীর আর পারুলের একসঙ্গে কাটানো সুখের মূহুর্তগুলো... তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা আর প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে উঠলাম আবার! মুঠো ভরা ওষুধগুলো খেয়ে ফেললাম!

চারিদিকটা কেমন আঁধারে ছেয়ে যেতে লাগলো৷ মনে হচ্ছিলো বুকের উপর বিশাল একটা পাথর চেপে বসছে... দম নিতে খুব কষ্ট হচ্ছিলো৷ হঠাৎ সারা জীবনের সব স্মৃতি একসঙ্গে ভীড় জমালো মনের জানালায়৷ দেখলাম, ছোটবেলার বাবার কোলের আদর আর বাবা-মেয়ের রঙ বেরঙের খুনসুঁটি৷ মা অভিমান করে বলতেন, এতো আদর দিয়োনা মেয়েকেএকটু কড়া শাসনের মধ্যে মানুষ করো৷

বাবা বলতেন, 'দিনই বা আর বাঁচবো! মেয়েকে এমন ভালোবাসা দিয়ে যাবোযেন এই পৃথিবীতে ওর আর কখনো ভালোবাসার অভাব না হয়! এই কথা শুনে আমি ভ্যাঁ করে কেঁদে দিতাম ... আর বলতাম, আব্বু তুমি আর কখনো এসব কথা বলবে নাআমিই যেন তোমার আগে মরে যাই! তারপর উল্টো ঘটনা ঘটতো... ভেজা চোঁখে আব্বু আমায় জড়িয়ে ধরতেন আর বলতেন... না মা, আর কখনো এসব কথা বলবে না৷

এরপর আমার ছোটবোন হলো৷ সারা বাড়ি আমরা দৌঁড়াদৌড়ি করে বেড়াতাম৷ খেলনা নিয়ে ঝগড়া বাঁধতো৷ মাঝে মাঝে মারামারিও করতাম৷ পরে রাগ পড়ে গেলে মায়ায় বুকটা হাহাকার করে উঠতো৷ ওকে জড়িয়ে ধরে অনেক অনেক আদর করতাম আর চুমু দিতাম৷ আর বোনটি আমার অবাক বিস্ময়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো!

এরপর দেখলাম, আমাদেরকে শূণ্য করে দিয়ে বাবার হঠাৎ চলে যাওয়া! সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো৷ বাবাকে কবর দিতে নিয়ে যাবার সময়... ছোট বোনটা ছাতা হাতে চিৎকার করে কাঁদছিলো আর বলছিলো... ‘আমার আব্বু ভিজে যাচ্ছে, আমার আব্বু ভিজে যাচ্ছেআমাকে নাও, আমি ছাতা ধরবো!’ গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যেতে যেতে আমি চিৎকার করে বলার চেষ্টা করলাম, কেউ আমাকে বাঁচাও... আমার বোনটার যে আমাকে খুব দরকার!

॥তিন॥

চারিদিকে এতো আলো কেন? উজ্জ্বল সাদা আলো! কোথায় চলে এসেছি আমি? খুব ভয় করতে লাগলো... আবার চোঁখ বুজে ফেললাম৷ কী ঘুম ভাঙলো ম্যাডামের? তা কী কী স্বপ্ন দেখলেন আপনি? দোযখের আগুনের স্বাদ পেয়েছেন, ... নাকি দূর থেকে দেখেই ভয়ে পালিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে এসেছেন?

চোখের ঝাপসা ভাব তখনো পুরোপুরি কাটেনি নাবিলার৷ কয়েকবারের চেষ্টায় ভালোভাবে লোকটাকে দেখতে পেলো৷ শান্ত, সৌম্য, হাস্যোজ্জ্বল এক মাঝবয়সী ভদ্রলোক৷ লম্বা স্লিম শরীরে ধবধবে সাদা এপ্রোনে তাকে দেবদূতের মতোই লাগছে৷

আবার বলে উঠলেন তিনি, নিজের সুখ পেতে যেয়ে... অন্য কারোরটা কেড়ে নিতে নেই৷ এইযে তুমি বিশাল শান্তির ঘুম দিলে- আর তোমাকে জাগানোর জন্য আমাকে সারারাত জেগে কাটাতে হলো! এখন আমি টানা ঘুমাই, আর শাস্তিস্বরূপ তুমি দুরাত জেগে থাকো কেমন?

অনেক কষ্টে আমি বললাম, আমি কোথায়? আর আপনিই বা কে? আমার শরীরে এতো তার লাগানো কেন? উনি বললেন, Good! আমার রাত জাগা স্বার্থক হলো তাহলে৷ আচ্ছা তুমি আরেকটু ঘুমাও৷ আমি পরে এসে সব তোমায় বুঝিয়ে বলবো৷

পরেরবার যখন ঘুম ভাঙলো, তখন সবকিছু মনে পড়লো আমার৷ বুঝলাম, আমাকে বাঁচাতে ICU তে আনা লেগেছিলো৷ কতো বড়ো ভুল করে ফেলেছিলাম আমি... সেটা আর মনেও আনতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না৷ আল্লাহর কাছে বারবার শুকরিয়া জানাচ্ছিলাম, আমাকে আরেকবার সুযোগ দেবার জন্য৷ আর মনে মনে খুঁজছিলাম সেই স্যারকে, যিনি আমাকে বাঁচানোর জন্য এতো কষ্ট করেছেন৷

॥চার॥

আমাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেয়া হলো৷ নার্সকে বললাম, আমি যেই স্যারের অধীনে ভর্তি ছিলাম, উনার সাথে একটু দেখা করতে চাই৷ নার্স বললেন, হিমেল স্যার? উনি তো এই মূহুর্তে খুব ব্যস্ত, একজন বাইক এক্সিডেন্টের পেশেন্ট নিয়ে৷ আপনি ভর্তি হবার কয়েক ঘন্টা পরই ভর্তি হয়েছিলো, কিন্তু এখনো জ্ঞান ফেরেনি৷ কিছুক্ষণ আগে রোগীটি আরো খারাপ হয়ে গেছে... আর স্যার সেখানেই আছেন৷ আমি স্যারের রুম কোথায় জেনে নিয়ে, রুমের বাইরে অপেক্ষা করতে থাকলাম৷

অনেকক্ষণ পর স্যার এলেন৷ চেহারায় কিছুটা বিষন্নতার ছাপ৷ আমাকে দেখেই বললেন, ওহ নাবিলা তুমি এসেছো৷ সরি তোমার সাথে কথা বলার সুযোগ আর হয়ে ওঠেনি৷ আমি বললাম, আপনাকে Thanks জানাতে এসেছি স্যার৷ স্যার বললেন, তুমি ভেতরে এসো...।

দেখো নাবিলা, তুমি একজন ডাক্তার এবং বাবা হারানো পরিবারের বড়ো মেয়ে৷ তোমার বাবার স্বপ্নপূরণ, বড়ো মেয়ে হিসেবে তোমার পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন এবং ডাক্তার হিসেবে হাজারো রোগীর প্রতি দায়িত্বপালন এখনো তোমার বাকী৷ Suicidal attempt কেন নিয়েছিলে, এবার আমাকে বলো৷

সব শুনে হিমেল স্যার হাসতে লাগলেন৷ বললেন, বিয়ের আগে ভালোবাসা হলো রংধনুর মতো... উজ্জ্বল, বর্ণীল এবং হৃদয়হারা৷ কিন্তু আকাশের বুকে এতো সুন্দর রংধনু খুবই ক্ষণস্হায়ী... এটাই প্রকৃতির অদ্ভুত নিয়ম৷ বিয়ের পরের জীবনটাও তেমন৷ তুমি দেখোনা, মেঘে মেঘে যখন যুদ্ধ হয়... তখন শুরু হয় ঝড় এবং বজ্রপাত৷ আর মেঘ মেঘের মিতালীতে তৈরি হয়, রংধনু কিংবা মুগ্ধ করা আকাশ!

আমরা সবাই সুখী হতে চাই, আর আশা করি আমার ভালবাসার মানুষটিরই দায়িত্ব আমাকে সুখী করা৷ আর এই পেতে চেয়েই আমরা আমাদের ভালবাসার মানুষটির ভালবাসাই একসময় হারিয়ে ফেলি৷ অথচ যদি উল্টোটা করা হয়? আমি যদি ভাবি, আমি কেবল আমার ভালবাসার মানুষটিকে সুখী করার জন্যই তার সাথে আমার জীবনটাকে জুড়েছি... তাহলে কিন্তু সেই অধরা সুখ, আপনাতেই আমার কাছে ধরা দেবে!

মানুষের হৃদয়টাকে আল্লাহ এতো সংকীর্ণ করে বানাননি যে, কেবল একজনকেই সে ভালবাসতে পারে৷ মানুষের ভালবাসার ক্ষমতা অসীম৷ তুমি যাকে ভালবেসেছো, সে তোমার জীবনে এজন্যই আসেনি যে, আল্লাহ তার চেয়েও উপযুক্ত কাউকে তোমার জন্য নির্বাচন করে রেখেছেন৷ তুমি কেবল তাকে নিঃস্বার্থভাবে সুখী করার চেষ্টা করে যেয়ো৷ দেখবে এতো সুখী তুমি হবে এবং এতো ভালবাসা তুমি পাবে... যা তুমি কল্পনাও করতে পারবে না৷

আর সব শেষ উপদেশসবসময় প্রকৃতির কাছ থেকে শেখার চেষ্টা করবে৷ আমরা সবাই কিন্তু চাঁদকে পছন্দ করি, ভালোবাসি... তাই না? কিন্তু কখনো কী ভেবে দেখেছো, চাঁদের কোন সঙ্গী নেই! নিঃসীম একাকীত্বের মাঝেও সে অন্যকে পথ দেখায়! অন্যের সুখের জন্য, প্রকৃতিকে জ্যোৎস্না দিয়ে সাজায়! ক্ষয়ে ক্ষয়ে অমাবস্যায় হারিয়ে গেলেও...আবার ফিরে এসে... মিষ্টি হেসে বলে, দেখো, আমি তো হারিনিতুমি হারবে কেন? চাঁদের বুকটা দেখো... কষ্টের কলঙ্কে মলিন! অথচ এই বুকের ভালোবাসার টানে... বিশাল সমুদ্রেও জোয়ার আসে! যে বুকে যতো কষ্ট, না পাওয়ার বেদনা... জোয়ার আনার শক্তি, সে হৃদয়ের ততো বেশি!

॥পাঁচ॥

একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে স্যারের রুম থেকে বের হলাম৷ মায়ের সামনে এসে মাথা তুলে তাকাতে পারছিলাম না৷ ছোটবোনটার কান্না তখনো শেষ হয়নি৷ কাঁদতে কাঁদতেই বললো, আপু সজীব ভাইয়ের খবর কী? আমি অবাক হয়ে বললাম, ওর খবর আমি কিভাবে জানবো? কেন উনি তো তোমার পাশেই ভর্তি ছিলেন৷ তোমার খবর শুনে হাসপাতালে আসার পথে বাইক এক্সিডেন্ট করেন৷ কথাগুলো শুনে, আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনি৷ সারা শরীর থরথর করে কাঁপছিলো, হাত পায়ে কোন শক্তি ছিলো না৷

চোখ দিয়ে অঝোর ধারা ঝরার পর একটু শক্তি ফিরে পেলাম৷ হিমেল স্যারের রুমের দিকে দৌঁড়ে যেতে থাকি আর আল্লাহকে ডাকতে থাকি, আল্লাহ তুমি সজীবকে সুস্থ করে দাও... ওকে ফিরিয়ে দাও!

স্যারের রুমে ঢুকেই স্যারের পায়ের উপর আছড়ে পড়লাম, স্যার আপনি সজীবকে বাঁচান৷ ওর কিছু হলে আমি কোনদিনও নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না... আমাকেও হয়তো মরতে হবে! স্যার বললেন, শান্ত হও নাবিলা৷ আমার সাধ্যমতো আমি চেষ্টা করছি৷ হেলমেট পরা ছিলোনা ওর... severe head injury. এখানে আনার আগেই কোমাতে চলে গিয়েছিলো!

এবার পুরো দৃশ্যটাই যেন আমার সামনে ভেসে উঠলো৷ সজীব তখন ঘুমাচ্ছিলো৷ আমার খবর পেয়ে পড়িমরি করে এসে বাইকে ওঠে... হেলমেটটাও পরার সময় ছিলো না ওর কাছে! তার নাবিলাকে যে বাঁচাতে হবে তার! হয়তো আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে করতে বাইক চালাচ্ছিলো... আল্লাহ! দরকার হলে আমাকে নিয়ে যাও, তবুও নাবিলাকে তুমি ফিরিয়ে দাও!

॥ছয়॥

যে ভালবাসার শেকড় সজীব বেঁচে থাকতে আমার হৃদয়ে জন্মায়নি, ওর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সেটা আমার পুরো হৃদয়টাকেই আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেললো৷ পরম মমতায় ওর হাতদুটো ধরে, ওর কানে কানে ফিসফিস করে প্রতিদিন বলিভালোবাসি সজীব... তোমায় এখন আমি আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি! তোমার এতো বছরের সাধনা সফল হয়েছে দেখো! তোমার নাবিলার সারাটা হৃদয় জুড়ে এখন শুধুই তুমি! চোখ খোলো সজীব! চোখ খোলো! আমি জানি, তুমি চোখ খুলবেই... তুমি ফিরে আসবেই!

দশ বছর পর:

আচ্ছা নাবিলা, তুমি কী সারাজীবনই আমার দুইটা Birthday পালন করবা? বাচ্চারাও তো এখন এনিয়ে হাসাহাসি করেআর আমাকে কী এখন অন্তত মাঝে মধ্যে মোটরসাইকেল চালাতে দেয়া যায় না? আমার ছেলেরই তো মোটরসাইকেল চালানোর বয়স চলে আসলো!

আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে তুমি রোজ মোটরসাইকেল আর হেলমেটটাকে এমন যত্ন করে মুছে রাখো কেন? তার চেয়ে বেঁচে দেই, তোমার পরিশ্রমও কমলো... আবার কিছু টাকাও আসলোকিছু তো বলো!

কিছুক্ষণ শাসনের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে, নাবিলা সজীবকে এক টানে কাছে নিয়ে আসে৷ দুই ঠৌঁটের মিতালীতে রংধনু তৈরি করে! তারপর ফিসফিস করে বলে, ‘এসব তুমি বুঝবে না বুদ্ধু! তোমার জীবন তুমি হারাতে বসেছিলে আমায় ভালোবেসে... আর তোমার জীবন ফিরে পেয়েছো, আমার ভালবাসায়আমি তোমাকে খুব খুব খুব ভালবাসি আমার প্রাণ... আর চিরকাল বাসবো!’

আরও পড়ুন 

►একজন দ্বিতীয়ার গল্প  (১ম পর্ব)

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না