ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


০৯ নভেম্বর, ২০১৮ ১২:০১ পিএম

স্থূলতা এবং স্তন ক্যান্সার 

স্থূলতা এবং স্তন ক্যান্সার 

স্তন ক্যান্সার আমাদের দেশে খুব পরিচিত রোগ। প্রতিবছর অনেকে এই রোগে আক্রান্ত হয় এবং অনেকেই মৃত্যুবরণ করে। স্তন ক্যান্সারের সব কারণ আজো কিন্তু জানা সম্ভব হয়নি। তবে বেশ কিছু ‘রিস্ক ফ্যাক্টর’ জানা সম্ভব হয়েছে। স্থূলতা তার মধ্যে অন্যতম। 

যেসব মহিলার ওজন বেশি তাদের স্তন ক্যান্সার বেশি হয়। বেশির ভাগ মহিলার ক্ষেত্রেই স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ হচ্ছে স্তনে ব্যথাহীন পিন্ড। অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দিতে চান না। অথচ একটু সচেতন হলেই স্তন ক্যান্সার প্রথম দিকে ডায়াগনসিস করা সম্ভব। তাতে সমস্যা অনেক কমে যায়। রোগীর পরিণতিও ভাল হয়। 

স্তন ক্যান্সারের উপসর্গ:
স্তন ক্যান্সারে বিভিন্ন উপসর্গ থাকে। এর মধ্যে আছে- 
১. স্তনের আকার বা আকৃতিতে পরিবর্তন। 
২. স্তনে পিন্ড। 
৩. স্তনের ত্বকের পরিবর্তন। 
৪. স্তনের বোঁটা থেকে তরল পদার্থের নিঃসরণ। 
৫. বগলে গোটা। 
৬. স্তনের বোঁটার পরিবর্তন। 

একেকজনের একেক রকম উপসর্গ হয়। সবার কিন্তু একরকম উপসর্গ হয় না। যাদের পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস আছে এবং হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নিচ্ছেন তাদের অবশ্যই নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করতে হবে। কোন সন্দেহ হলেই পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হবে। চল্লিশ বছরের পরে প্রত্যেক মহিলারই প্রতিবছর ম্যামেগ্রাম করা উচিত। ম্যামোগ্রাম কিন্তু সব স্তন ক্যান্সার নির্ণয় করতে পারে না। তবুও স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ে ম্যামোগ্রাম খুব ভালো পরীক্ষা। 

ওজন বাড়ার সাথে যেহেতু স্তন ক্যান্সারের সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক পাওয়া গেছে তাই যেসব মহিলাদের ওজন বেশি তাদের অবশ্যই সচেতন হতে হবে। তেল চর্বি বর্জন করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। ওজন কমলে শুধু যে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমবে তা নয়, হার্টের অসুখ বা স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে যাবে। 

স্তন ক্যান্সার হলে যে পরিবারের ভোগান্তির শেষ থাকে না। সবারই কম বেশি কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়। তাই সাবধান হতেই হবে। স্থূলতার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। কোনভাবেই ওজন বাড়তে দেয়া যাবে না। স্তন ক্যান্সারের সব কারণ দূর করা না গেলেও একটু সচেতন হলেই স্থূলতা প্রতিরোধ করে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায়। তাই এদিকে সব মেয়েদের দৃষ্টি দেয়া দরকার।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত