০৭ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:৫১ এএম

বাংলার প্রথম নারী চিকিৎসক জোহরা কাজীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলার প্রথম নারী চিকিৎসক জোহরা কাজীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মেডিভয়েস রিপোর্ট:অবিভক্ত বাংলার প্রথম নারী চিকিৎসক অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজীর আজ ১১ তম মৃত্যুবার্ষিকী।  এ উপলক্ষে জোহরা বেগম কাজী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঢাকা ও মাদারীপুরের কালকিনিতে বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী ১৯৩৫ সালে দিল্লির লেডি হার্ডিং মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পরীক্ষায় প্রথম শ্রেনীতে প্রথম স্থান লাভ করেন।  এজন্য তাকে ভাইসরয় পদক দেয়া হয়।

তিনি প্রথমে ইয়োথমাল ওয়েমেন্স(পাবলিক) হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে যোগদেন৷ এরপর বিলাসপুর সরকারি হসপিটালে যোগ দেন৷ পরবর্তীকালে মানুষের সেবার জন্য মহাত্মা গান্ধী নির্মাণ করেন সেবাগ্রাম৷ এই সেবাগ্রামে অবৈতনিকভাবে কাজ করেন জোহরা বেগম কাজী৷ এছাড়াও তিনি ভারতের বিভিন্ন বেসরকারী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ডাক্তার হিসেবে নিরলসভাবে কাজ করেছেন।

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর তিনি ঢাকা চলে আসেনেএবং ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন৷ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় অবসর সময়ে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অনারারি কর্ণেল হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন৷ মিডফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি গাইনোকোলজি বিভাগের প্রধান ও অনারারি প্রফেসর ছিলেন৷ ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় অবসর সময়ে তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অনারারি কর্নেল হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেবার পর বেশ কয়েক বছর হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসাবে চিকিৎ‍সা সেবা প্রদান করেন৷ পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেলে অনারারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন৷

ঢাকা মেডিকেলে দায়িত্ব পালন করার সময় নারী রোগীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত কুসংস্কার তাঁকে আহত করে। তিনি তাঁদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের ভুল ধারণা দূর করতেন। তাঁর কারণে পরবর্তীতে চিকিৎসা শাস্ত্রে এদেশে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়।  দীর্ঘ কর্মময় জীবনের স্বীকৃতি হিসেব তিনি। বিএমএ স্বর্ণ পদক, রোকেয়া পদক ও একুশে পদকে ভূষিত হন।  এই মহিয়সী নারী প্রয়াণ দিবসে মেডিভয়েস পরিবার তার বিদেহী আত্নার মাগফিরাত কামনা করছে।  

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত