ডা. জামান অ্যালেক্স

ডা. জামান অ্যালেক্স

বিসিএস মেডিকেল অফিসার


০৬ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:৩০ এএম

একটি আষাঢ়ে গল্প

একটি আষাঢ়ে গল্প

পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে কুঁই কুঁই করে রোগী গেলেন ডাক্তারের কাছে। সদাশয় সৌম্য দর্শন ডাক্তার জানালেন অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে, অপারেশন লাগবে।

অপারেশন সমাপ্ত হলো। ডাক্তার সাহেব ভাবলেন রোগী পার্টিকে অপারেশন সাকসেসফুল হবার সুখবরটা দেবেন, রোগী পার্টিকে আরেকটু কাউন্সেলিং করবেন। এদেশের ডাক্তাররা রোগীর সাথে কথা বলে না, ভাব ধরে থাকে- এ অপবাদ মেনে নেয়াটা ঠিক না।

রোগী পার্টির লোক ডাক্তারের রুমে আসলো। ডাক্তার সাহেব পোস্ট অপারেটিভ কাউন্সেলিং করা শুরু করলেন। এক ফাঁকে এটাও বললেন, ‘অ্যাপেনডিক্স, যাকে আমরা অ্যাবডোমিনাল টনসিলও বলি, সেটাকে ঠিকঠাকমত কাটা হয়েছে, অপারেশন সাকসেসফুল।’

পরদিন সকালে হাসপাতালে ঢোকার পর হাসপাতালের স্টাফ জানালেন তার নামে পত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছে। তিনি মুচকি হাসলেন, একটু প্রীতও হলেন। রিপোর্ট হবেইতো, মানুষের উপকার করলে এমন রিপোর্ট কতই তো হয়। Dolce ব্র্যান্ডের পারফিউমটা আজ গায়ে মেখেছিলেন শখ করে দেশের বাইরে গিয়ে কেনা। ফ্রান্সে নাকি এর উচ্চারণ ‘ড্যায়শে’। হাঁটার তালে তালে বাতাসে ভেসে আসা পারফিউমের মিষ্টি মৃদু গন্ধটা নাকে বেশ লাগছে।

রুমে গিয়ে তিনি পত্রিকা খুললেন এবং ভ্যাবাচ্যাকা খেলেন। এসি ঠান্ডা করা রুমে তার কপালে মৃদু ঘাম জমে উঠলো!

রিপোর্টটি এমন- ‘এ কি করলেন চিকিৎসক! অ্যাপেনডিক্সের বদলে কাটলেন টনসিল!’

মোরাল অব দ্য স্টোরি; রোগীর লেভেল বুঝে কাউন্সেলিং করুন, ধরা খাওয়া থেকে বাঁচুন।

[বি.দ্র: আগেই বলেছি আষাঢ়ে গল্প, বাস্তবের সাথে মিলে যাওয়ার কোন কারণ দেখি না, যদি যায় তবে সেটা কাকতালিয় মাত্র...।]

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না