ঢাকা      মঙ্গলবার ১৩, নভেম্বর ২০১৮ - ২৯, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী



মো: গোলাম মোস্তফা

চিকিৎসক ও লেখক


কিডনির পাথর প্রতিরোধের উপায়

প্রবাসী মকবুল, বয়স- ৪০বছর। গত বছর এক লক্ষ টাকা ব্যয় করে দেশের নামকরা ইউরোলজিস্ট দিয়ে Renal stone এর অপারেশন করিয়াছেন! কিন্তু হঠাৎ Pain Loin To Groin, Flanking Pain (কোমর ও পাঁজরে ব্যথা), Fever and Heamaturia জ্বর ও মুত্রের সাথে রক্ত যাচ্ছে, বমি করছে।  পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত আর বলছে ডাক্তার ভাল করে অপারেশন করেনি, তাহলে আবার কেন সমস্যা বা কিডনিতে stone হলো?

বিলিভ ইটস অর নট। আপনি কি বিশ্বাস করেন কিনডির পাথর একবার অপারেশন করার পর আবারও হতে পারে? 
- হ্যাঁ। বাস্তবিকভাবে পুনরায় Renal stone হয়ে থাকে, কেন সঠিক Guide line এর অভাব ও life style এর জন্য।
কথায় আছে, No pain No Gain! তাই কিডনিতে পাথর মানে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে Pain দেখা দিবে।

রেনাল স্টোন গঠনের কারণ:
Infection Cause: 
Proteus, pseudomonas, Klebsiella অর্গানিজম সাধারণত রিকারেন্ট ইউরোনারি ট্রাক ইনফেকশন করে থাকে, এসব অর্গানিজম বেশি মাত্রায় Urea Produce করে, Cause stasis of urine and precipitate stone formation.

Metabolic Cause:
হাইপার প্যারাথাইরেড সাধারণত সিরাম ক্যালসিয়াম লেভেল বৃদ্ধি করে, রেজাল্ট Hypercalcinosis andd Pelvic stones. Gout সাধারণত ইউরিক এসিড লেভেল বাড়িয়ে দেয়, That's can leads multiple uric acid stones.

Decresed Urinary Citrate: 
সাইট্রিক এসিড (৩০০-৯০০ মি.গ্রাম/২৪ ঘন্টায়) Keeps the Urinary PH low. যখন Citric Acids লেভেল কমে যায়, তখন Promotes precipitation of urinary Calcium! Citrate Excretion is under hormonal control.

Dietary Factor:
যখন আমরা খাবারে অতিরিক্ত প্রোটিন সমৃদ্ধি গ্রহণ করি। যেমন- প্রাণীজ লাল মাংস, মাছ, ডিম আহার করে থাকি তখন Aciduria বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। আবার যখন বেশি ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধি খাবার। যেমন- টমোটো, দুগ্ধজাত খাবার, পালংশাক জাতীয় খাবার ইত্যাদি এসব খাবার Calcium oxalate stones তৈরি করতে সহায়তা করে থাকে।

অপরদিকে খাবার তালিকায় যখন ভিটামিন-এ সমৃদ্ধি খাবার হ্রাস পায় বা ঘাটতি থাকে তখন Desquamation of renal epithelium হয়ে Precipitates Calcium anf form stones.

Epitaxy: Growth of one type stone over another type.

Hot Climates Cause: 
increase in concentration of solutes, resulting in precipitation of calcium and formation of calcium oxalatez stones.

Immobilisation: 
paraplegic রোগীদের মূত্রে মাত্রাতিরিক্ত ক্যালসিয়াম Secrete হয়ে থাকে যার ফলে Calcium oxalate stones হতে পারে (They pass skeletons in urine)।

IBD (inflammatory Bowel Disease): Ulcertive colitis, Crohn'S Disease.

Drugs Causes: কিছু ওষুধ দীর্ঘদিন সেবনের ফলে কিডনিতে পাথর হতে পারে। যেমন- 
- Acetazolamide stimulated Renal tubular Acidosis 
- Allopurinol may precipitate xanthine stones
- Thiazide Diuretics result in uric acid stone formation etc.

Others causes: Inadequate urinary Drainage, Randall's plaques etc.

কিডনিতে কী কী ধরণের পাথর হয়ে থাকে?
১. Calcium oxalate stone(80%) (বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়াম অক্সলেট স্টোন হয়ে থাকে, সাধারণত একটা শক্ত পাথর হয়) Plain x-ray KUB- Visualised.

২. Uric acid stone(6%) (ছোট ছোট অনেকগুলো হলুদ বর্ণের হয়ে থাকে, যারা অত্যাধিক Red meat খেয়ে থাকেন, তাদের হওয়ার সম্ভবনা বেশি) Plain x-ray KUB- Stone are Radiolucent.

৩. Phosphate Calculus(8%)! (ট্রিপল ফসফেট! ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, এ্যামনিয়াম) এই ধরণের পাথর Smooth, round আকারের সাদা হলুদ বর্ণের Renal pevis এর হয়ে থাকে, Staghorn Calculus. slowly damages the renal Parenchyma.

৪. Cystine Calculi(2%) (এই ধরণের পাথর সাধারণত যুবতী বয়সের মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে) Plain X-ray KUB- Radio opaqe seen.

৫. Xanthine Calculi (খুবই রেয়ার)

কিডনির পাথর যেসব স্থানে হতে পারে:
- Nephrolithiasis (সাধারণত কিডনিতে অবস্থান করে)
- Ureterolithiasis (ইউরেটারে অবস্থান করে)
- Cystolithiasis (ব্লাডারে অবস্থান করে)
- Renal stone Unilateral or Bilateral (কিডনির পাথর এক পাশে বা উভয় পাশে হতে পারে)

কিডনির পাথর সনাক্তের জন্য কী কী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন হয়?
- Serum Creatinine লেভেল স্বাভাবিক থাকে বা অনেক সময় বেড়েও যেতে পারে!
- Blood Urea (নরমাল বা এ্যাবনরমাল হতে পারে) 
- urine R/M/E রিপোর্টে PH>7 থাকতে পারে, Pus cell বেশি ও ব্লাড যেতে পারে।
- USG -KUB রিপোর্ট: Presence of the stone can be diagnosis. পাথরের সঠিক অবস্থান ও আকার Evaluated.
- রেডিওগ্রাফী: Plain X-ray KUB : 90% renal stones are radio-opaque. তাছাড়াও Enlarged renal shadow দেখা যেতে পারে।
- Ivu (পাথর সঠিক সনাক্তকরণের জন্য Intra venous urography করা হয়ে থাকে। তাছাড়াও প্রয়োজনে CT scan করা যেতে পারে!

যেসব ক্ষেত্রে কিডনিতে পাথর হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে: 
- Dehydration
- Hypercalciuria
- Hypercalcaemia
- Cystinuria
- High Dietary oxalate
- Renal tubular acidosis
- Polycystic kindney Disease 
- Hyperparathyroidism. আরো অন্যান্য রোগেও পাথর হতে পারে।

ম্যানেজমেন্ট:
কিডনির পাথর চিকিৎসা দুই ধরণের রয়েছে।
১. অপারেশন বিহীন চিকিৎসা। 
২. অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা।

Non-operative treatment:
Stone এর size 5mm এর কম হলে বেশি পানি প্রাণ করলে ও তরল খাবার বেশি খেলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মূত্রের সাথে পাথর বের হয়ে যায়।

Medication:
কিছু মেডিসিন মূত্রের সাথে পাথর বেড়িয়ে যেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যেমন-
- Alpha Blockers (Tamsulosin)
- Calcium Cannel Blockers (Nifedipine)

ব্যথা নিরাময়ের জন্য:
- Anti-spasmadic, Tab.Tiemonium methylsulphate 50mg মুখে তিন বেলা ৫ দিন।
- NSAIDs + PPI
যদি UTI থাকে,
- Antibiotics Therapy, 2nd genaration Cephalosporin (Tab.Cefuroxime 500mg) প্রত্যহ দুবেলা ৭ দিন।
- Laser Lithotripsy. (Holminum-YAG laser)

Operative Treatment:
- Endoscopic procedures- Percutaneous Nephrolithotomy.

- Open procedures- Pyelolithotomy, Nephrolithotomy, Extended Pyelolithotomy, Partial Nephrectomy, Nephrectomy.

- Special situations.

জটিলতা:
Renal stone থেকে আরো কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন-
- Calculous hydronephosis
- Calculous Pyonephrosis
- Renal Failure
- Squamous cell Carcinoma etc.

কিডনির পাথর প্রতিরোধের উপায়:
- প্রতিদিন কমপক্ষে তিন লিটার পানি পান করা।
- প্রোটিন সমৃদ্ধি খাবার কম খাওয়া। যেমন- লাল মাংস, মাছ, ডিম জাতীয় খাবার কম খাওয়া।
- অত্যাধিক ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার কম খাওয়া। যেমন- টমোটো, পালং শাক, দুধ বা সুষম খাবার।
- অত্যাধিক ফ্যাট জাতীয় খাবার পরিহার করা।
- অতিরিক্ত লবণ খাওয়া থেকে বিরত থাকা।
- এ্যালকোহল জাতীয় সকল খাবার পরিহার করতে হবে।
- অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে।
- চকলেট জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
- দেহে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
- ডায়াবেটিকস কন্টোল রাখতে হবে।
- পায়খানা ও প্রস্রাব সঠিক সময়ে করতে হবে।
- শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে হবে, ইত্যাদি।

কিডনির পাথর যেন পুনরায় না হয় রোগীকে সঠিক গাইড লাইন করা এবং তাদের রোগ সম্পর্কে সঠিক ভাবে কাউন্সিলিং করা প্রয়োজন। আর একচুয়েলি একটা প্রবাদ আছে, কিডনি রোগীর চিকিৎসা কিডনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ব্যতীত করা মানে টাকা জ্বলে ফেলে দেওয়া! তাই কিডনি রোগীদের আমাদের সকলের উচিত কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞের নিকট রেফারড করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বাহকের সাথে বাহকের বিয়ে হলে কেন শিশুর থ্যালাসেমিয়া রোগ হয়?

বাহকের সাথে বাহকের বিয়ে হলে কেন শিশুর থ্যালাসেমিয়া রোগ হয়?

থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে গেলেই কয়েকটি প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। আমার…

আলেকজান্ডার ডিজিজ

আলেকজান্ডার ডিজিজ

খুব বিরল এক অসুখ। সারা পৃথিবীতে মাত্র ৫০০ এর মত রোগী পাওয়া…

ডোনারিজম ও স্যারোগেসি

ডোনারিজম ও স্যারোগেসি

A child must born in the private darkness of fallopian tube after…

এটি কী রোগ না বিবেক?

এটি কী রোগ না বিবেক?

মিঠু, বয়স- ২৮। ৩ বছর ধরে সমস্যায় ভুগছেন। তার ভাষ্য মতে, অনেক…

মিডলইস্ট সিন্ড্রোম 

মিডলইস্ট সিন্ড্রোম 

বুক ধড়ফড় করে। ঘুমাতে পারি না। হার্ট দ্রুত চলে। মাঝে মাঝে মনে…

থ্যালাসেমিয়ার বাহক কারা?

থ্যালাসেমিয়ার বাহক কারা?

দেশে ১০% মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলেও কেন আমরা এখনও সচেতন হইনি? এর…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর