ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. ছাবিকুন নাহার

ডা. ছাবিকুন নাহার

মেডিকেল অফিসার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


০৪ নভেম্বর, ২০১৮ ১৪:২৩

সর্বনাশা বোধ

সর্বনাশা বোধ

টুকরো টুকরো মুহুর্ত জমা করি, 
একটার সাথে আরেকটি জুড়ে দেই। 
কখনো একটু কোনা বের হয়ে থাকে, 
সুচালো ডগার মতো হুল ফুটিয়ে দেয়। 

দু'ফোটা লহু শুকিয়ে কালচে বর্ণ ধারণ করে। 
সযতনে মুড়ে রাখি, কে আর ক্ষরণ চায় বলো? 
হোক মনে কিংবা বনে, পোড়ায় তো সমান। 
কিছু টুকরায় আবার কমতি থেকে যায় একচুল পরিমাণ। 
সেটাকে জুড়ে দেই বাড়তিটার সাথে।
 
একটা ফ্রেমের জীবন চাই আমার! 
ঠিকঠাক একটা ফ্রেমবন্দী জীবন সাজাতে 
কতটা মুহুর্তের প্রয়োজন হয় তুমি কী জানো পথিক?

তুমি জানো না, জানবেও না কখনো সে আমি জানি। 
ভুল দরজায় কড়া নেড়ে একটা জীবন কেটে গেলো বালিকার। 
অমল রোদ্দুর দেখেছিলাম যে চোখের তারায়, 
সেখানে আজ মরা মাছের চোখের ঘোলাটে আঁধার। 

বাস্তবতার ফলার নিচে অতীতের ভুলচুক কেটে গেছে সেই কবে; 
তবুও রঙিন চশমার কাঁচে বন্দী ফ্রেমের জীবনটা মুছে যায় না বালিকার চোখ থেকে। 
এখন কোথায় পাই সেই পথ, 
আর কোথায় বা আছে সে পথিক?

যার জন্যে বালিকার গোটা বিকেল অপেক্ষায় থাকত, 
পুরোটা শীত ছিল পেলব উষ্ণতার খামবন্দী। 

বসন্তের কথা আর কী বলব! 
শরতের আকাশে থাকত শুভ্র সাদা পাল তোলা নৌকা।
সেখান থেকে ছুঁড়ে দেওয়া থোকা থোকা 
শিউলি আর কাশফুলের রেণুতে আটকে আছে বালিকার মন।
 
অথচ বাস্তবতার ছাঁচে প্রেমের দফারফা, 
প্রেমিক পুরুষটি কেবলই পুরুষ, 
প্রেমের ছিটেফোটাও নেই অবশেষ।
 
বালিকাও আজ রমনীয় বেশ, 
সময়ের ভাঁজে লুকায় সুক্ষ্ম বলিরেখা 
কিন্তু তার বোধ আটকে আছে সর্বনাশা উনিশে। 
কী বিপদ!

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত