ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ১ ঘন্টা আগে
ডা. মোঃ আকতার ইমাম আদন

ডা. মোঃ আকতার ইমাম আদন


বিসিএস (স্বাস্থ্য)
বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ।
মহাখালি, ঢাকা।


২৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৫:২৬

যারা রক্ত দিতে চায় না তাদের কি রক্তের প্রয়োজন হবে না?

যারা রক্ত দিতে চায় না তাদের কি রক্তের প্রয়োজন হবে না?

থ্যালাসেমিয়া এক নীরব ঘাতক। অপাপবিদ্ধ স্বপ্নাতুর কতগুলো হাসিমাখা শিশুদের মুখ। আর তিলে তিলে নীরব যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত কতগুলো উচ্ছাসহীন বাবা মায়ের বিষণ্ণ প্রাণ। কখনও কী ভেবেছি এসব শিশুরা মৃত্যুর মত এক শীতল জান্তব বাস্তবকে জীবনের অনুষঙ্গ বানিয়েছে, যেই অমোঘ সত্যকে পরিণত মানুষগুলোও ভুলে থাকতে চায়।

অথচ চাইলেই কত সহজে এসব ক্লান্ত শিশুদের যুদ্ধটাকে একটু হলেও সহজ করে দিতে পারি। ভেবেছি কী যে বয়সে যে সময়ে প্রাণোচ্ছল হাসিতে চারপাশ ভরিয়ে দিয়ে আলো ছড়ানোর কথা, তখন এসব হতভাগ্য শিশুরা হাসপাতালের শুকনো বিছানায় শুয়ে নরম হাতের শিরার সূচ ফোটানোর জন্য ক্লান্ত হাত বাড়িয়ে দিয়ে থাকে আমাদের কারো রক্তের আশায়!

ভাবার আছে অনেক কিছু....

শিক্ষিত মানুষদের অনীহা আছে তারা রক্ত দিতে চায় না, আবার কিছু কিছু ডাক্তারও আছে তারাও দিতে চায় না। কারো শরীর খারাপ, কারো খারাপ লাগে হাবিজাবি নানা রকম কথা। এই খারাপ শরীর নিয়েই কিন্তু শপিং হচ্ছে- ঢাকার এই প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, এক শপিং সেন্টার থেকে আরেক শপিং সেন্টারে। কিছু বলার ভাষাই খুজে পাই না।

আল্লাহর অশেষ রহমত যে আমাদের নিজের পরিবারে, নিকটাত্মীয়দের কেউ আক্রান্ত নই। আমি চিন্তা করি আজ আমরা যারা রক্ত দিতে চাই না, গড়িমসি করি, আমাদের কেউ এই সিচুয়েশনে পড়লে তাদের কি রক্ত লাগবে না? তখন এই আপনিই ছুটে যাবেন মানুষের দ্বারে দ্বারে তখন এই এক্সকিউজগুলো কিন্তু আপনি মানতে চাইবেন না। নিজেকে দিয়ে ভাবুন, তার জায়গায় আপনাকে ভাবুন, সিদ্ধান্ত নিতে এতটুকু দেরি হবে না।

রক্তদান করা আহামরি কোন ব্যাপার নয় কিন্তু এমন নয় যে রক্ত দিলে আপনার শরীরের ক্ষতি হতো বরং রক্ত দিলে উপকারটা কিন্তু আপনারই বেশি হবে। রক্তদানে আপনি জানতে পারবেন আপনার নিজের রক্তের স্ট্যাটাস।

রক্তদানের উপকারিতা:
নিয়মিত রক্তদানে আপনার হার্ট এটাকের সম্ভবনা ৮৮% এবং স্ট্রোক হবার সুযোগ ৩৩% কমে যায়। এবং আপনার শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমা হবার সম্ভাবনা কমে আসে। এমনকি নিয়মিত রক্তদানে আপনার ক্যান্সার হবার সম্ভবনা কমে আসে। রক্ত দেয়ার সাথে ডোনারের শরীরে নতুন ব্লাড সেল তৈরী হওয়া শুরু হয় এবং সব লোহিত কণিকা দুই এক মাসের মধ্যেই তৈরি হয়ে যায়। এভাবে এই প্রসেস মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

নিয়মিত রক্ত দানে শরীরের ক্যালরি বার্ণ হয়। ৪৫০ মিলি রক্তদানে প্রায় ৬৫০ ক্যলরি বার্ণ হয়, যেটা জীমে গিয়ে আমরা বার্ণ করি। সর্বোপরি রক্তদানে বাড়তি কোন খরচ ছাড়াই একটি প্রাণ বাঁচে, বাঁচে অনেক আশা, বেঁচে যায় কিছু আলো ছড়ানো হাসি আর কিছু উজ্জ্বল চোখ।

পার্টির চেকইনের বদলে রক্তদানের চেক ইন দেন প্লিজ। রক্ত দিচ্ছেন এই ছবিটা পোস্ট করুন। কিছু ইন্সপায়ারেশনাল স্ট্যাটাস দিন। আমাদের অনেক রক্তের প্রয়োজন। অনেকগুলো অবুঝ আর নিষ্পাপ ফুলের মত কিছু শিশুদের বাঁচাতে।

শুধুমাত্র অনীহা আর আমি নিশ্চিত এতটুকু সুইয়ের খোচার জুজুর ভয়ে আমরা অনেকেই রক্ত দিতে চাই না। আমি অশিক্ষিত কিংবা যারা জানে না তাদের কথা বলি না, শিক্ষিত মানুষজন এগিয়ে এলে কত মানুষের কতগুলো শিশুদের প্রাণ রক্ষা হয় ভাবতেও পারি না।

আল্লাহর রহমত যে, আল্লাহর সেরা সৃষ্টিকে বাঁচাতে আপনাকে আল্লাহ সুযোগ করে দিয়েছেন। আপনি যেন উপকার করতে পারেন তার ব্যবস্থা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা নিজেই করে দিয়েছেন। এই সুযোগ আমাদের সক্ষম সবার নেয়া উচিত।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত