ঢাকা      রবিবার ২০, জানুয়ারী ২০১৯ - ৭, মাঘ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. বাহারুল আলম

প্রখ্যাত পেশাজীবী নেতা


‘অধিকার অর্জন করতে হলে আন্দোলনের পথে হাঁটো’

৭ অক্টোবর চিকিৎসক সম্মিলনীতে সরকার প্রধান বুঝিয়ে দিলেন– ‘অধিকার অর্জন করতে হলে আন্দোলনের পথে হাঁটো।’ 

ঘর জামাইয়ের কদর কম, মেধাবী চিকিৎসকরা অনেক বুঝলেও এ কথা অনুধাবন করতে পারেনি। চিকিৎসক সম্মিলনীতে সরকার প্রধানের রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও সমর্থক হয়ে নিজেদের বঞ্চনা ও কষ্টের কথা বলতে গিয়েছিল তারা।

বুকভরা প্রত্যাশা নিয়ে চিকিৎসকরা প্রায় এক যুগ পরে সরকার প্রধানের আঙ্গিনায় বিএমএর ডাকে হাজির হয়েছিল। একেবারেই শূন্য হাতে ফিরে আসতে হবে তারা কখনও ভাবেনি। চিকিৎসকদের যে অংশ আসেনি এবং দাবি মানবে না বলে কটাক্ষ ও কৌতুক করেছিল, সম্মিলনী থেকে ফিরে যাওয়ার পর তারা মুচকি হেসেছে, ভয়ে শব্দ করেনি।

দেরিতে হলেও বিএমএর মহাসচিব অপ্রত্যাশিতভাবে যে সকল বৈষম্য, বঞ্চনা ও নিরাপত্তাহীনতার কথা উপস্থাপন করেছিল– সে সকল দাবির প্রতি উদাসীন থেকে সরকার প্রধান অন্য প্রাসঙ্গিকতায় ও পুনঃনির্বাচিত হওয়ার কথা বলে সম্পূর্ণরূপে বিষয়গুলো এড়িয়ে যান। অথচ ইকোনমিক ক্যাডারকে মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে প্রকাশ্যে কোন দাবি করা লাগেনি। স্ব-প্রণোদিত হয়ে রাষ্ট্র তাদের জনপ্রশাসন ক্যাডারের সমমর্যাদায় উন্নীত ও একীভূত করার সিদ্ধান্ত উপহার দিয়েছে।

সরকার প্রধান চিকিৎসকদের বঞ্চনা ও কষ্ট লাঘবের জন্য তাৎক্ষনিক কিছু সিদ্ধান্ত ঘোষণা দিলে তারা সন্তুষ্টি নিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারত। বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসকদের কর্মস্থল, হাসপাতালে বহির্বিভাগে রোগীর অবস্থান ও আনুষঙ্গিক লোকবলসহ উপকরণের অভাব এতোটাই তীব্র যে জনস্বার্থে সরকার প্রধানের ঘোষণা না আসার কোন কারণ ছিল না।

বাস্তবে রোগী ও চিকিৎসকের বঞ্চনা লাঘব করতে হলে বর্তমান আমলাতন্ত্রের অবস্থান ও সুবিধা ভোগ খর্ব করতে হবে। সরকার প্রধানের ইচ্ছা থাকলেও কার্যকর করা বাস্তব নয়। এ কারণে তিনি মাঝে মধ্যে আত্ম-যন্ত্রণায় উচ্চারণ করেন, ‘তোমরা আন্দোলন করো তাহলে দাবি পূরণ হবে।’

চিকিৎসক সম্মিলনীতে সরকার প্রধান তার বক্তব্যে এ কথা সরাসরি উচ্চারণ না করলেও আন্দোলন বিমুখ চিকিৎসকদের আঁতে ঘা দেওয়ার জন্য বলেছেন, ‘পুনঃনির্বাচিত হলে বিবেচনা করব।’ কেবল আঁতে ঘা নয়, তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন– ‘ঘরজামাই হলে এর চেয়ে বেশি কিছু পাওয়া যায় না।’ চিকিৎসকদের সামনে এখন বড় প্রশ্ন– আন্দোলন না ঘরজামাই কোনটিকে বেছে নেবেন? ‘সাধা লক্ষ্মীর কদর নাই’– এ প্রবাদ মনে হয় চিকিৎসকরা ভুলে গেছে।

রাষ্ট্রের কাছ থেকে অমানবিক আচরণের শিকার হয়ে মানবিকতা রক্ষা করার দায় বহন করলে পরিণতি এরূপ হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ক্যাডার বৈষম্য দূর করুন, সুশাসন আসবে

ক্যাডার বৈষম্য দূর করুন, সুশাসন আসবে

আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর না করে কেবল বেতন বৃদ্ধি ও জনপ্রশাসন ক্যাডারদের নির্দেশ…

স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে কেন এতো হয়রানি?

স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে কেন এতো হয়রানি?

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের রুমগুলোর নানা অব্যবস্থাপনার ছবি নিয়মিত আসে সামাজিক গণমাধ্যমে।…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর