ঢাকা      রবিবার ২০, জানুয়ারী ২০১৯ - ৭, মাঘ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. শামীম আফজাল

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ,

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ


ইন্টার্ন ডাক্তারদের আবার কষ্ট আছে নাকি?

আপনার বেতন কত? ছোটবেলায় শুনেছিলাম এ প্রশ্ন করা নাকি বেয়াদবি! সেই ভয়ে কখনো বাবা কত বেতন পান সেই প্রশ্নটাও করতে পারিনি।

বাবা প্রাইমারি স্কুলের হেড মাস্টার ছিলেন। সেই আমলে কতই বা বেতন পেত মনে মনে একটা ধারণা পুষে রাখতাম।

কিন্তু আজ আমি নিলর্জ্জের মত বলছি, একজন ইন্টার্ন ডাক্তার মাসে ১৫ হাজার টাকা বেতন পান। ১৫ হাজার টাকা বুঝেন? ১ হাজার টাকার পনেরটা নোট। ২৪ ঘন্টা অন ডিউটি, আমরা হয়তো রোস্টার করে সাময়িক কয়েকটা ঘন্টার জন্য রেস্ট পাই। মাঝে মাঝে তো ১৮ ঘন্টাও ডিউটি পড়ে। কারো প্রফেশানের বেতনের হিসেব করবো না, ১৮ ঘন্টা একটা লোক সিএনজি চালালে তার থেকে ভালো ইনকাম হয় মাসে।

এখন একদল লোক হা হা হা, হু হু হু করে হেসে উঠবে, তারপর বলবে তাহলে ভাই আপনি সিএনজি চালান। কারণ এগুলা কীটপতঙ্গ, এরা এসবের মর্ম বুঝবে না। ওরাই মরার সময় ঠিকমত সেবা পায় না। শিক্ষার মর্ম এইদল বুঝবে না ডাক্তার হওয়ার পরও যখন বাবার কাছে টাকা চাইতে হয় তখন নিজেকে আর নিজেই চিনতে পারি না। 

পাস করার পর হাসিমুখে বলেছিলাম, বাবা অমুক মাস থেকে আমাকে টাকা দিও না আর। বাবা হেসে দিলেন, ডাক্তার ছেলেকে আবার টাকা দিতে হবে না নাকি! এই হাসির অর্থ বুঝেন? ডেডিকেশান।

ঠিক এই সময়ে আমার পরিস্থিতি বলি, সামনে বাবার অপারেশান, ৭০-৮০ হাজার টাকা লাগবে। একটা মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির কাছে এক মুহূর্তে ৭০-৮০ হাজার টাকা কম না। বাবা রিটায়ার্ড করেছেন অনেক বছর হলো। বড় ভাই ২০ হাজার টাকা দেবেন। ছোট ভাই ১৫ হাজার টাকা, আমার দিকে তাকালে আমি হেসে দেই, যদিও বাবা-মা কখনো টাকা চায় না, আমার হাসির অর্থ বুঝেন?

কষ্ট বুঝেন? বুঝেন না, ইন্টার্ন ডাক্তারদের আবার কষ্ট আছে নাকি?

এসবের পরও বাবার মাথায় ঘুরতে থাকে কিছু টাকা তো ওর হাতে দিতে হবে। 

১৫ হাজার টাকা হয়তো খুব বেশি না, কিন্তু এই টাকাটাই আমার কাছে এখন লাখ টাকার সমান।

মানুষ বাঁচানোর ইন্টার্ন ডাক্তারের চেয়ে এদেশে পশুপাখি বাঁচানো ইন্টার্ন চিকিৎসকের বেতন বেশি। আমি বৈষম্য তৈরি করি না। 

যে জাতি সময় মত ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন দিতে পারে না, পড়াশোনার অবকাঠামো না দিয়েই মেডিকেল কলেজের একটা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। সে জাতি আবার বড় বড় কথা আর গল্প শুনালে বড়ই বেমানান লাগে।

নিজেদের অবকাঠামো তৈরি না করে যখন আরেকজনের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দেয় তখনি দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ওই বেটা ইন্টার্ন ডাক্তার তুমি কার? সদর হাসপাতালের? নাকি মেডিকেল কলেজের? 

একজন অফিসারের রুমে তার অধীনস্ত কেউ চেয়ার টেবিল নিয়ে বসবে এটা আপনি মানবেন?

ম্যাটসদেরকে ইন্টার্ন ডাক্তারদের রুমে বসতে দেওয়া হয়, থাকার জায়গায় নার্সদের কম্পিউটার রাখার কথা বলা হয়। অফিসার হওয়ার শুরুতেই হোচট খেতে হয়। নিজেদের আলাদা ভুবন বলে কিছু নাই। সমস্যা একটাই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটা চালু হয়নি। 

কাকে কী বলবো? মানিয়ে চলতে হয়, তারপরও নিজের সত্ত্বা, মন আর বিবেক মাঝে মাঝে ঠুকরে দেয়, কিছুই কি করার নাই?

কেউ কি নেই যে এই সমস্যাগুলো সমাধান করবে। আমরা আলাদীন পাই কিন্তু আলাদীনের চেরাগ আর দৈত্য পাই না। এখন বেতনও পাই না। সামান্য কয়টা বেতনের জন্য রাস্তায় নেমে আন্দোলনের মত পরিবেশ করতে সৃষ্টি হয়!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

চার বছর বয়সেই ডিপ্রেশনে আক্রান্ত!

চার বছর বয়সেই ডিপ্রেশনে আক্রান্ত!

ইশরাত জাহান, বয়স বর্তমানে ১৫। তার মা-বাবা থেকে জানা গেল যখন তার…

সরকারী স্বাস্থ্য সেবা এখন জনগণের দোরগোড়ায়

সরকারী স্বাস্থ্য সেবা এখন জনগণের দোরগোড়ায়

আমাদের দেশের জনগনের বড় অংশ বসবাস করেন গ্রামে। সুতরাং গ্রামের মানুষের কথা…

অপারেশনের আগে রোগীর প্রস্তুতি

অপারেশনের আগে রোগীর প্রস্তুতি

অপারেশন লাগবে শুনলে সবারই ভয় বা দুশ্চিন্তা লাগে। কেউই সহজে অপারেশন করতে…

একজন মোকছেদ ভাই ও আমাদের ব্যর্থতা

একজন মোকছেদ ভাই ও আমাদের ব্যর্থতা

২০০১ সাল, ৫৫/১ আরামবাগ- "ঐ পাগলা! উঠ, দশটা বাজে। আর কত্তো ঘুমাবি?" …

গ্যাসের সমস্যা নিয়ে নানা জটিলতা

গ্যাসের সমস্যা নিয়ে নানা জটিলতা

চাচার বয়স পঞ্চাশের মত। সকাল থেকেই বুকে একটু ব্যাথা ছিল, আর বুক…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর