ঢাকা      বুধবার ২০, মার্চ ২০১৯ - ৬, চৈত্র, ১৪২৫ - হিজরী

চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় শিশুরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে

দেশে প্রতিবছর ১২ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্ম নেয়

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বর্তমানে বাংলাদেশে দেড় কোটি থ্যালাসেমিয়ার আক্রান্ত লোকের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু এই রোগে ভুগছে। প্রতিবছর গড়ে প্রায়  ১২ হাজার শিশু এই ঘাতক ব্যাধি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এমনকি এর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এমন  তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি ও হাসপাতাল এবং ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বে থ্যালাসেমিয়ার বাহক সংখ্যা প্রায় ২৫০ মিলিয়ন। এবং প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১ লাখ শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। 

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন,এই রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রতিবছরে জনসংখ্যার বড় একটা অংশ এ রোগে আক্রান্ত হবার কারণে থ্যালাসেমিয়া শিশুরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। তবে ট্রান্সপ্লান্টের মাধ্যমে ৯০ শতাংশ রোগীকে কিউর বা নিরাময় করা সম্ভব।

তারা বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীকে সাত বছরের মধ্যে ট্রান্সপ্লান্ট করে দেয়া উচিত। যত তাড়াতাড়ি করা যায় ততোই ভালো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘাতক ব্যাধি থ্যালাসেমিয়া দুটি প্রধান ধরনের হতে পারে। আলফা থ্যালাসেমিয়া ও বিটা থ্যালাসেমিয়া। সাধারণত আলফা থ্যালাসেমিয়া বিটা থ্যালাসেমিয়া থেকে কম তীব্র। আলফা থ্যালাসেমিয়া বিশিষ্ট রোগের উপসর্গ মৃদু বা মাঝারি হয় অপরদিকে বিটা থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে রোগের তীব্রতা বা প্রকোপ অনেক বেশি। এক-দুই বছরের শিশুর ক্ষেত্রে ঠিকমতো চিকিৎসা না করলে এটি শিশুর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। বিশ্বে বিটা থ্যালাসেমিয়ার চেয়ে আলফা থ্যালাসেমিয়ার প্রাদুর্ভাব বেশি। 

জানা যায়, এ রোগের বেশ কিছু উপসর্গ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দুর্বলতা, অবসাদ অনুভব, অস্বস্তি, মুখ-মণ্ডল ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, গাঢ় রঙের প্রস্রাব হওয়া, ত্বক হলদে হয়ে যাওয়া (জন্ডিস), মুখের হাড়ের বিকৃতি, পেট বাইরের দিকে প্রসারিত হওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া, ধীরগতিতে শারীরিক বৃদ্ধি হৃৎপিণ্ডের সমস্যা, অতিরিক্ত আয়রন, সংক্রমণ, অস্বাভাবিক অস্থি।

চিকিৎসকরা বলেন, থ্যালাসেমিয়া রোগীদের নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়। প্রয়োজনবোধে ওষুধ এবং রক্ত গ্রহণ করতে হয়। তাই এই রোগের চিকিৎসা অনেক ব্যয় বহুল। এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করতে হয়। এই রোগের স্থায়ী চিকিৎসা হচ্ছে ‘বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশন’ যা অত্যন্ত ব্যয় বহুল। এতে বাংলাদেশে খরচ পড়বে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা।

তারা আরও জানান, থ্যালাসেমিয়া রোগটির প্রতিকার করা সম্ভব একমাত্র জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে। এই রোগ সম্পর্কে মানুষের বিস্তারিত ধারণা থাকলে এর পরিপূর্ণ প্রতিকার সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বছরেই স্বাস্থ্য খাতে ৩০ হাজার নিয়োগ

এ বছরেই স্বাস্থ্য খাতে ৩০ হাজার নিয়োগ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চলতি বছরই স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদের বিপরীতে ৩০ হাজার চিকিৎসক,…

বিএসএমএমইউতে ‘হেপাটাইটিস সি’র ওষুধ মিলছে বিনামূল্যে

বিএসএমএমইউতে ‘হেপাটাইটিস সি’র ওষুধ মিলছে বিনামূল্যে

মেডিভয়েস রিপোর্ট: হেপাটাইটিস সি’র চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করছে বঙ্গবন্ধু…

ডা. রাজনকে হত্যার অভিযোগ স্বজনদের

ডা. রাজনকে হত্যার অভিযোগ স্বজনদের

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি…

নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণীতে ৩৬ চিকিৎসককে নিয়োগের সুপারিশ

নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণীতে ৩৬ চিকিৎসককে নিয়োগের সুপারিশ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ৩৭ তম বিসিএসে নন ক্যাডার প্রথম শ্রেণির (৯ম গ্রেড) পদে…

বিএসএমএমইউর সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজন কর্মকার আর নেই

বিএসএমএমইউর সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজন কর্মকার আর নেই

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ওরাল এন্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের…

ডা. রাজন কর্মকারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

ডা. রাজন কর্মকারের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডা. রাজন কর্মকারের ময়নাতদন্ত…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর