ঢাকা      রবিবার ২০, জানুয়ারী ২০১৯ - ৭, মাঘ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. নুসুর আক্তার

মেডিকেল অফিসার 


প্রি মিনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম

আচ্ছা! প্রি মিনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম নিয়ে একটু কথা বলি। প্রায় আশিভাগ মেয়েই এই সিনড্রোম এর সাথে পরিচিত।

মেয়েদের নিয়ে একটা কমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়, খিটখিটে মেজাজের! এখন, কথা হল মেয়েমানুষ কি এমন প্রানী যে তার সারাক্ষণ ই মেজাজ খিটখিটে থাকতে হবে?? হ্যাঁ, মেয়েমানুষ এমনই প্রানী! সৃষ্টিকর্তা নিজেই এমন স্পেশাল ক্রাইটেরিয়া দিয়ে আমাদের পাঠিয়েছেন! এখানে আমাদের কোন হাত নেই! কিন্তু সারাক্ষণ ই কি কারও মেজাজ খিটিমিটি থাকে নাকি??!! নিন্দুকের কথা! তিলকে তাল বানানো  
মেয়ে, তুমি একটু খেয়াল করতো, তোমার কি সারাক্ষণ ই মেজাজ খিটখিটে থাকে? নাকি একটা নির্দিষ্ট সময়ে এমনটা হয়?

অবসাদ, মন খারাপ, কিছু ভাল না লাগা, সবকিছুর উপর বিরক্তি .... এগুলো কমন সিম্পটম। সাথে কারও কারও ঘুম এ সমস্যা হয়, মুখে ব্রন ওঠে, ব্রেস্ট ভারী হয়ে যায়, ব্যাথা করে, কোমরে ,জয়েন্টে ব্যাথা হয়, কারও কারও শরীর কিছুটা ভারী ভারী হয়ে আসে, হাতে পায়ে পানিও আসে অনেকের ... এরকম নানা উপসর্গ।

উপসর্গ গুলো সাধারণত দেখা দেয় মিনস্ট্রুয়েশন শুরুর পাঁচ সাত দশদিন আগে থেকে। মিলিয়ে নিন তো একবার, ঠিক বলেছি কিনা? 

অনেকের ক্ষেত্রেই মুড সুয়িং এর মাত্রাটা সহনীয় পর্যায়ে থাকে তেমন সমস্যা করেনা। এসময় পরিবারের অন্য মানুষ গুলোর উচিৎ তার প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া কিন্তু নিরানব্বই ভাগ পরিবারেই এই সহানুভূতিশীল ব্যাপারখানা দেখা যায়না, সবাই হয়ে পড়ে জাজমেন্টাল যেটা একদম ই অনুচিৎ।

কারও কারও বেলায় হয় মারাত্মক! ডিপ্রেশন, হতাশা এগুলো এতটাই বেশি হয় যে সুইসাইডাল টেনডেনসি পর্যন্ত ও গড়ায়!

কেন হয়? অদ্ভুতভাবে, অনেক গবেষণা করেও এই পিএমএস এর সঠিক কারন আজ পর্যন্ত বের করা সম্ভব হয়নি!! বেশিরভাগ দায়ী করা হয় হরমোন গুলোর পরিমানগত তারতম্য কে। মিনস্ট্রুয়েশন এর আগে পরে শরীরে কিছু হরমোন এর সিক্রেশন কম বেশি হয়,যেটা কিনা গিয়ে নার্ভাস সিস্টেম কে এফেক্ট করে। এছাড়া বংশগত একটা কারণ। কেউ কেউ অতিরিক্ত লবন খাওয়া, এলকোহল, ক্যাফেইন, স্ট্রেস এসবকে দায়ী করে থাকে।

সাধারণত স্ট্রেসবিহীন জীবনযাপন, (সম্ভব??!!), নিয়মিত কিছু হালকা ব্যায়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়া, অতিরিক্ত লবন -এলকোহল -অতিরিক্ত ক্যাফেইন -টেনশন এগুলো এভয়েড করলে কিছুটা উপকার পাওয়া যেতে পারে। 

যাদের খুব বেশি সমস্যা হয়, দৈনন্দিন জীবনযাপন এ এটার ইফেক্ট পড়ে তারা কোনরকম সঙ্কোচ ছাড়াই অবশ্যই গাইনোকলজিস্ট কে দেখাবেন।

অপুর্ব আর নাবিলার ঈদের একটা নাটকে দেখেছিলাম,সেখানে বিয়ের পর অপুর্ব ক্যালেন্ডারে সাতদিন মার্ক করে রাখত এবং ওই সাতদিন সে বউকে কোনভাবেই ঘাঁটাত না, বউ যা বলত তাই হ্যাঁ হ্যাঁ করত। সংসার তো এমনই হওয়া উচিৎ, তাইনা? দুজন দুজনকে বুঝবে, সুখ দুঃখের ভাগী হবে ... 

কাজেই পিএমএস নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই, এটা মেয়েদের স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া! সো চিয়ারাপ!

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

জন্মগত ত্রুটির কিছু কারন ও প্রতিকার

জন্মগত ত্রুটির কিছু কারন ও প্রতিকার

অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন ত্রুটিপূর্ণ বাচ্চা হবার কারন সমুহ কি হতে পারে।…

ওভারিয়ান সিস্টের লক্ষণ ও প্রতিকার

ওভারিয়ান সিস্টের লক্ষণ ও প্রতিকার

ওভারিয়ান সিস্ট খুব পরিচিত অসুখ। অনেক মেয়েই এই সমস্যায় কষ্ট পায়। কিন্তু…

ওমেগা - ৩ ফ্যাটি আ্যসিডের উপকারিতা

ওমেগা - ৩ ফ্যাটি আ্যসিডের উপকারিতা

ওমেগা - ৩ ফ্যাটি আ্যসিড আমাদের দেহ ও মস্তিষ্কের জন্য খুব উপকারী।…

মানসিক রোগের যত্তসব অমানুষিক চিকিৎসা

মানসিক রোগের যত্তসব অমানুষিক চিকিৎসা

প্রায়শই বলতে শোনা যায় দিন দিন নতুন নতুন রোগ দেখা যাচ্ছে। আসলে…

ভেষজ উপাদান সেবনে ক্যান্সার সেরে যায়!

ভেষজ উপাদান সেবনে ক্যান্সার সেরে যায়!

লেবুর পানি, আদাজল, মধু, হলুদ, গ্রিন টি ইত্যাদি নানারকম জিনিস সেবন করলে…

গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা

গর্ভাবস্থায় বুক জ্বালা

গর্ভাবস্থায় মায়ের স্বাস্থ্য শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর অনেক প্রভাব ফেলে। একমাত্র সুস্থ মা…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর