১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০৩:৫৪ পিএম

সরকারি মেডিকেলে ভর্তি ফি নির্ধারণে নৈরাজ্য, শিক্ষার্থীরা বিপাকে

সরকারি মেডিকেলে ভর্তি ফি নির্ধারণে নৈরাজ্য, শিক্ষার্থীরা বিপাকে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ৩৬টি সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা এ মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।  ভর্তি ফি’র বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা না থাকায় একেক মেডিকেল কলেজে ভর্তি ফি নেয়া হচ্ছে একেক রকম।  ফলে সরকারি মেডিকেলে কলেজে চান্স পেয়েও ভর্তিতে বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।  এ নিয়ে এক ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। 

সরকারি মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পাওয়ার পরও ভর্তি ফি বেশি টাকার কারণে অনেক শিক্ষার্থীদের নানা দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা টাকার অভাবে ভর্তি হতেও ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজ থেকেও গরিব ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি ফিয়ের বিষয়ে বিবেচনার সুযোগ নেই। আবার মাইগ্রেশনের পর আগের ভর্তি ফিও ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই। 

এবারের মেডিকেলে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তির সুযোগ পাওয়া অন্তত ১০ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী মেডিভয়েসের কাছে অভিযোগ করে জানিয়েছেন, ভর্তি নিয়ে তাদের ব্যাপক টেনশন করতে হচ্ছে। বিশেষ করে স্বল্প সময়ের নোটিশে এতগুলো টাকা জোগাড় করাও কঠিন। আবার মেডিকেলে ভর্তির জন্য মানুষের কাছে হাত পাতাও লজ্জাজনক।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাদের মনমতো মেডিকেলে প্রথমবার সুযোগ পাবেন না, তারা মাইগ্রেশনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু মাইগ্রেশন করলে দুই জায়গায়ই ভর্তির টাকা দিতে হবে। এ নিয়ে বিশেষ কোনো নীতিমালাও নেই। 

সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের প্রয়াত অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মনসুর খলীল স্যার মাইগ্রেশনে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের আগের স্থানে ভর্তি টাকা ফেরৎ দিতেন।  কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর এই নীতি আর এখানে পালন করা হয় না।

ভর্তি ফিয়ে নৈরাজ্য

চলতি বছরের মেডিকেলে ভর্তিতে কয়েকটি মেডিকেলে দেখা গেছে, বিভিন্ন পার্থক্য।  সবচেয়ে বেশি ভর্তি ফি নেয়া হয়েছে নোয়াখালী ও কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে। আর সবচেয়ে কম ফি ধরেছে রাজধানীর অন্যতম সেরা মেডিকেল বিদ্যাপীঠ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ। নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে ২৫ হাজার টাকা আর সলিমুল্লাহসহ কয়েকটি মেডিকেল কলেজে নেয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ খান মো.আবুল কালাম আজাদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে (ঢাকা মেডিকেলে) ভর্তি ফি বাড়াইনি। আবার কেউ কেউ বেশি নিতে পারে। কিন্তু সরকার থেকে নির্দেশনা রয়েছে প্রয়োজন মতো নিতে পারবে। এজন্যই একেক মেডিকেলে একেক রকম ভর্তি ফি।’

এতে বৈষম্য হয় কি না জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমার মনে হয় না এটা খুব বৈষম্য হয়, তবে অভিন্ন ভর্তি ফি হওয়া দরকার।ভবিষ্যতে এটা নিয়ে একটা নীতিমালা করা যেতে পারে। এ বিষয়ে সরকার ভাবতে পারে।  যেখানে বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি ফি নির্ধারণ করা আছে সেখানে সরকারি মেডিকেলেও নির্ধারণ করা যেতে পারে।’    

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বরিশাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ভাস্কর সাহা মেডিভয়েসকে বলেন, আগে ১৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি ছিল এবার পাঁচ হাজার বাড়িয়ে ১৮ মোট হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’ 

অতিরিক্ত পাঁচ হাজার টাকা কেন বাড়ানো হয়েছে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ ভাস্কর সাহা বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চাঁদার জন্য আসেন। অনেক সময় নিজের পকেট থেকে চাঁদা দিতে হয়। আসলে শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের জন্য একটু বেশি নেয়া। তবে সব মেডিকেল কলেজেই অভিন্ন ভর্তি ফি করা উচিত সরকারের। অভিন্ন ভর্তি ফি হলে সবার জন্যই ভালো হয়।’

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা ও শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আব্দুর রশিদ মেডিভয়েসকে বলেন, ভর্তি ফি নেয়ার বিষয়ে কোন নীতিমালা নেই, তবে মেডিকেল কলেজগুলো নিজেদের মতো করে নিতে পারবে। আর যেসব মেডিকেল কলেজ নতুন তারা এর মধ্যে দিয়ে একটা ফান্ড তৈরি করে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি