১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ১১:৫৮ পিএম

ক্ষুরা রোগের নতুন টিকা উদ্ভাবন!

ক্ষুরা রোগের নতুন টিকা উদ্ভাবন!

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ক্ষুরা রোগের নতুন টিকা উদ্ভাবন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। বিশ্ববিদ্যারয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের গবেষক দল এ টিকা উদ্ভাবন করেছে। ক্ষুরা রোগের নতুন টিকার নাম ‘ট্রাইভ্যালেন্ট’ টিকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের Microbial Genetics & Bioinformatics গবেষণাগারে সঞ্চারণশীল ভাইরাস দ্বারা ক্ষুরা রোগপ্রতিরোধে কার্যকর এ টিকা উদ্ভাবন করেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ উদ্ভাবনের ঘোষণা দেন। উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত ১ অক্টোবর ২০১৮ সালে এ উদ্ভাবনটি ÔImmunogenic agents, their expression and applications, for effective Prophylaxis of foot and mouth disease’ শিরোনামে বাংলাদেশের পেটেন্টস, ডিজাইনস ও ট্রেডমার্কস অধিদফতরে প্যাটেন্টের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং ভারতে প্যাটেন্ট আবেদন দাখিলের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন,প্রাণিসম্পদ বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হলেও কিছু সংক্রামক রোগ যেমন ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাবের কারণে এ খাতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছানো সম্ভব হয়না।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে প্রাণিসম্পদকে রক্ষা করতে ড. আনোয়ার হেসেনের নেতৃত্বে গবেষক দলটি ২০১২-২০১৮ সাল পর্যন্ত সারা দেশব্যাপী ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত গবাদিপশু থেকে নমুনা সংগ্রহ করেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদ্যমান ক্ষুরা রোগের ভাইরাসের তিনটি সেরোটাইপ [O (80-85%), A (10-15%) এবং Asia l (<5%)] শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোহরাব হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইউসুফ আলী মোল্লা ও অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন, প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং টিকা উদ্ভাবন গবেষণা দলের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহান্ত এনডিসি প্রমুখ।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ২০১৭ সালের প্রতিবেদন উল্লেখ করে ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুরা রোগের প্রতি সংবেদনশীল গৃহপালিত প্রাণীর (গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া) সংখ্যা প্রায় ৫৫.১৩ মিলিয়ন। কিন্তু স্থানীয়ভাবে তৈরি এবং আমদানিকৃত টিকাসহ দেশে প্রতিবছর ব্যবহৃত টিকার পরিমাণ ২০ লাখ মাত্রার বেশি নয়।
আনোয়ার আরও বলেন, এমতাবস্থায় বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ক্ষুরা রোগের টিকার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ টিকার জোগানে বিশাল ঘাটতি রয়েছে।
ড. আনোয়ার হোসন বলেন, বাংলাদেশে ব্যবহৃত ক্ষুরা রোগের টিকার কারিগরি ত্রুটি ও টিকার যোগানে বিশাল ঘাটতি বিবেচনা করে একটি কার্যকরী টিকা এবং টেকসই ও দ্রুত টিকা উৎপাদন প্রণালী উদ্ভাবন করাই ছিল এ গবেষণা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য এক্ষেত্রে দীর্ঘ গবেষণায় আমরা সফলতা পেয়েছি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি