ঢাকা শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬,    আপডেট ৪২ মিনিট আগে
আয়েশা আলম প্রান্তী

আয়েশা আলম প্রান্তী

শিক্ষার্থী, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ


১৫ অক্টোবর, ২০১৮ ১৪:১৪

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অর্ণবের সফলতার গল্প 

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হওয়া অর্ণবের সফলতার গল্প 

গল্পটা অর্ণবের। পুরো নাম, ইশমাম সাকিব অর্ণব। আব্দুস সোবহান ও হাবিবুন নাহারের বড় ছেলে অর্ণব ছোট বেলা থেকে স্বপ্ন দেখতেন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার৷ কিন্তু হয়তো সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাটা ছিলো অন্যরকম। আর তাইতো অর্ণব এবারে ২০১৮ সালের মেডিকেল এডমিশন টেস্টে হয়েছে সম্মিলিত মেধায় সারা বাংলাদেশে প্রথম৷ 

প্রায় ৬৮,০০০ ছাত্র ছাত্রীকে পেছনে ফেলে অর্ণবের ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাওয়া ও প্রথম হওয়া এডমিশন টেস্টে। ভর্তি পরীক্ষায় অর্ণবের মার্ক ১০০ এর মধ্যে ৮৭৷ যা এরকম প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য বেশ ভালো নম্বর৷ অর্নব ২০১৬ সালে খুলনার সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে এসএসসি ও ২০১৮ সালে খুলনা সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। দুই পরীক্ষায় তার রেজাল্ট গোল্ডেন এ প্লাস। এসএসসি পরীক্ষাতে খুলনা বোর্ডে নবম হয়েছিলেন এই মেধাবী। 

এইচএসসি শেষ করে শুরু করেন মেডিকেল ভর্তি কোচিং। মূলত ছোট ভাই অর্পন তাকে অনুপ্রাণিত করে চিকিৎসক হতে। স্পেশাল চাইল্ড ছোট ভাইটিকে ভালো রাখতে চান অর্ণব, তাকে যত্ন করতে চান, তার পাশে থাকতে চান৷ একজন চিকিৎসকের জন্য এ কাজটা সবচেয়ে সহজ৷ শুধু নিজের ভাই নয়, অর্ণব চান এমন হাজার হাজার মানুষের দুঃসময়ে, বিপদে পাশে থাকতে। রোগে শোকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। তাইতো সাদা অ্যাপ্রন পরে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেন মেডিকেল কোচিং। কোচিং করেছিলেন ডিএমসি স্কলার ও মেডিকো নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে। অর্ণব কৃতজ্ঞতা জানান এই দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রতি যাদের সাহায্য আর পরিশ্রম পথ চলা সহজ করে তুলেছে এই যাত্রায়।

কিভাবে এই সফলতা অথবা কী করে এত ভালো ফলাফল জানতে চাইলে অর্ণব জানান, ‘মেডিকেলের জন্য এইচএসসির মেইন বইগুলা পড়ার চেষ্টা করেছি দাগিয়ে দাগিয়ে। নিয়মিত রুটিন করে পড়তাম ও যেদিনের পড়া সেদিন পড়ার চেষ্টা করতাম। কোচিংয়ের সাথে তাল মিলিয়ে পড়তাম, তাতে সুবিধাও হতো। তবে প্রতিদিন পড়তাম। কখনো ৩ ঘন্টা পড়েছি, অন্যদিন আবার ১০ ঘন্টা। চেষ্টা করতাম কোচিংয়ের পরীক্ষাগুলা খুব ভালভাবে দিতে। এতে একদিকে যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়তো, পড়া ভালো হতো তেমনি সময় ব্যবস্থাপনা খুব ভালো বুঝতাম আমি। কখনো পরীক্ষা মিস করতাম না, কারণ যত বেশি পরীক্ষা দিয়েছি পড়া ততো ভালো হয়েছে। মাথা ঠান্ডা রেখে প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন পড়ার চেষ্টা করেছি৷ সাহায্য পেয়েছি পরিবারের, শিক্ষকদের। আলহামদুলিল্লাহ আমি খুশি নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এক ধাপ এগিয়ে।’ এভাবেই উচ্ছ্বসিত ভাবে নিজের মনের ভাব ব্যক্ত করছিলেন অর্ণব। 

তবে ঢাকার মধ্যে প্রথম তিনটি মেডিকেলে যারা পড়তে চায় তাদের একটু এক্সট্রা ইফোর্ট দেয়ার কথা জানান তিনি। শুধু একটা মেইন বই না, সাথে রেফারেন্স বই ও লেকচার পড়ার পরামর্শ দেন তিনি, যদি ভালো নাম্বার তুলতে হয় মেডিকেল এডমিশন টেস্টে। যারা মেডিকেলে চান্স পাননি তাদের জন্য এই মেধাবীর পরামর্শ, ‘শুধুমাত্র মানুষের সেবা করতে ডাক্তার হতে হবে এমন কোন কথা নেই। আপনি যেটাতে ভালো করবেন এমন কিছুতে পড়ুন। হতাশ হওয়ার কিছু নেই৷ চান্স না পাওয়া স্বপ্ন ভাঙ্গা না, স্বপ্নের শুরু। হয়তো কাল আপনি অনেক ভালো কিছু হবেন জীবনে যা আজ চান্স না পেলে হতো না। হতাশ হবেন না। বিশ্বাস রাখুন, এগিয়ে যান।’

অর্ণব স্বপ্ন দেখেন একদিন দেশ সেরা চিকিৎসক হওয়ার, স্বপ্ন দেখেন হাজার হাজার দরিদ্র রোগীর চিকিৎসা করার। চিকিৎসার অভাবে যাতে আর কাউকে মরতে না হয়। মাদারীপুরের ছেলে এই ভালো মানুষটির জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।                      

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত