ঢাকা      রবিবার ২০, জানুয়ারী ২০১৯ - ৭, মাঘ, ১৪২৫ - হিজরী



মো: গোলাম মোস্তফা

চিকিৎসক ও লেখক


বিদেশে ডাক্তারি পড়তে গেলে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হবেন

প্রিয় বন্ধুগণ বাংলাদেশের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা শেষ। অনেকেই সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছেন আর অপেক্ষাকৃত কম নাম্বার প্রাপ্তরা প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে এডমিশন নিবেন। আর বাকি যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদেরও স্বপ্ন ডাক্তার হবে! তাই অলরেডি চিন্তা করেছেন বিদেশে পড়াশুনা করে ডাক্তার হবেন। 

দেখুন ভাই দেশে থেকেই প্রতিবছর যে পরিমাণ ডাক্তার পাস করে বের হচ্ছে, তারা অনেকেই এখন বেকার বা কর্মসংস্থানের সমস্যায় আছেন। তারপর আপনি ভাবছেন বিদেশে অল্প টাকায় ডাক্তার হয়ে দেশে এসে মা-বাবার বা পরিবারের মুখে হাসি ফুটাবেন, আসলে সে রকম সূদুরসম্ভবনা নেই! চিন্তা আর স্বপ্ন আর কাজ আর কথা, বাস্তবিকভাবে আপনি এগুলোর সাথে কখনো মিল পাবেন না।

যাহোক লেখার মূল উদ্দেশ্য আপনার যদি ডাক্তার হওয়ার প্রবল ইচ্ছা থেকে থাকে তবে সেক্ষেত্রে আমি বলব আপনি দ্বিতীয় বার মানে ধৈর্য সহকারে মনযোগ দিয়ে পড়াশুনা করুন সামনের বার মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষায় কৃতকার্য হওয়ার জন্য! 

আপাতত বিদেশে শিক্ষা নিয়ে ডাক্তার হওয়ার চিন্তা মাথায় থেকে ঝেড়ে ফেলুন বা অভিভাবকগণ আপনারা যারা আপনাদের সন্তাদের ডাক্তার বানানোর স্বপ্নে বিভোর, সেক্ষেত্রে দেশেই পুনরায় চেষ্টা করতে বলুন।

বিদেশে শিক্ষা নিয়ে ডাক্তার হওয়া কঠিন। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা যেসব দেশে শিক্ষা নিয়ে থাকেন তার মধ্যে গনচীন, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, মালোশিয়া, নেপাল আরো বেশ কিছু দেশে। আমি বলছি না এসব দেশের মেডিকেল কলেজ মানহীন বা আমাদের দেশেরই মেডিকেল পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ তেমনটি নয়।

বিদেশে ডাক্তারি পড়তে গেলে যেসব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়:
বিদেশে পড়াশুনা করতে গেলে আপনাকে অনেকগুলো সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। যথা-
১. এজেন্ট বাটপার আপনার এই খরচ সেই খরচ বলে বিভিন্ন কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেবে।
২. বিদেশে আসার পর আপনাকে সে দেশের ভাষাগত সমস্যা সম্মুখিন হতে হবে। পড়াশুনা করতে গেলে সে দেশের ভাষা শিখতে হবে। তাছাড়া আপনি আপনার স্যারদের সব লেকচার বুঝবেন না।
৩. সব চেয়ে বড় সমস্যা খাবার জনিত, এসব দেশে আপনি বাঙালি খাবার পাবেন না! আর এসব দেশের খাবার দেখে প্রথম অবস্থায় বমি আসতেও পারে।
৪. বিদেশে শিক্ষার সিস্টেম আর বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সেইম নয়। ক্লিনিক্যালি ও ব্যাসিক জ্ঞান অর্জন আপনার নিজেকেই অর্জন করতে হবে। কারণ বিদেশী টিচারদের সব লেকচার আপনার বোধগম্য হবে না।
৫. একান্তই যদি বিদেশে পড়াশুনা করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিকদের বিদেশে শিক্ষা নেওয়ার কিছু নীতিমালা রয়েছে সেগুলো জেনে নিন।

বিএমডিসি নীতিমালা:
১. কোন শিক্ষার্থী যদি বিদেশে শিক্ষা নিতে যায়, তাকে অবশ্যই যে বছর বা সেশনের বাংলাদেশের মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষায় যে পয়েন্ট লাগে, তাকে SSC+HSC (বিজ্ঞান বিষয়ে) সম পয়েন্ট থাকতে হবে।
২. তারপরেই আপনাকে বিএমডিসি অফিস থেকে ফরেইন স্টাডির বৈধ সার্টিফিকেট বা ইল্লিজিবিটি সার্টিফিকেট নিতে হবে।
৩. এরপর আপনি যে দেশে পড়তে যাচ্ছেন বা যে মেডিকেল কলেজে পড়তে যাচ্ছেন, সেই মেডিকেল কলেজ বিএমডিসির লিস্টেট বা অনুমোদন আছে কিনা সেটা জেনে নিবেন।

এই তিনটির যেকোন একটি বিষয় আপনার ঠিক না থাকলে, আপনি দেশে এসে ডাক্তারি করার বৈধতার সার্টিফিকেট মানে বিএমডিসি রেজিং নম্বর পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে বিড়াম্বিত হতে হবে।

প্রিয় বন্ধুগণ আপনাদের ভাইবোনদের বিদেশে শিক্ষা নিতে পাঠানোর আগে সকল দিক বিবেচনা করে নিবেন। ধান্দাবাজ বা এজেন্টদের খপ্পরে পড়বেন না।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ক্যাডার বৈষম্য দূর করুন, সুশাসন আসবে

ক্যাডার বৈষম্য দূর করুন, সুশাসন আসবে

আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর না করে কেবল বেতন বৃদ্ধি ও জনপ্রশাসন ক্যাডারদের নির্দেশ…

স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে কেন এতো হয়রানি?

স্বাস্থ্যসেবা দিতে গিয়ে কেন এতো হয়রানি?

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের রুমগুলোর নানা অব্যবস্থাপনার ছবি নিয়মিত আসে সামাজিক গণমাধ্যমে।…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর