ঢাকা      রবিবার ২১, অক্টোবর ২০১৮ - ৫, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী

ডাক্তাররা কি এপ্লাইড সায়েন্টিস্ট নাকি আর্টিস্ট?

মাহদী ইসলাম: অনেক ডাক্তার বা মেডিকেল শিক্ষার্থীদেরেই দেখি সায়েন্স সায়েন্স করতে করতে মুখে ফেনা এনে ফেলে। হতাশ হই তাদের এই ধরণের কথা শুনে। এক কথায় উত্তর-আমাদের দেশের ডাক্তাররা এর "কোনোটাই না"। সায়েন্সের আওতাধীন হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। আর্টিস্ট হওয়ার কথা তো বাদই দিলাম।

[বি.দ্র: অবজার্ভেশন আর সায়েন্স এক জিনিস না। "সূর্য পূর্ব দিকে উঠে"-এটা নিছকই অবজারভেশন, সায়েন্স না]

অন্যের আবিষ্কৃত ডায়াগনোস্টিক ক্রাইটেরিয়া, ট্রিটমেন্ট রেজিমেন/প্রোটোকল, ড্রাগ-ফার্মাসিউটিক্যাল থেরাপি চোখ বন্ধ করে অন্ধের মতো আওড়ায়ে সেটা এপ্লিকেশনের নাম সায়েন্স না। ভাবতে পারেন, এটা এপ্লাইড সায়েন্স।

এপ্লাইড সায়েন্স সেটাই, যার যেটার এপ্লিকেশন হবে সায়েন্টিফিক এভিডেন্স বেইসড। অথচ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নেই কোনো পিউর সায়েন্টিফিক এভিডেন্স। অন্য দেশের ফাইন্ডিং ধুমায়ে নিজের দেশে চালাচ্ছি। পাশের দেশের ডিজিজের এপিডেমিওলজি নিজের দেশের নামে চালিয়ে দিচ্ছি।

ট্রিটমেন্ট প্রোটকল চোখ বন্ধ করে ফলো করছি। আমেরিকান মোটকা মোটকা মানুষগুলোর নরমাল ব্লাড প্রেশার (১৩০-১৪০/৮০ mmHg) ঠোঁটস্থ করে নিজের দেশের হ্যাংলা মানুষগুলোর ওপর এপ্লাই করছি। ঔষধ একটা অমুক দেশে ভালো কাজ করার খবর পেয়েছি তো মেরে দিয়েছি এই ঔষধ আমাদের দেশে।

সাইড ইফেক্টও যে জিওগ্রাফি ভেদে ভ্যারি করতে পারে, কারো মাথা ওই জায়গায় নাই। কিংবা একটা নিউ সেইফ ড্রাগ আসার ৫০-৬০ বছর পর কেউ একজন ব্যবহার করা শুরু করছি। দেশীয় ফার্মাসিউটিকল কোম্পানী ঔষধ নিয়ে যা বলছে, বিশ্বাস করে বসে আছি।

এইগুলো কোন জায়গা দিয়ে সায়েন্স আর "এভিডেন্স বেইজড" এপ্লাইড সায়েন্স কেউ বুঝিয়ে দিলে বুঝে নিতাম। মোবাইল ব্যবহার করে নেট ঘাটাঘাটি করা এপ্লায়েড সায়েন্স না। ওয়াশিং মেশিনের ম্যানুয়াল দেখে ওয়াশিং মেশিন চালানো এপ্লায়েড সায়েন্স না।

আর আর্ট হলো ক্রিয়েটিভিটির বাহ্যিক একটা রূপ। অন্যের রুলস, প্রোটোকল আর ট্রিটমেন্ট রেজিমেনকে মহাসত্য ধরে চোখ বন্ধ করে কনফিডেন্সের সাথে প্রয়োগ করা আদৌ আর্ট কিনা জানা নেই।

আমাদের সাথে কোয়াক বা হাতুড়ে ডাক্তারদের একটাই পার্থক্য। তারা রোগের লক্ষণ উপসর্গ আর ঔষধের সাইড ইফেক্ট জানে কম, আর আমরা ৪-৫ টা বেশি জানি। এর বেশি আর কিছুই নেই। থাকলেও সেগুলোর প্রায়োগিক গুরুত্ব নেই।

তাহলে এর জন্যে কি ডাক্তারদের ক্লিনিক্যাল প্রাক্টিস ছেড়ে রিসার্চার হতে হবে?

তাত্ত্বিকভাবে, প্রত্যেক ক্লিনিশিয়ান বা ডাক্তারই একেকজন রিসার্চার। তাই যদি না হতো, তাহলে "ক্লিনিক্যাল প্র‍্যাক্টিস" শব্দটার উৎপত্তির কোনোই দরকার ছিল না। "ক্লিনিক্যাল ব্যবসা" বললেই বরং পারফেক্ট হতো।

লেখক:: মাহদী ইসলাম, শিক্ষার্থী,  স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স না পেলে এখন মেডিকেলে পড়ে!

ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স না পেলে এখন মেডিকেলে পড়ে!

মেইড ইন চায়না এখন শুধু জিনিসপত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। শুরু হয়েছে হিউম্যান রিসোর্স…

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

প্রমিতি, বয়স- ১৬। এইচএসসি ১ম বর্ষে পড়ে। প্রাণবন্ত, উচ্ছ্বল প্রজাপতির মতো। যখন কথা…

সব মৃত্যুই দুঃখের, সুখের কোন মৃত্যু নেই!

সব মৃত্যুই দুঃখের, সুখের কোন মৃত্যু নেই!

তখন আমি সিওমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন। মেডিসিন ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছেন প্রফেসর ইসমাইল পাটোয়ারি…

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

ফাঁকিবাজির মহান ব্রত নিয়ে ইন্টার্নি শুরু করেছিলাম। আমি জন্মগত ভাবেই ফাঁকিবাজ। সবাই…

‘কেটা ফের জানতোক যে, পিঁপিয়া খাল্যে ছ্যালা ধলো হয়?’

‘কেটা ফের জানতোক যে, পিঁপিয়া খাল্যে ছ্যালা ধলো হয়?’

এক সদ্য গর্ভবতী রোগীকে কাঁচা পেঁপে খেতে নিষেধ করলাম। - আনারস আর কাঁচা…

‘বুকের ভিত্রে চ্যাংনা চ্যাঁও চ্যাঁও করে’

‘বুকের ভিত্রে চ্যাংনা চ্যাঁও চ্যাঁও করে’

ডাক্তার- আপনার সমস্যা কী? রোগী- বুকের ভিত্রে চ্যাংনা চ্যাঁও চ্যাঁও করে। ডাক্তার-…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর