০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০৮:০৭ পিএম
চিকিৎসকদের সম্মিলনে শেখ হাসিনা

নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে

নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হলে প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তিনি বলেন, এ দেশে কোনো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। আমরাই প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করি। এ ছাড়া আরও তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। প্রথমবার ক্ষমতায় এসে চিকিৎসা সেবায় কাজ করেছি। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেও দেশের চিকিৎসা সেবার উন্নয়নে কাজ করেছি।আগামীতে আবার যদি ক্ষমতায় আসি তাহলে আমরা প্রতিটি বিভাগে ১টি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেব।

রোববার  বিকাল ৫টায় গনভবনে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের আয়োজনে বিএমএ সভাপতি ও সাবেক এমপি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় চিকিৎসক সম্মেলন ২০১৮ তে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সম্মেলনের শুরুতেই জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় পায়রা উড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের উদ্ভোদন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমএ সভাপতি ডা.মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, প্রতিমন্ত্রী ডা.জাহিদ মালেক ও বিএমএ মহাসচিব ডা. মো. এহতেশামুল চৌধুরী।

শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় এসেছি। ক্ষমতায় এসেই আমরা স্বাস্থ্য সেবায় শুরু করি। আমরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল করে দিয়েছি। নতুন করে ১২ হাজারের অধিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। 

চিকিৎসকদের নানা সুযোগ সুবিধা প্রদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রতিটি জেলা উপজেলায় চিকিৎসকদের জন্য ফ্ল্যাট তৈরি করে দেব। যাতে আপনারা থাকতে পারেন।

তিনি আরও বলেন,আমাদের সবসময় লক্ষ্য, মানুষ যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায়। সে জন্য আমরা ১২হাজারেরও বেশি চিকিৎসক নিয়োগ দিয়েছি। মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন করে দিয়েছি। এবারে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরন করে দেশব্যাপী সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করে দিয়েছি। সেখানে গ্রামের গরীব অসহায় মানুষরা চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে চিকিৎসা সেবার অনেক উন্নতি হয়েছে। উপজেলায় যেসব হাসপাতালে ৩০ বেড ছিল সেগুলো ৫০ থেকে ১০০ বেডে উন্নীত করা হয়েছে। আগে ডিপ্লোমা পাস করে নার্স আসতো এখন গ্র্যাজুয়েট নার্স আসছে। নার্সদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা দিয়েছি। এ ছাড়া প্রাইভেট হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলো যাতে ভালোভাবে চলতে পারে, এ কারণে মেডিকেল ইকুইপম্যান্ট ও যন্ত্রপাতির ওপর ট্যাক্স প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন করে দিয়েছি।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে যেখানে ১০জন ডাক্তার থাকার কথা, সেখনে একজন বা দুইজন করে আছে, কোথাও আবার একজনও থাকে না। এতে করে সাধারন মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে আপনাদের খেয়াল রাখা দরকার। 

তিনি বলেন, আমাদের সবসময় লক্ষ্য, মানুষ যেন সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায়। সে জন্য মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন করে দিয়েছি। এবারে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু যেভাবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছিলেন, আমরাও তার পদাঙ্ক অনুসরন করে দেশব্যাপী সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করে দিয়েছি। সেখানে গ্রামের গরীব অসহায় মানুষরা চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে।

চিকিৎসকদের ১৬ দফা দাবির বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সময় শেষ। সামনে নির্বাচন। বেলা শেষে দাবি দিয়ে লাভ নেই। নির্বাচনকালীন সরকারের সময়ে কিছুই করার থাকে না। এ সময়ে শুধুমাত্র রুটিনওয়ার্কগুলো করা হয়। তাই এমুহূর্তে আপনাদের দাবি দাওয়া নিয়ে আর কিছুই করার নেই। কদিন পর নির্বাচন হবে। এখন সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যাস্ত থাকবে। তবুও আমরা কাজ করছি। যদি মানুষ আমাদেরকে ভোট দেয় ,আমরা আবার ক্ষমতায় আসতে পারি, তবে অবশ্যই এগুলো করে দেব।

আরও পড়ুন-

►চিকিৎসা সেবায় নতুন নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি: প্রধানমন্ত্রী

►নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিটি বিভাগে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হবে

►৮ বছর পর চিকিৎসকদের মহাসম্মিলন

Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি