ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বিভাগীয় প্রধান, প্যাথলজি,

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ।


০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:২১ পিএম

পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ

পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ

পরিপাকতন্ত্র থেকে রক্তক্ষরণ খুবই চিন্তার বিষয়। যেহেতু পেটের ভিতরে রক্তক্ষরণ হয় তাই রোগী অনেক সময় বুঝতে পারে না। রক্তক্ষরণের কারণে রক্তশূন্যতা অথবা সক হয়ে রোগী মারা যেতে পারে। 

পরিপাকতন্ত্রের খাদ্যনালী, পাকস্থলী, ডিওডেনাম, জেজুনাম, আইলিয়াম, সিকাম, কোলন, রেক্টাম ও পায়ু পথের যে কোনটির থেকে রোগাক্রান্ত হয়ে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এই রক্তক্ষরণ প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে হতে পারে। প্রকাশ্যে রক্তক্ষরণ হলে রোগী বলে, ‘আমার বমির সাথে টাটকা রক্ত আসে অথবা পায়খানার সাথে টাটকা রক্ত পড়ে।’

বমির সাথে রক্ত আসাকে বলা হয় হিমাটেমেসিস। পায়খানার সাথে রক্ত পড়াকে বলা হয় মেলেনা। অপ্রকাশ্যে রক্তক্ষরণ হলে রোগী বলে, ‘আমার শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, শরীর ফেকাশে হয়ে যাচ্ছে, পায়খানা কালো কালো হচ্ছে অথবা লালীর মত পায়খানা হচ্ছে।’ 

হুক্কা খেতে তামাক বানাতে ঝোলাগুড় থেকে তৈরি আঠালো ঘ্রাণযুক্ত লালী নামক পেস্ট ব্যাবহার করা হয়। রোগীর পায়খানা এই লালীর মত দেখায়। যারা অসুস্থ মুরগীর নাইল্লা গু দেখেছেন তারা সহজে বুজতে পারবেন। অপ্রকাশ্য রক্তক্ষরণ হলে পায়খানা এমন হয়। রক্তে রঙিন হিমোগ্লুবিন থাকার কারণে টাটকা রক্ত লাল দেখায়। 

পরিপাক তন্ত্রের ভিতর দিয়ে পাস করার সময় হিমোগ্লুবিন হজম হয়ে কালচে রঙ ধারণ করে। তাই হজম হওয়া রক্ত পায়াখানার সাথে মিশলে পায়খানা কালচে বা লালীর মত হয়। এই অবস্থায় বলা হয় ওয়াকাল্ট ব্লাড। পায়খানায় অপ্রকাশ্য রক্ত আছে কিনা জানার জন্য ওকাল্ট ব্লাড টেস্ট (ওবিটি) করা হয়। ওকাল্ট ব্লাড টেস্ট পজিটিভ হলে অথবা প্রকাশ্যে ব্লাড গেলে রক্তক্ষরণের কারণ বের করতে হয়।

বমির সাথে রক্ত আসলে সন্দেহ করতে হবে রাপচার ইসোফেজিয়াল ভেরিসেস, গ্যাস্ট্রিক আলসার অথবা ক্যান্সার। এন্ডোস্কোপি পরীক্ষা করে রক্তক্ষরণের পয়েন্ট দেখা যায়। পায়খানার সাথে টাটকা রক্তক্ষরণের কারণ হলো পাইলস, ফিসার, ফিস্টুলা, পলিপ ও রেক্টামের ক্যান্সার। খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর রক্ত বমির সাথে না বের হয়ে নিচের দিকে গেলে হজম হয়ে ওকাল্ট ব্লাডে পরিণত হয়। রেক্টাম ও পায়ু পথের রক্ত হজম হওয়ার সুযোগ পায় না। তাই এটা টাটকা।

প্রক্টোস্কপি ও কলোন্সকোপি পরীক্ষা করে নিচের দিকের রক্তক্ষরণের পয়েন্ট দেখা যায়। রক্তক্ষরণের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়। কেউ কেউ রক্তক্ষরণের কারণ না খুজে রক্তশূন্যতার চিকিৎসা দিয়ে থাকেন আয়রন ট্যাবলেট দিয়ে অথবা শরীরে রক্ত ভরে। এটা ঘরের মেঝের নিচে ইঁদুর রেখে মাটি দিয়ে ইদুরের গর্ত বন্ধ করে লেপ দেয়ার মতো। 

পরেরদিনই ইঁদুর নিচ থেকে গর্ত করে বের হয়ে এসে শস্য নিয়ে যাবে। কাজেই আগে ইঁদুর মারতে হবে। তারপর গর্ত বন্ধ করতে হবে। প্রকাশ্যেই হউক আর অপ্রকাশ্যেই হউক বমির সাথে বা পায়খানার সাথে রক্ত গেলে রেজিস্টার্ড ডাক্তার দেখায়ে চিকিৎসা নিতে হবে।
 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত