ডা. কাওসার উদ্দিন

ডা. কাওসার উদ্দিন

সহকারী সার্জন

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।


০৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০৩:৫২ পিএম

মেডিকেলে চান্স পাওয়ার স্মৃতিকথা

মেডিকেলে চান্স পাওয়ার স্মৃতিকথা

২০০৭ সাল, কতগুলো বছর, তবুও মনে হচ্ছে এইতো সেদিন। বরাবরের মত দিনটি শুক্রবার, ছুটির দিনের একটু অন্যরকম সকাল। দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা করছি খুলনা মেডিকেল কলেজের সামনে। চারপাশে শত শত মানুষ, এ যেন কোনো এক মহাসমাবেশ, পরীক্ষার্থীদের চেয়ে অভিভাবক বেশি! গম্ভীর মুখে যুদ্ধ শুরুর অপেক্ষায় আছি সবাই। অনেকে ঘেমে অস্থির, দুশ্চিন্তায় না প্রচন্ড রোদে পার্থক্য বোঝার উপায় নেই। 

এডমিট কার্ড হাতে কিছুক্ষণ পর লাইনে দাঁড়িয়ে গেলাম। আমার হার্ট মাত্রা ছাড়িয়ে ধুপধাপ করছে। আমার সাথেই আছে দোস্ত আশিক। যতই চেষ্টা করি ওর সাথে কথা বলে টেনশন কমানোর, ততই যেন টেনশন বেড়ে যায়। মনে মনে স্রষ্টাকে স্মরণ করছি আর বলছি, 'Try your best, Allah will do the rest.'

এর মাঝেই হল রুমে প্রবেশের ঘন্টা বাজলো। একে একে স্বল্প সময়ের চেকিং শেষে নির্ধারিত রুমের দিকে এগোচ্ছি আমরা। আমি আর আশিক ভিন্ন রুমে পড়েছি। আমার সিট পড়ল বিশাল বড় এক লেকচার গ্যালারিতে, খুবই সুন্দর রুম, বেশ বড় বড় বেঞ্চ। বেঞ্চের এমাথায় একজন আর ওমাথায় একজন। আশেপাশে পরিচিত অপরিচিত অনেকে আছে, সবার সাথে টুকটাক কথা বলে নিজেকে সহজ করার চেষ্টা করছি কিন্তু পালপিটেশন কমছে না। 

পরে নিজেই নিজেকে বললাম, ‘ভয় পেয়ো না। আল্লাহ যা করবেন ভালর জন্যই করবেন। সামনে তো আরো একবার সুযোগ আছে। সুতরাং No tension do foorti-তে পরীক্ষা দাও।’ বুদ্ধিটা কাজে লাগলো, এতে মনে কিছুটা জোড় এল, পালপিটেশন কমে গেলো! 

হঠাৎ মহারণের ঘন্টা বাজলো। ইনভিজিলেটর বাজখাঁই গলায় চিৎকার দিয়ে বললেন, 'Silence please, pin drop silence.' চারপাশে শুনশান নিরবতা, সবাই চুপচাপ। উত্তর শিট দেয়া হল, প্রাথমিক কাজ শেষে এবার দীর্ঘ প্রত্যাশিত প্রশ্নের খোলার অপেক্ষা। ঘন্টা পড়ার পর কাঁপাকাঁপা হাতে প্রশ্ন খুললাম। এরপর আর কিছু মনে নেই, সম্ভিত ফিরলো একটানা ঘন্টার শব্দে, সাথে আবারো চিৎকার 'Stop writing'. 

খাতা বন্ধ করে রোল নামের গোল্লা পূরণ ঠিক আছে কিনা আরেকবার মিলাচ্ছি, আর অপেক্ষায় আছি টিচারের ছো মেরে উত্তরপত্র নেয়ার। অবশেষে এক ঘন্টার মহাযুদ্ধ শেষ ক্লান্তশ্রান্ত যোদ্ধারা সবাই একে একে যুদ্ধের ময়দান ত্যাগ করছি।

বাইরে উৎকণ্ঠিত অভিভাবকবৃন্দ অপেক্ষা করছেন। পরীক্ষা কেমন হল? সামনে আগত এমন প্রশ্নের উত্তর এর মধ্যেই ঠিক করে ফেলেছি, ‘আলহামদুলিল্লাহ, পরীক্ষা ভাল দিয়েছি, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা।’ ক্লান্ত শ্রান্ত আমি আর আশিক ওর বাসায় গিয়ে কিছুক্ষণ উত্তরের হিসাব নিকাশ করলাম। হঠাৎ আমাদের আরেক বন্ধু গালিবের আগমন উত্তর মিলানোর জন্য। 

সবাই কিছুক্ষণ গল্পগুজব করলাম। এভাবে ১ দিন পার হল। পরদিন দোস্ত দীপুর আগমন, আমি আশিক আর দীপু মিলে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম। বিকাল তখন, কিছুক্ষণ পরই আশিকের আম্মার ডাকাডাকি, রেজাল্ট দিয়েছে! আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা সবাই চান্স পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। 

২০১৮ সালের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সকলের জন্য শুভকামনা। পাশাপাশি প্রার্থনা এই, ‘যেন যোগ্য আর মেধাবীরাই চান্স পায়, কোন প্রকার অনিয়মে যেন কলুষিত না হয় এই পবিত্র পেশার উত্তরসূরি বাছাই।’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না