ঢাকা      সোমবার ২৩, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৭, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী

কৃষক পরিবার থেকে ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাওয়া আরিফের কথা

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার একে স্কুল থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ফাইভ পেয়ে পাস করেন আরিফুল ইসলাম।  আর ২০১৭ সালে রংপুরের কাউনিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পান এই মেধাবী মেডিকেল শিক্ষার্থী।  ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মেধা তালিকায় ১৮৫তম স্থান অধিকার করেন তিনি।  বাবা আব্দুল মতিন পেশায় একজন কৃষক। মা আকলিমা বেগম একজন গৃহিনী।  কৃষক বাবার গর্বিত এ সন্তান আজ দেশের শীর্ষ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠান “ঢাকা মেডিকেল কলেজে” জায়গা করে নিয়েছেন নিজেকে।  আজ থাকছে এমবিবিএস পরীক্ষার্থীদের জন্য আরিফের কিছু পরামর্শ।

মেডিভয়েস : আপনি কিভাবে মেডিকেলে চান্স পেয়েছিলেন? আপনার প্রস্তুতি কেমন ছিল?

আরিফ: মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য আমি পড়াশোনা শুরু করি এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার পরপরই। পরবর্তীতে ঢাকায় এসে একটি মেডিকেল কোচিংয়ে ভর্তি হই। নিয়মিত পড়াশোনা করি। একটা ক্লাসও মিস করতাম না। প্রতিটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি এবং ভালো নম্বর পাওয়ার চেষ্টা করেছি।

মেডিভয়েস : মেডিকেলে চান্স পাওয়ার জন্য কোচিং বাধ্যতামূলক কি না?

আরিফ: আসলে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার ক্ষেত্রে পড়াশোনাটাই মুখ্য। তবে সেক্ষেত্রে একটা গাইডলাইন দরকার। কোচিং সেন্টার সে গাইডলাইনের কাজ করে। তিন থেকে চার মাস কিভাবে প্রস্তুতি নিবে সেটা আসলে কোচিং সেন্টার দিয়ে থাকে। তবে মুখ্য বিষয় হচ্ছে নিয়মিত পড়াশোনা করা।

মেডিভয়েস: মেধাবীদের স্বপ্ন থাকে মেডিকেলে পড়ার, এ স্বপ্ন তারা কিভাবে পূরণ করতে পারেন?

আরিফ:একটা বিষয় হচ্ছে যারা পরীক্ষায় অংশ নেবে তারা সবাই চাইবে চান্স পেতে।  সবারই লক্ষ্য থাকে মেডিকেলে চান্স পাওয়ার।  সেক্ষেত্রে মেধা থাকতে হবে পাশাপাশি পরিশ্রম ও সৃষ্টিকর্তাকে খুশি রাখতে হবে।  দেখেন মেডিকেল পরীক্ষা দেয় প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থী সবাই মেধাবী কিন্তু সবাই চান্স পায় না। এজন্য সৃষ্টিকর্তাকে খুশি রাখতে হবে।

মেডিভয়েস : মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় আপনার প্রস্ততি কেমন ছিল?

আরিফ: আমি ২০১৭-১৮ সেশনে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিই। বিশেষ করে পরীক্ষার আগে আমার পড়াশোনার যে সিলেবাস ছিল তা পাঁচবার রিভিশন দিয়েছি। এটা প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর করা উচিত। 

মেডিভয়েস :কার প্রেরণায় আপনি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন?

আরিফ:হ্যাঁ,আমার ও চিকিৎসক হওয়ার পেছনে অনুপ্রেরণা ছিল গ্রামের এক বড় ভাই।  যিনি এখন সরকারি কলেজের শিক্ষক (শিক্ষা ক্যাডার)। তিনি আমাকে মেডিকেলে পড়ার বিষয়ে উৎসাহ দিয়েছিলেন।  তার কথায় আমি অনুপ্রেরণা পাই। এছাড়া আমার একজন শিক্ষক ছিলেন তিনিও আমাকে মেডিকেলে পড়ার বিষয়ে অনুপ্রেরণা দিতেন।  বলতে পারেন তাদের অনুপ্রেরণায় আজ আমি ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেয়েছি।

মেডিভয়েস : আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?

আরিফ: কেবল তো বছরখানেক হলো চান্স পেলাম।  আগে ঢাকা মেডিকেল থেকে এমবিবিএস শেষ করি। তারপর চিন্তা আছে মেডিসিনের ওপর এমআরসিপি করার।

মেডিভয়েস: আপনার শৈশবের কোন স্মৃতি আছে কি না?

আরিফ: আমি কলেজে যাওয়ার পথে প্রতিদিন তিস্তা নদীর ওপর দিয়ে যেতাম, সেখান বন্ধুদের সাথে নদীতে গোসল করতাম। জায়গাটা হচ্ছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট এলাকায়। শৈশবের এ স্মৃতি আমার প্রতিদিনই মনে পড়ে।

মেডিভয়েস: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আরিফ: আপনাকেও।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস