ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


০৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০৮:৫৯ এএম

রেনাল কর্টিকাল সিস্ট

রেনাল কর্টিকাল সিস্ট

কিডনিতে বিভিন্ন ধরনের সিস্ট হয়। কর্টিকাল সিস্ট তার মধ্যে অন্যতম। সিস্ট হচ্ছে এক ধরনের পানি ভর্তি থলি। প্রায়ই এ ধরনের রোগী পাওয়া যায়। কর্টিকাল সিস্ট হলে রোগী ভাবেন তার কিডনি বোধয় নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু এ ধারণা একেবারেই ভুল। 

রেনাল কর্টিকাল সিস্ট এক ধরনের নির্দোষ অবস্থা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ থেকে বড় কোন সমস্যা হয় না। কিডনি কাটলে দু’টি অংশ পাওয়া যায়। বাইরের দিককে বলে কর্টেক্স এবং ভেতরের অংশকে বলে মেভুলা। কর্টিকাল সিস্ট কর্টেক্সে হয়। মানুষের বয়স যত বাড়ে তত সিস্ট হবার বুঁকি বাড়ে। কর্টিকাল সিস্ট ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার বা তার থেকেও বড় হতে পারে। 

রেনাল কর্টিকাল সিস্টে বিভিন্ন উপসর্গ পাওয়া যায়। এর মধ্যে আছে- 
১. পেটে গোটা বা চাকা অনুভূত হওয়া। পেটে পরীক্ষা করলে এর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। 
২. বারবার প্রস্রাব হওয়া। কিডনিতে অসংখ্যা টিউবিউল থাকে। সেখানে সমস্যা হয় বলে বারবার প্রস্রাব হয়।     
৩. পেটে ব্যথা। অনেক সময় পিঠের দিকেও ব্যথা হতে দেখা যায়। 
৪. জ্বর এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। 

রেনাল কর্টিকাল সিস্ট ডায়াগনসিস সহজ। আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে সহজেই রোগটি ডায়াগনসিস করা যায়। এছাড়া সিটিস্ক্যান এবং এমআরআই করা হয়। তবে ভাল  সনোলজিস্ট আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমেই রোগটি ধরতে পারেন। রেনাল কর্টিকাল সিস্ট পেলে রেনাল ফাংশান টেস্ট করা উচিত। তাতে বোঝা যায় কিডনিতে সমস্যা হচ্ছে কি না।

রেনাল কর্টিকাল সিস্টে যদি কোন উপসর্গ না থাকে তবে চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে মাসে মাসে রেনালফ ফাংশন টেস্ট এবং আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা উচিত। তাতে বোঝা যাবে সিস্ট থেকে কোন সমস্যা হচ্ছে কি না। সিস্ট যদি বড় হয় এবং উপসর্গ তৈরি করে তবে অপারেশন লাগতে পারে। ৩ সেন্টিমিটারের নিচে থাকলে অপারেশন লাগে না। 

রেনাল কর্টিকাল সিস্ট অনেক দেখতে পাওয়া যায়। এ নিয়ে ভয় বা দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আশা করি এ লেখার মাধ্যমে পাঠকের রেনাল কর্টিকাল সিস্ট বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা হবে। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে