০২ অক্টোবর, ২০১৮ ০৩:৩৫ পিএম

দুই নোবেল বিজয়ীর ক্যান্সার থেরাপি আবিষ্কারের গল্প

দুই নোবেল বিজয়ীর ক্যান্সার থেরাপি আবিষ্কারের গল্প

মেডিভয়েস ডেস্ক: ক্যান্সার রোগীদের নেতিবাচক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন থেরাপি আবিষ্কারের জন্য এবার চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবলে জিতেছেন দুই গবেষক। একজন মার্কিন চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জেমস পি অ্যালিসন আরেকজন জাপানের কিয়োটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও অধ্যাপক তাসুকু হোনজু।

তাদের এ আবিস্কারের ওষুধ বা থেরাপির ইতিবাচক ফল ক্যান্সার রোগীরা পেতে শুরু করেছেন।  ক্যান্সার থেরাপির উন্নয়নে এটি প্রথম যা নোবেল পুরস্কারের স্বীকৃতি পেয়েছে।

নোবেল পাওয়ার অনুভুতি জানিয়ে জেমস পি অ্যালিসন বলেন, ‘প্রত্যেকে বিজ্ঞানীরই একটা স্বপ্ন থাকে তার কাজের কোন স্বীকৃতির কিন্তু আমি নোবেল সম্মানে ভূষিত হয়েছি এ খবর পেয়ে বলতে পারেন  অনেকটা আতকে উঠেছিলাম’।

মার্কিন গবেষক অধ্যাপক জেমস পি অ্যালিসন বলে, ‘আমার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন থেরাপি আবিষ্কারের মধ্যে দিয়ে ক্যান্সার রোগীদের জন্য কিছু একটা দিতে পেরেছি বা করতে পেরেছি’। 

জাপানের কিয়োটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক হোনজু যিনি তার মেডিকেল জীবনে তার এক সহপাঠী পাকস্থলির ক্যানসারে মারা যাওয়ার পর তিনি এই গবেষণা শুরু করেছিলেন।  এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি আমার এ গবেষণাকে অব্যাহত রাখতে চাই। কারণ এই এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন থেরাপি অনেক ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের জীবন রক্ষা করবে।

এ ইম্যুউন সিস্টেমটা সাধারণভাবে কোষের পরিবর্তনকে ধ্বংস করে। তবে আধুনিক পদ্ধতিতে এ থেরাপি ক্যান্সার আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দেবে। 

ক্যান্সারে মা মারা যাওয়ার শোকে আবিষ্কারের নেশা

অ্যালিসন বলেন, আমি মূলত একজন বিজ্ঞানী।  আমি  এ গবেষণার মধ্যে দিয়ে জানতে চেয়েছিলাম কীভাবে সেল কাজ করে।  নিজের পারিবারিক ইতিহাস টেনে ধরে তিনি আরো বলেন, আমার বয়স যখন দশ বছর তখন আমার মা লিম্ফোমায় ক্যান্সারে মারা যান। সে ঘটনার স্বাক্ষী আমি নিজেই।  এরপর থেকে  চেষ্টা করেছিলাম কীভাবে রেডিওথেরাপি এবং কোমোথেরাপি আবিষ্কার করা যায়।  সেই চেষ্টাই  আজ আমি সফল। নোবেল জয়ের নেপথ্যে ওই চেষ্টাই বিশেষ সহায়ক হয়েছে।

১৯৯২ সালে তাসুকু হোনজু নিজেই ক্যান্সার থেরাপির দ্বিতীয় ধাপ আবিষ্কার করেছিলেন।  যা ক্যান্সার চিকিৎসায় রোগীদের অভূতপূর্ব কাজ হয়েছে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন এ ক্যান্সার থেরাপি  বা এ ধারণা প্রায় শত বছর আগে প্রথম প্রস্তাব করা হয়েছিল। যা আজকের জেমস পি অ্যালিসন ও তাসুকু হোনজু আবিষ্কার করেছেন। 

পরিশেষে এই ওষুধটি বা থেরাপিটি কোন ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম হয়েছে।  তবে এ গবেষণায় আরো দেখা গেছে, আবিষ্কৃত এ থেরাপির ফলে ফুসফুস ক্যান্সার, মূত্রাশয় ক্যান্সার ও লিম্ফোমা এবং মেলানোমা ক্যানসারেও কাজ হচ্ছে।

সেই বন্ধুর ধন্যবাদ যে কোনো পুরস্কারের চেয়েও বড়

তাসুকু হোনজু বলেন, তার এক গলফার বন্ধু ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর সে এ চিকিৎসা পদ্ধতিতে আবার সুস্থ হয়ে উঠেছে। এবং পুনরায় গলফ খেলেতে পারছে।  এজন্য হোনজু তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।  এটা ছিল আমার জন্য আনন্দঘন মুহূর্ত।  তার ধন্যবাদ সূচক বক্তব্যটি আমার জীবনে যেকোনো পুরস্কারের চেয়ে বেশি আনন্দিত করেছে।

আরও পড়ুন-

►চিকিৎসায় নোবেল পাওয়া যুগান্তকারী বিভিন্ন আবিষ্কার

চিকিৎসায় যৌথভাবে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের অধ্যাপক

দুই নোবেল বিজয়ীর ক্যান্সার থেরাপি আবিষ্কারের গল্প

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা

অতিরিক্ত বেতন নিচ্ছে একাধিক বেসরকারি মেডিকেল

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত