ঢাকা      মঙ্গলবার ১৩, নভেম্বর ২০১৮ - ২৯, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী

দেড়শ’ কোটি মানুষের উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিশ্বে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা আগামী ৮ বছরে ১১০ থেকে ১৫০ কোটিতে উন্নীত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।  সোমবার শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের ওপর আয়োজিত এক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।  ঢাকাস্থ আইসিডিডিআরবি থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায় যে, দক্ষিণ এশিয়ায় এর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

কন্ট্রোল অব ব্লাড প্রেসার অ্যান্ড রিস্ক এটেন্যুয়েশন- বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলংকা (কোবরা-বিপিএস) নামক ত্রিদেশীয় গবেষণার প্রধান গবেষক অধ্যাপক তাজিন জাফর, ডিউক-এনইউএস হেলথ সার্ভিস ও সিস্টেম রিসার্চ এর আয়োজনে শ্রীলংকার জাতীয় পলিসি এবং অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী ডা. হর্ষ ডি সিলভা এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।  সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে আইসিডিডিআরবির ইনিশিয়েটিভ ফর নন-কমিউনিকেবল ডিজিসের প্রধান ডা. আলিয়া নাহিদ উপস্থিত ছিলেন।  এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতরের অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ কর্মসূচি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. আবদুল আলিম, অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এসএম মুস্তফা জামান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪০ জনই উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। এমনকি এ অঞ্চলেই উচ্চ রক্তচাপের ক্ষতিকর প্রভাবের হার বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বাংলাদেশে প্রতি চারজন প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে তিনজনের হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এবং ৩৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রতি তিনজনের একজন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। এরমধ্যে অর্ধেকই এ বিষয়ে সচেতন নয়।

অধ্যাপক তাজিন জাফর বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজনের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং এদের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ইউরোপিয়ানদের তুলনায় দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগ ৫-৭ বছর আগে দেখা দেয়।

কোবরা-বিপিএস গবেষণার আওতায় দক্ষিণ এশিয়ার গ্রামীণ এলাকায় একটি উন্নত স্বাস্থ্য পদ্ধতির ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর্মী ও চিকিৎসকদের সমন্বয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং এই পদ্ধতিটি সাশ্রয়ী কিনা তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

কোবরা-বিপিএস বাংলাদেশের প্রধান গবেষক ডা. আলিয়া নাহিদ বলেন, কোবরা-বিপিএস পদ্ধতির বিশেষত্ব হলো এই ইন্টারভেনশনটি প্রচলিত সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের চিকিৎসকদের মাধ্যমেই প্রয়োগ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারকগণ এই কোবরা-বিপিএস কৌশলের প্রতি তাদের উৎসাহ দেখিয়েছেন এবং এটি বর্তমান চতুর্থ হেলথ, পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন সেক্টর প্রোগ্রাম (২০১৭-২০২২)-এর সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইনডিপেন্ডেন্ট কমিশনের সহ-সভাপতি ডা. সানিয়া নিশতার সকল স্তরের জনগণের মধ্যে উচ্চরক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস রোগের সেবা নিশ্চিতের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 

আরো সংবাদ











আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

অস্ট্রেলিয়ায় আলাদা হল যমজ শিশুকন্যা

অস্ট্রেলিয়ায় আলাদা হল যমজ শিশুকন্যা

মেডিভয়েস ডেস্ক:ভুটানের দুই যমজ শিশু কন্যাকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার একদল চিকিৎসক তাদেরকে…


জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর