ঢাকা      শনিবার ১৭, অগাস্ট ২০১৯ - ২, ভাদ্র, ১৪২৬ - হিজরী

হার্ট অ্যাটাকে প্রতি বছর সাড়ে ১৭ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু

মেডিভয়েস ডেস্ক: হৃদরোগে বিশ্বে প্রতি বছর সাড়ে ১৭ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু ঘটে। ৩০ থেকে ৭০ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে প্রতি ১০ জনে একজন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। 

আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে পৃথিবীর মোট মৃত্যুর ৩১ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী হৃদরোগ। অল্প বয়সে মৃত্যুর কারণের ৮০ শতাংশই হচ্ছে এই হৃদরোগ। এ তথ্য দিয়েছে ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন। 

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘My Heart, Your Heart’ বাংলায় ‘আমার হার্ট, তোমার হাট’। এ প্রতিপাদ্যের অন্তর্নিহিত বিষয় হল সব সমমনা মানুষকে একীভূত করা ও হার্টের সুস্থতা বিষয়ে একতাবদ্ধ হওয়া। বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য এ দিবসটি পালন করা হয়। 

১৯৯৯ সালে ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন ও ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন যৌথভাবে বিশ্ব হার্ট দিবস পালনে সম্মত হয়। এই হার্ট দিবস সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারণা দেন ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের সভাপতি (১৯৯৭-৯৯) অ্যান্থনি বেইস ডি লুনা। প্রথম হার্ট দিবসটি পালন করা হয় ২০০০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। পরবর্তীতে ২০০১ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের শেষ রোববারটি বিশ্ব হার্ট দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এরপর ২০১১ সাল থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর দিনটিকে বিশ্ব হার্ট দিবস হিসেবে পালন করা শুরু হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ২০১৭ সালের হেলথ বুলেটিনের তথ্যমতে, ২০১৬ সালে শুধু জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের বহির্বিভাগে দুই লাখ ২৬ হাজার ১৩৮ জন রোগী সেবা নেন। ওই বছর একই হাসপাতালে ৬৪ হাজার ৯০৬ জন ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ওই বছর হৃদরোগ হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারি হয় ৯৯৫ জনের এবং ভাসকুলার সার্জারি হয় আরও ১৮২৪ জনের। 

বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে আমাদের দেশের লোকের ১০ বছর আগেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। এখন ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী, এমনকি ২৫-৩০ বছর বয়সীরাও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হচ্ছে। হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হয়- ধূমপান ও তামাকজাতীয় দ্রব্য সেবন, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করা ও অ্যালকোহল পান করা। 

২০২৫ সালের মধ্যে অসংক্রামক ব্যাধিজনিত মৃত্যুর হার হ্রাস করা এবং অল্প বয়সে হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মূল লক্ষ্য। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগের প্রাথমিক লক্ষণগলো হলো এনজাইনা, শ্বাসকষ্ট হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন হওয়া ইত্যাদি। এনজাইনা হচ্ছে, রোগীর সাধারণত বুকে ব্যথা,  বুক ভার ভার হওয়া, বুকে চাপ অনুভব করা, দম বন্ধ হয়ে আসার উপক্রম হওয়া ইত্যাদি। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তফা জামান বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে প্রয়োজন কায়িক পরিশ্রম, হাঁটাহাঁটি, সাঁতার কাটা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা, সাইকেল চালানো ও ধূমপান না করা। এমনকি খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেও হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ডা. রেজাউল ইসলাম রেজা আর নেই

ডা. রেজাউল ইসলাম রেজা আর নেই

মেডিভয়েস রিপোর্ট: শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের অপথালমোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক…

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ডা. নাঈম আর নেই

ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেলের ডা. নাঈম আর নেই

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ফিজিওলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ…

ফার্মেসি ব্যবসায়ীর পছন্দের ওষুধ না লেখায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত

ফার্মেসি ব্যবসায়ীর পছন্দের ওষুধ না লেখায় চিকিৎসক লাঞ্ছিত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসক লাঞ্ছিত যেন স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়তই হামলার…

ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীতে এসে ডেঙ্গুতেই প্রাণ গেল স্বাস্থ্য সহকারীর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে রাজধানীতে এসে ডেঙ্গুতেই প্রাণ গেল স্বাস্থ্য সহকারীর

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি আদেশে ঢাকা এসে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন…

চিকিৎসকদের জন্য বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

চিকিৎসকদের জন্য বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

মেডিভয়েস ডেস্ক: দেশের চিকিৎসা সেবাকে এগিয়ে নিতে সরকার সবধরনের উদ্যোগ নেবে বলে…

চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হসপিটালের ডা. মুহাম্মদ রফিক আর নেই

চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হসপিটালের ডা. মুহাম্মদ রফিক আর নেই

মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রিয়জনদের সাথে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হলো না ডা.…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর