২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৪:১৬ পিএম

রোফাইদা আসলামিয়া: রাসুলুল্লাহর চিকিৎসক সাহাবী

রোফাইদা আসলামিয়া: রাসুলুল্লাহর চিকিৎসক সাহাবী

আসলাম গোত্রের রোফাইদা আসলামিয়া ছিলেন রাসুল সা. এর একজন মহিলা সাহাবী। তিনি পেশায় একজন ডাক্তার এবং সেবিকা। তিনি ছিলেন সে সময় লেখাপড়া জানা, আল কুরআনের ক্বারী সম্পদশালী একজন মহিলা। তিনি তার বিশাল সম্পদ মুসলমানদের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। ডাক্তার হিসেবে যুদ্ধে এবং শান্তিকালীন সময়ে মুসলমান রোগীদের চিকিৎসা সেবা দানই ছিল তার কাজ।

তার তাবু ছিল বিভিন্ন যুদ্ধে মুসলিম সেনাবাহিনীর ভ্রাম্যমান হাসপাতাল। বলা হয়ে থাকে মুসলমানদের ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম হাসপাতাল স্থাপন করেন। তিনি তার হাসপাতাল উটের পিটের উপর তুলো যুদ্ধের ময়াদানে চলে যেতেন। যারা যুদ্ধে আহত হত তাদের সেবা চিকিৎসা দিতেন।

তিনি উহুদ, খন্দক ইত্যাদি যুদ্ধে তার এই ভ্রম্যমান হাসপাতাল স্থাপন করে যুদ্ধে আহত সাহাবাদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলেন। উহুদ খন্দেকের যুদ্ধ শেষ হলে মদীনার মসজিদে নববীর পাশে তিনি তার ভ্রাম্যমান হাসপাতাল স্থানান্তর করেছিলেন। উহুদ খন্দেক যুদ্ধের পর তার এই ভ্রম্যমান হাসপাতাল মসজিদে নববীর কাছে স্থাপন করা হয়েছিল। আর সেখানে আহত সৈনিকদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছিল। খন্দক যুদ্ধের সময় বিখ্যাত সাহাবী সা’দ ইবন মুআয আহত হলে নবী সা. তাকে রাফিদার ভ্রাম্যমান হাসপাতলে নিয়ে যাওয়ার জন্য আদেশ করেছিলেন। যাতে নবী সা. কাছ থেকে তাকে দেখাশুনা করতে পারেন।

মুসলিম শরীফে আয়শা থেকে বর্ণিত আছে, ‘সা’দ ইবন মুআয়ায খন্দক যুদ্ধের দিন বনু মাখযুম গোত্রের চুক্তিবদ্ধ মিত্র আবু উসামা আল জাশামী কর্তৃক নিক্ষিপ্ত একটি তীর দ্বারা আহত হয়ে ছিলেন। তখন রাসুল সা. রোফাইদা রা.কে বলেছিলেন, তিনি যেন মসজিদে নববীর অদূরে একটি তাবু স্থাপন করেন। আর তাতে সা’দ ইবন মুয়াযের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ইমাম বুখারী তাঁর আদাবুল মুফরাদে মাহমুদ ইবন লাবিদ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘খন্দক যুদ্ধে দিন যখন সা’দ ইবন মুয়াযের বাহুর রগ কাটা গেল, রক্তপাতের কারণে তিনি দুর্বল হয়ে পড়লেন তখন রাসুল সা. আদেশ করলেন তোমরা তাকে রোফাইদা নামক এক মহিলার তাবুতে নিয়ে যাও। তিনি আহতদের চিকিৎসা সেবা দিতেন। অতপর রাসুল সা. যখন বিকালে তার পাশ দিয়ে যেতেন বলতেন কিভাবে তোমার বিকাল গেল। আবার যখন সকালে তার পাশ দিয়ে যেতেন তখন বলতেন কিভাবে তোমার সকাল গেল? তখন সা’দ রা. তাকে তার শারীরকি অবস্থার খবর দিতেন। (আদাবুল মুফরাদ, নাসির উদ্দিন আলবানী, হাদীসটি সহীহ বলে মন্তব্য করেছেন।)

রাসুল সা. এ মহিলাকে যথাযথ মূল্যায়ন করতেন। মুল্যায়ন স্বরূপ পুরুষ মুজাহিদদের যেরূপ গনীমতের মাল দিতেন তেমনি তাকেও সমান গনীমতের মাল দিতেন। আবু আমর ওয়াকেদী থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি খাইবার যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। তখন রাসুল সা. তাকে পুরুষদের সমান গনীমতের মাল দিয়ে ছিলেন।

তিনি চিকিৎসা সেবা দানের পাশাপাশি মুসলিম নারীদেরকে রোগীদের চিকিৎসা দান সেবাদান পদ্ধতিও শিখাতেন। তার এই মেডিকালের ছাত্রিদের মাঝে নবী সা. এর স্ত্রী উম্মল মুমেনীন আয়শা রা.ও ছিলেন।

রাসুল সা. এর মহিলা সাহাবীর জীবন থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি।

লেখক: অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, কুষ্টিয়া

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত