ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

ডা. তারাকী হাসান মেহেদী

মেডিকেল অফিসার, বিসিএস (স্বাস্থ্য)।


২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০৩:২৯ পিএম

মরুভূমির দেশ মালিতে

মরুভূমির দেশ মালিতে

লাল মাটির মহাদেশ আফ্রিকা। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সে জাতিসংঘের চার্টার্ড বিমানে করে ঢাকা থেকে মালির রাজধানী বামাকোতে এসে পোঁছাতে লাগলো প্রায় ষোল ঘন্টা।

সাব সাহারান ৪৬ টি দেশের মধ্যে মালি একটি। নেট ঘেটে তাপমাত্রা দেখেছিলাম চল্লিশ ডিগ্রির উপরে। কিন্তু বামাকো এয়ারপোর্টে নেমে আবহাওয়া বেশ স্বস্তিদায়ক মনে হল। ত্রিশের ঘরের মধ্যেই তাপমাত্রা ছিল। রাতের বেলা হালকা ঝড়সহ বৃষ্টিও হল।

মালির জাতিসংঘ মিনুসমা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের দুটো টিম কাজ করছে। একটি রাজধানী বামাকোতে, আরেকটি সাহারা মরুভূমির পাশেই তিম্বুকতু প্রদেশের গোন্দামে। আমাদের ক্যাম্পটা গোন্দামে।

বামাকোতে যে ক্যাম্প, সেটি জাতিসংঘ মিশনের সুপার ক্যাম্পের মধ্যে। বিভিন্ন দেশের বাহিনীও রয়েছে এখানে। গোন্দামে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে এখানে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে আমাদের।

গতকাল সিও মামুন স্যারের সুবাদে বাহিরে বের হয়ে রাজধানী দেখার সুযোগ হল।

প্রথমে লা আমিতি হোটেলে গিয়ে ডলার ভাংগানোর কাজ সারা হল। মোটামুটি সবাই এখান থেকে মুদ্রা রুপান্তর করে নেয়। ফলে এখানকার মানি এক্সচেঞ্জার কিছু বাংলাও শিখে গেছে।

মালির মুদ্রা পশ্চিম আফ্রিকান সিএফএ ফ্র্যাঙ্ক। অনেকে সেফা বলে। প্রতি ডলারে পাওয়া গেল পাঁচশ পঁচাশি সিএফএ। একশ ডলার ভাংগিয়ে সাড়ে আটান্ন হাজার, পকেট বেশ ভারি মনে হল।

ডলার ভাংগানোর পর গেলাম ট্রানজিট ক্যাম্পে। এখানে আমাদের ফোর্সের লোকজন ছিল। এক ক্যাম্প থেকে আরেক ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য মধ্যবর্তী যে ক্যাম্পে কিছুদিন থাকা হয়, সেটাকে ট্রানজিট ক্যাম্প বলে। এখানে আবার বাংলাদেশ আর্মির একটা ট্রান্সপোর্ট টিম আছে।

মালির রাজধানী বামাকো অন্যান্য আফ্রিকান দেশের মতই। ছুটির দিন হওয়াতে রাস্তাঘাট বেশ ফাঁকা ছিল। লোকজন বেশিরভাগ হালকা মোটরসাইকেলে করে চলাচল করে। বেশিরভাগ লোকই নিম্ন আয়ের এখানে। তবে মানুষজন খুব আন্তরিক।

গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর মালির স্বাধীনতা দিবস ছিল। ফ্রান্সের কাছে থেকে মালি স্বাধীন হয়, কিন্তু মালিতে ফ্রান্সের প্রভাব এখনো বিদ্যমান। এমনকি এদের জাতীয় ভাষাও ফরাসি।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মালিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। বিরোধী দল এদিন যাতে বিক্ষোভ না করতে পারে, সেজন্য গতকাল ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন ছিল।

মরুভূমির দেশ হিসেবে মালিতে পানির উৎস খুবই কম। বামাকোর পাশ দিয়ে নাইজার নদী বয়ে গেছে, বর্ষাকাল হওয়াতে এখন বেশ উপচে ভরা অবস্থা।

সুপার ক্যাম্পের ভেতর সুইমিং পুল আছে একটা। সেখানে গিয়ে মারিও এর সাথে পরিচয় হল। সুইজারল্যান্ডের নাগরিক মারিও সুইমিং ও ডাইভিং ইন্সট্রাকটর হিসেবে মিশনে কাজ করছে। কিন্তু তার আফসোস, মালিতে  ড্রাইভিংয়ের জন্য পানি নেই তেমন। স্ত্রী হিসেবে এশিয়ান মেয়েদের বেশ প্রশংসা করলেন তিনি।  নিজেও এক থাই মেয়েকে বিয়ে করেছেন।

মালিতে বিশেষ করে উত্তর মালিতে গোত্রগত সংঘাতই অস্থিতিশীল পরিবেশের জন্য দায়ী। সেটা নিয়ে বিস্তারিত পরে আরেকদিন লেখা যাবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত