ঢাকা      মঙ্গলবার ১৮, জুন ২০১৯ - ৫, আষাঢ়, ১৪২৬ - হিজরী

প্রশাসন ক্যাডারে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের শিক্ষার্থীর সফলতার গল্প

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: ভোলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হয়েছেন ডা. মোহাম্মদ মফিজুর রহমান। তিনি ঢাকা ডেন্টাল কলেজের ৩৪তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বুধবার (গত ১৯ সেপ্টেম্বর) তার পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বর্তমানে তিনি জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।

শুক্রবার দুপুরে প্রশাসনের মেধাবী এ কর্মকর্তা মেডিভয়েসকে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন। মেডিভয়েসের সঙ্গে আলাপনে ওঠে আসে তার বর্ণাঢ্য জীবনের গল্প।

বেড়ে ওঠার গল্প
ডা. মফিজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা ইউনিয়নের মান্দারতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিন। বাবার চাকরির সুবাধে তিনি বেড়ে ওঠেছেন রাজধানীর আগারগাঁওয়ে।

তার স্কুল জীবন শুরু হয় ঢাকার আগারগাঁও তালতলা সরকারি কলোনি উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখানে তিনি কৃতিত্বের এসএসসি উত্তীর্ণ হন। আর এইচএসসি পাস করে ঢাকা সিটি কলেজ থেকে। এরপর সুযোগ পান এশিয়া উপমহাদেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা ডেন্টাল কলেজে। সেখানে তিনি কৃতিত্বের সঙ্গে বিডিএস পাস করেন। 

স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে ডা. মোহাম্মদ মফিজুর রহমান

প্রেরণায় বাবা-মা 

জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে বর্তমানে যে সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করেছেন। এজন্য তার বাবা-মায়ের অবদানই সবচেয়ে বেশি ছিল বলে জানান ডা. মফিজুর রহমান। তার বাবা ছিলেন প্রথম শ্রেণির একজন সরকারি কর্মকর্তা।

সহকারী ডেন্টাল সার্জন হিসেবে কর্মজীবন শুরু
ডা. মফিজুর রহমান ২৫তম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যোগদান করেন।

স্বাস্থ্য ক্যাডার থেকে প্রশাসন ক্যাডারে

২০০৮ সালে তিনি (২৭তম বিসিএস ক্যাডারে) বিসিএস প্রশাসনে আসেন। পাবনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে তিনি যোগদান করেন। পরে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৭ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে বর্তমানে তিনি জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর ফুলেল শুভেচ্ছা জানান উপজেলার প্রশাসন কর্মকর্তারা

সেখানে তিনি জড়িয়ে পড়েন নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে। বিভিন্ন স্কুলে বৃক্ষরোপণ, বন্যায় দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন গণমুখী কার্যক্রম এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলে।

অষ্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষায় জীবনের টার্নিং পয়েন্ট
চাকরিতে যোগদানের পর অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি ইউনিভার্সিটিতে এলএলএম সম্পন্ন করেন। অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থিত এ বিদ্যাপীটটি সারা বিশ্বের অনন্য স্থাপত্যশৈলীর একটি। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অগণিত শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার্থে এখানে ভর্তি হচ্ছেন। পিএইচডি ডিগ্রির জন্যও বিশ্ববিদ্যালয়টির যথেষ্ট খ্যাতি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের নাম করা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পণ্ডিত ব্যক্তিত্বগণ এখানকার গর্বিত শিক্ষক।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন গবেষণায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সরাসরি সম্পৃক্ত। সবুজ বাগিচায় আচ্ছাদিত নয়নাভিরাম এ ক্যাম্পাসে পড়াশোনার সময় তার চিন্তার জগতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। সেখানেই পড়াশোনার সময় তিনি স্বপ্ন বুনেন লাল সবুজের বাংলাদেশকে ঘিরে। এছাড়াও অষ্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার সময় তিনি সেখানকার ডেভেলপমেন্ট, অষ্ট্রেলিয়ানদের জীবনাচার ইত্যাদি দেখেছেন খুবই কাছ থেকে। এতে তিনিও প্রভাবিত হয়েছেন। এটাকেই তিনি তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট বলে মনে করেন। ওই জিনিসটাই তিনি এখন তার কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়তই কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।

অখণ্ড অবসরে 
অবসরে তিনি বই পড়েন। এছাড়াও তিনি অবসরে গান শুনেন। আধুনিক গান তার বিশেষ পছন্দ। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি গানের বিশেষ অনুরক্ত।

স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে ভাবনা

স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে ডা. মফিজুর রহমান মেডিভয়েসকে বলেন, আমাদের দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও উন্নত করতে হবে। আমাদের দেশের স্বাস্থ্যসেবায় আইন-কানুন চিকিৎসকরা তেমন অনুসরণ করেন না। অনেক ডাক্তারই মেডিকেলের এথিক্স পালন করছেন না। যেমন ডাক্তাররা ইচ্ছেমত এন্টিাবায়োটিক দিচ্ছেন, ফার্মেসিতে গেলেই এন্টিবায়োটিক পাওয়া যাচ্ছে। যার ফলে পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি করে। জনসাধারণের জন্য এটা অনেক ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আর চিকিৎসাসেবাও যথাযথ নিশ্চিত হয় না। তিনি সব চিকিৎসককে মেডিকেলীয় এথিক্স যথাযথভাবে পালনের অনুরোধ জানান।

আরও পড়ুন

►ভুটানের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ময়মনসিংহ মেডিকেলের শিক্ষার্থী!

►হাত-পা ঘামা নিয়ে যন্ত্র তৈরি: ড. খন্দকার সিদ্দিক-ই-রব্বানীর বিশেষ সাক্ষাৎকার

চিকিৎসক থেকে রাষ্ট্রপ্রধান

►পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়া নারী চিকিৎসকের গল্প

► বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া এক বাংলাদেশি চিকিৎসকের গল্প

►একজন চিকিৎসক নাট্যনির্মাতার কথা

► বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রথম হওয়া উর্মিতার গল্প

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর