ঢাকা      রবিবার ২৪, ফেব্রুয়ারী ২০১৯ - ১১, ফাল্গুন, ১৪২৫ - হিজরী

স্বাস্থ্য ক্যাডারে কেন নিজ এলাকায় নিয়োগ পাচ্ছেন না চিকিৎসকরা?

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পান চিকিৎসকরা।  প্রথমে সহকারী সার্জন হিসেবে তাদের চাকরিজীবন শুরু হয়। পদায়ন নীতিমালা অনুযায়ী প্রথম দুই বছর বাধ্যতামূলকভাবে উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে সব চিকিৎসককে সেবা দিতে হয়।

দুর্গম বা পার্বত্য এলাকার ক্ষেত্রে এ নিয়ম এক বছরের। চিকিৎসকদের গ্রামে থাকতে আগ্রহী করে তোলার জন্য পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু অলিখিত নিয়ম অনুসরণ করা হতো। নিজ উপজেলা বা জেলায় পোস্টিং, স্বামী-স্ত্রীর একই জায়গায় পোস্টিং- এগুলো ছিল এসব অলিখিত নিয়মের অংশ।

বিভিন্ন সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধিরাও এসব নিয়মের কথা প্রকাশ্য বক্তব্য বিবৃতিতে উল্লেখ করতেন। নিজ নিজ উপজেলায় পোস্টিং দেয়ায় স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও চমৎকার পরিবর্তন আসছিল। পরিচিত পরিবেশ এবং জনসাধারণের মধ্যে হওয়ায় উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ডাক্তারদের অনুপস্থিতির হারও কমে আসছিলো।

কিন্তু সাম্প্রতিক বিসিএসগুলোর পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মানা হচ্ছে না এসব নিয়ম। বরং এসব নিয়ে এক ধরণের কান্ড দেখা যাচ্ছে।

সর্বশেষ ৩৬ বিসিএসের যোগদান অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম ঘোষনা দিয়েছিলেন, চিকিৎসকদের নিজ নিজ জেলা/ উপজেলায় পোস্টিং দেয়া হবে। মন্ত্রী আরো বলেছিলেন, নিজ নিজ উপজেলায় সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা আন্তরিক হয়ে থাকেন। কিন্তু দুই দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণের পর যখন মন্ত্রনালয় থেকে পোস্টিং অর্ডার প্রকাশ করা হয়, তাতে দেখা যায়, মাননীয় মন্ত্রীর এই নির্দেশনা মানা হয়নি। অধিকাংশ চিকিৎসককেই নিজের জেলা/ উপজেলায়তো নয়ই, নিজ বিভাগেও পোস্টিং দেয়া হয়নি।

মেডিভয়েসের কাছে টেলিফোনে ভুক্তভোগী অন্তত ২০জন চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাদের নিজের জেলা বা উপজেলা থেকে সর্বোচ্চ দূরত্বে পোস্টিং দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগের চিকিৎসককে রংপুর বিভাগে, আবার রংপুর বিভাগের চিকিৎসককে চট্টগ্রাম বিভাগে পোস্টিং দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে, নারী চিকিৎসকদের বেলায় দেখা গেছে, মন্ত্রণালয় আরও কঠোর নির্মম। অনেককে নিজের জেলা/উপজেলা থেকে ৩০০-৪০০ কিলোমিটার দূরে পোস্টিং দেয়া হয়।

মেডিভয়েসের সঙ্গে আলাপে সদ্য নিয়োগকৃত চিকিৎসকরা এ নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝিনাইদহের মহেশপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন চিকিৎসককে পোস্টিং দেয়া হয়, যাদের কারো বাড়িই ঝিনাইদহে নয়৷ আবার মহেশপুরে স্থায়ী ঠিকানা এরকম একজন চিকিৎসককে পোস্টিং দেয়া হয়েছে বান্দরবানে।

চট্টগ্রামে স্থায়ী ঠিকানা এরকম একজন নারী চিকিৎসককে পোস্টিং দেয়া হয়েছে সিলেটে, আবার সিলেটে স্থায়ী ঠিকানা এরকম একজন এরকম একজন চিকিৎসককে পোস্টিং দেয়া হয়েছে দিনাজপুর। গোটা পোস্টিং অর্ডারেই দেখা যায়, অল্প কিছু চিকিৎসক ছাড়া অধিকাংশকে নিজের আশে পাশের জেলা/উপজেলা থেকে সর্বোচ্চ দুরত্বে পোস্টিং দেয়া হয়েছে।

এদিকে দেশের প্রথিতযশা চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, চিকিৎসকদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় পদায়ন করলে কাজে গতিশীলতা বাড়ে। তাদের অভিমত, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত তাদের বিভাগীয় পর্যায়ে রাখা। আর চিকিৎসকরা যদি সংশ্লিষ্ট এলাকায় পোষ্টিং নেয়ার পর দায়িত্ব পালন না করেন তাহলে সে বিষয়ে আলোচনায় আসা উচিত বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব মেডিভয়েসকে বলেন, স্বাস্থ্য পেশা অন্যান্য পেশার মতো নয়, চিকিৎসকদের কাজের জন্য অপশন থাকা দরকার।  সরকারের উচিত যারা স্বাস্থ্য ক্যাডারে উত্তীর্ণ হবেন তাদের সামনে পোস্টিংয়ের অপশন রাখা। আর যারা জয়েন করতে না চাইলে তাদেরকে কোয়ালিফাই তালিকা থেকে বাদ দেবে। তাহলেই তো সমাধান হয়ে যায়।

আর স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজ জেলা-উপজেলায় চিকিৎসকদের পদায়নের বিষয়টা আবেগের বশবর্তী হয়ে বলেছেন বলে মনে করছেন তিনি।  এরকম কথাবার্তা বললে তাদের বিশ্বস্ততা নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।  আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত আগে শূন্য পদগুলো ঘোষণা করা। যারা সেসব এলাকায় যোগদানে ইচ্ছুক তারা যোগদান করবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ মেডিভয়েসকে বলেন, চিকিৎসকদের নিজ এলাকায় পদায়ন করলে কাজে গতিশীলতা আসবে। চিকিৎসকদের জোর করে পোস্টিং দিলে তাদের মানসিক চাপ পড়তে পারে। আর সেক্ষেত্রে সেবাখাত ব্যহত হতে পারে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নিদের্শনা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকদের নিজ জেলা উপজেলার বাইরে কেন পোস্টিং দেয়া হয় জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) অধ্যাপক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ডাক্তারদের নিজ এলাকায় পোস্টিং দিলে তাদের অধিকাংশই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না। অনেকই কাজ না করে বেতন তোলেন। সারা দেশে এই মুহূর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আড়াই হাজার ডাক্তার থাকার কথা। কিন্তু আমাদের হিসেব অনুযায়ী মেডিকেল অফিসার আছেন ১৭ হাজার। তাহলে বাকি চিকিৎসকরা কোথায়? আর ডাক্তারদের এই লুকোচুরি ঠেকাতেই দূরে পোস্টিং দেয়া হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মেজর ডা. রবীনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

মেজর ডা. রবীনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

মেজর ডা. মেহেদী হাসান রবিন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৪৫তম ব্যাচের প্রাক্তন…

চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই চিকিৎসকের মৃত্যু

চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই চিকিৎসকের মৃত্যু

ইনসেটে নিহত ডা. ইমতিয়াজ ইমরোজ ও  মো. আশরাফুল হক। ফাইল ছবি মেডিভয়েস…

হাসপাতালে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

হাসপাতালে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: যে কোনো দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ বন্ধের আহ্বান…

১০ এপ্রিলের মধ্যেই ৩৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল

১০ এপ্রিলের মধ্যেই ৩৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যেই ৩৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা…

নাটোরে চিকিৎসকের নামে মামলার হুমকি ওসির

নাটোরে চিকিৎসকের নামে মামলার হুমকি ওসির

মেডিভয়েস রিপোর্ট: তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাটোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের…

দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় বিএসএমএমইউ চিকিৎসকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় বিএসএমএমইউ চিকিৎসকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কার্ডিওলোজী বিভাগের কনসালটেন্ট ডা.…

আরো সংবাদ
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর