ঢাকা      শনিবার ১৫, ডিসেম্বর ২০১৮ - ৩০, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. শিরীন সাবিহা তন্বী

মেডিকেল অফিসার, রেডিওলোজি এন্ড ইমেজিং ডিপার্টমেন্ট,

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বরিশাল।


সন্তান প্রহারকে না বলুন

খুব ই অস্থির, ব্যস্ততার দুর্বার গতিময় এবং নানাবিধ জটিলতার মাঝে ধাবমান আপনার জীবনে একটি অবশ্যম্ভাবী দায়িত্ব আপনার সন্তান।একজন নারী যখন মা, তিনি কর্মজীবী বা গৃহিনী যাই হোক এই সময়ের প্রেক্ষাপটে তার জীবনের প্রথম এবং প্রধান ইস্যুই তার সন্তান।

মাঝে মাঝেই মায়েদের একটা হাহাকার শোনা যায়।সন্তানকে মেরেছি।খারাপ লাগছে।কষ্ট লাগছে। স্বভাবতই পৃথিবীর সব থেকে কষ্টকর ঘটনার একটি এটি।

ঘটনা গুলো একটু বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে একজন মা শখ করে সন্তানকে মারছে না।তবে অনেক গুলো রিস্ক ফ্যাক্টর এখানে কাজ করে।

সন্তান যদি তুলনামূলক কম বুঝদার হয়।অহেতুক বায়না করার অভ্যাস থাকে।মা বদরাগী হয়।তাহলে এই ইভেন্ট ঘটতে পারে।সবথেকে বেশী হয় সন্তান লালন পালন কঠিন পথ পাড়ি দেয়ার সময় মা যদি সাপোর্টিভ পরিবেশ না পায়।

কোন যুক্তি দিয়েই কোমলমতি সন্তানকে প্রহার করার ঘটনার গ্রহনযোগ্যতা পাওয়া সম্ভব না। তবু এটা ঘটে যায়। সবথেকে বড় কথা কোন মা তার সন্তানকে তার শারিরীক মানসিক সামাজিক অবস্থা ভেদে সহ্যসীমার বাইরে না গেলে মারেন না। এই বিশ্বাস টা মনে রেখে এ ধরনের ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যদের সচেতন হতে হবে এবং মায়ের প্রতি সন্তান পালনে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিতে সহনশীল হতে হবে। সদয় দৃষ্টি দিতে হবে।

একটা সন্তান কখন ও তার মায়ের একার রেন্সপন্সিবিলিটি না। ইসলাম ধর্মে হযরত মূসা (আঃ) এর সেই কথন টুকু সকলের ই মনে আছে হয়ত। সন্তান সৃষ্টিকর্তা গাছের ফুলের মতো জন্ম দেননি। যে পছন্দ মতো তুলে এনে যথেচ্ছা লালন করব। সন্তান একটি দীর্ঘমেয়াদী ধর্মীয় সামাজিক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াতে একটি পরিবারের অংশ হচ্ছে।

একটি শিশু ঐ পুরো পরিবারের শতভাগ দায়িত্ব। আর যার যার উপর অর্পিত এই দায়িত্ব সঠিক রূপে পালন ই ধর্ম। ধর্ম আকাশ থেকে উড়ে আসা কাল্পনিক কোন বস্তু নয়।

তবু যেহেতু একটি শিশু মায়ের সাথে সবথেকে বেশী সময় কাটায়। আর সমাজে ৮০ভাগ পরিবার ই সঠিক পারিবারিক শিক্ষায় শিক্ষিত নয়, শিশুর পিতা এবং অন্যান্য রা শিশুকে জোড় পূর্বক আপনার উপর চাপিয়ে দিয়ে পৈশাচিক আনন্দ পায়।তাই আন্তরিক পরামর্শ থাকবে যখন আপনি রাগ করবেন বা প্রচন্ড কষ্ট পাবেন তখন সন্তানের থেকে দূরে অবস্থান করুন।

হিউম্যান সাইকোলজি ই এমন। যেহেতু বাচ্চারা প্রতিবাদ করতে পারে না। তাই আমাদের জীবনে যে সকল যন্ত্রনাদায়ক মানুষ পরিবেষ্টিত থাকে তাদের অভদ্র আচরণ কিংবা নিজের দুর্ভার্গ্যের কষ্টের পাহাড় বইতে না পেরে আমরা সন্তানকে প্রহার করি।

অতিরিক্ত রাগ বা কষ্টের অনুভূতির তীব্রতায় ঐ সময়ে আমাদের যুক্তিবাদী মন কাজ করে না। আমরা তাই রাগ টা প্রশমিত করতে বাচ্চাকে মারি, যে রাগের সঠিক কারণ হয়ত বাচ্চার বাবা, চাকরির ঝামেলা বা সংসারের দায়িত্বের বোঝা।

তাই ঐ বিশেষ তীব্র রাগের মুহূর্ত পার হতে দিন। সন্তানের থেকে দূরে থাকুন। রাগ একটু কমলে যুক্তিবাদী মন যুক্তি দিতে শুরু করবে। বাচ্চাকে মেরে কোন লাভ নাই। ঘটনার কোন কিছু এতে পরিবর্তিত হবে না এই যুক্তি মস্তিষ্কে কাজ করতে শুরু করবে।

আপনি তখন আর সন্তানকে মারবেন না। পরবর্তীতে অযাচিত কষ্টও পাবেন না।

তাই পরিবর্তিত সময়ে জীবন চলার পথ যতই কঠিন হোক। চাকরি, মেইড, হাজবেন্ড, ইন ল - যে যত অশান্তি করুক এগুলো সাময়িক। এই ভাবনা মাথায় রেখে - সেইভ ইওর চাইল্ড ফরম ইওর এঙ্গার!

আর যে সকল স্বামী এবং পরিবার ইতিমধ্যে স্ত্রী সন্তানের প্রতি যত্নবান আপনাদের জন্য শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।

আর যারা এখনও স্ত্রীকে সব কাজের কাজী বিনে বেতনের পার্মানেন্ট গৃহকর্মী ভাবছেন, তাদের বলছি। আপনার সন্তান সৃষ্টিকর্তা থেকে আপনার উপর অর্পিত উপহার এবং দায়িত্ব। তার অহিংস এবং আনন্দময় পরিবেশে সুন্দর ভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করাই পিতৃত্ব। এটাই ইবাদত।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন!

প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন!

রোগীর মুল সমস্যা, উপরের পেটে ব্যথা, বুকে জ্বালাপোড়া, পিঠে ব্যথা, দুর্বলতা। একটা…

আবেগীয় স্মৃতির গুদামঘর

আবেগীয় স্মৃতির গুদামঘর

ইন স্টিমের উপরে কাঠবাদামের আকারের অঞ্চলটির নাম "এমাগডেলা"। লিম্বিক সিষ্টেমের দুটি অংশ…

ক্লিনিক মালিকের আবদার টেস্ট বেশি দিতে হবে!

ক্লিনিক মালিকের আবদার টেস্ট বেশি দিতে হবে!

নোয়াখালী অঞ্চলে এক ক্লিনিকে কিছুদিন চাকুরী করেছিলাম। ডাক্তার সমাজে খন্ডকালীন এসব চাকুরীকে…

অধ্যাপক মনসুর খলিল স্যারকে শেষ দেখা!

অধ্যাপক মনসুর খলিল স্যারকে শেষ দেখা!

আজ থেকে তিন বছর আগে ২০১৫ সনের ডিসেম্বরের ৭ তারিখে আমি বদলী…

সুইসাইড ও পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার

সুইসাইড ও পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার

"স্যার আদাব, অপিসি পয়সনিং, পুলিশ কেইস..." মোবাইলে ইমার্জেন্সী চিকিৎসকের ফোন পেয়ে আউট…

'এইবার মিয়াসাব তাবিজের পাশাপাশি ওষুধ খাইতে বলছেন'

'এইবার মিয়াসাব তাবিজের পাশাপাশি ওষুধ খাইতে বলছেন'

আফিয়া বেগম উদ্ভ্রান্তের মত ৩২ বছর এর ছেলেকে নিয়ে আমার চেম্বারে আসলেন।…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর