ঢাকা      রবিবার ২৪, ফেব্রুয়ারী ২০১৯ - ১১, ফাল্গুন, ১৪২৫ - হিজরী

সংসদে বিল উত্থাপন

সংক্রামক রোগ গোপন করলে জেলসহ লাখ টাকা জরিমানা

মেডিভয়েস ডেস্ক: সংক্রামক রোগ গোপন করলে জেল-জরিমানার বিধান রেখে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) বিল-২০১৮ জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। সংক্রামক রোগের কথা গোপন রাখার কারণে আক্রান্ত কারো মাধ্যমে বিস্তার ঘটলে তাকে ছয় মাস কারাভোগের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হবে।

সোমবার এমন বিধান রেখে উত্থপিত ওই বিলে ২৩টি সংক্রামক রোগের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

রোগগুলো হলো- ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ফাইলেরিয়াসিস, ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এভিয়ান ফ্লু, নিপাহ, অ্যানথ্রাক্স, মারস-কভ, জলাতংক, জাপানিস এনকেফালাইটিস, ডায়রিয়া, যক্ষা, শ্বাসনালীর সংক্রমণ, এইচআইভি, ভাইরাল হেপাটাইটিস, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগসমূহ, টাইফয়েড, খাদ্যে বিষক্রিয়া, মেনিনজাইটিস, ইবোলা, জিকা, চিকুনগুনিয়া। তবে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দিয়ে আরও রোগের তালিকা প্রকাশ করতে পারবে বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিলটি সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের পক্ষে উত্থাপন করেন প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক। পরে বিলটি পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। পুরনো চারটি আইন পুনর্বিন্যাস করে নতুন আইন করার জন্য বিলটি আনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা ঘটাতে সহায়তা করেন বা স্থানের সংস্পর্শে আসার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি গোপন করেন, তাহলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে।

সুস্থ কেউ যাতে আক্রান্ত না হন, সেজন্য কারো সংক্রামক রোগ হলে সেই তথ্য সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানোর বিষয়টি প্রস্তাবিত আইনে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো এলাকায় সংক্রমণ দেখা দিলে তাকে ‘সংক্রমিত এলাকা’ ঘোষণা করে সেখানে কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ করার বিধানও রাখা হয়েছে।

রোগাক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত দ্রব্যাদি সরকার বিশুদ্ধ বা ধ্বংসের পাশাপাশি তাকে সরকার দূরে সরিয়ে রাখতে পারবে। সংক্রমিত স্থান বা স্থাপনা জীবাণুমক্ত বা বন্ধ করতেও ব্যবস্থা নিতে পারবে। সংক্রামক ব্যক্তি রোগ সম্পর্কে জানার পরও মিথ্য বা ভুল তথ্য দিলে সর্বোচ্চ দুই মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া হবে।

বিলে বলা হয়েছে, যদি কোনো স্থাপনা জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনকে জানাতে হবে। সিভিল সার্জন সেটি ধ্বংস করার জন্য মালিককে নির্দেশ দিতে পারবেন। জীবাণুযুক্ত যানবাহন প্রয়োজনে জব্দ করতে পারবে সরকার।

ট্রাস্টের আওতায় আসছে কমিউনিটি ক্লিনিক 

দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে ট্রাস্টের আওতায় আনতে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট বিল-২০১৮’ সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। কর্মীদের স্থায়ীকরণ, বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুযোগ, গ্রাচুইটি এবং অবসর ভাতার সুবিধা রাখা হয়েছে এ প্রস্তাবিত আইনে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিলটি উত্থাপন করলে একদিনের মধ্যে তা পরীক্ষা করে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে একটি প্রকল্পের আওতায় (কমিউনিটি) ক্লিনিকগুলো চলছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে ক্লিনিকগুলো ট্রাস্টের আওতায় চলে আসবে।’ 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই ট্রাস্টের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ট্রাস্টের তহবিল ব্যবহার করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া।’

বিলে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদফতর, বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) জেলা সিভিল সার্জন, উপ-পরিচালক পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সঙ্গে সুষ্ঠু সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বিলে বলা হয়েছে, ট্রাস্টে সরকারি থোক বরাদ্দ থাকবে, অনুদান থাকবে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন বা ব্যক্তি বিশেষ এখানে দান বা অনুদান করতে পারবেন।

প্রস্তাবিত বিলে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী ট্রাস্টের উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া একটি বোর্ড থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত ‘সামজহিতৈষী’ ব্যক্তি হবেন এই বোর্ডের সভাপতি।

সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব বোর্ডে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে থাকবেন।বোর্ডের সদস্য হবে ১৪ জন।

বিলে উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটি স্থায়ী ও শক্তিশালী হিসেবে চলমান রাখা এবং এর জনবলের চাকরিকালীন সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা; গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে অধিকতর স্বচ্ছ, দক্ষ ও টেকসই সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় রেফারেল সিস্টেম চালু করার জন্য একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।’

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে ১৩ হাজার ৮৬১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এ ধরনের আরও এক হাজার ২৯টি ক্লিনিক বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা আছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

মেজর ডা. রবীনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

মেজর ডা. রবীনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

মেজর ডা. মেহেদী হাসান রবিন। সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ৪৫তম ব্যাচের প্রাক্তন…

চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই চিকিৎসকের মৃত্যু

চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুই চিকিৎসকের মৃত্যু

ইনসেটে নিহত ডা. ইমতিয়াজ ইমরোজ ও  মো. আশরাফুল হক। ফাইল ছবি মেডিভয়েস…

হাসপাতালে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

হাসপাতালে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ বন্ধ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: যে কোনো দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ বন্ধের আহ্বান…

১০ এপ্রিলের মধ্যেই ৩৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল

১০ এপ্রিলের মধ্যেই ৩৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যেই ৩৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা…

নাটোরে চিকিৎসকের নামে মামলার হুমকি ওসির

নাটোরে চিকিৎসকের নামে মামলার হুমকি ওসির

মেডিভয়েস রিপোর্ট: তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাটোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসকের…

দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় বিএসএমএমইউ চিকিৎসকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় বিএসএমএমইউ চিকিৎসকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কার্ডিওলোজী বিভাগের কনসালটেন্ট ডা.…

আরো সংবাদ
























জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর