ঢাকা      রবিবার ২১, অক্টোবর ২০১৮ - ৫, কার্তিক, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বিভাগীয় প্রধান, প্যাথলজি,

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ।


‘ডাক্তার সাব, আপনি স্টেথোস্কোপ কানে লাগাননি’

১৯৮৫ সনে যখন আমরা এমবিবিএস পাস করার পর ইন-সার্ভিস-ট্রেইনিং করতাম তখন প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে ক্লিনিক্যাল এসিস্টেন্ট বা সিএ থাকতেন। এখন এই পোস্টের নাম এসিস্টেন্ট রেজিস্টার। 

ওয়ার্ডের সকল রোগীর সার্বিক দায়িত্বে থাকতেন এই সিএ সাহেব। সিএ সাহেবকে আমরা ভাইয়া বা ভাই বলে সম্ভোধন করতাম। সকাল আটটায় এসে সিএ সাহেব সব রোগীর ফলোআপ দিয়ে ফাইলে লিখে রাখতেন। তার নোট বুকে লিখে রাখতেন যে সব রোগীর এবনর্মাল ফাইন্ডিং আছে। 

কোন কোন রোগীকে ডিপার্টমেন্টের হেডকে দেখাতে হবে। ডিপার্টমেন্টের হেড সকালে এসে অধ্যক্ষের সাথে মিটিং করে, লেকচার ক্লাস নিয়ে, লাইব্রেরি ওয়ার্ক করে হাসপাতালের চেম্বারে বসতেন। সিএ সাহেবকে ডেকে রোগীদের অবস্থা জেনে নিতেন। তারপর ওয়ার্ডে রাউন্ড দেয়া শুরু করতেন।

আমি যে ওয়ার্ডে ট্রেইনিং নিচ্ছিলাম সেই ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান রাউন্ড দেয়া শুরু করলেন। আমরা দলবদ্ধভাবে স্যারদের পিছু পিছু থেকে স্যারদের থেকে শিখে নিতাম। সব রোগী স্যার দেখতেন না। সিএ সাহেবের রিকুয়েস্ট অনুযায়ী তিনি রোগী পরীক্ষা করতেন। স্যারের গায়ে এপ্রোন থাকতো। গলায় ঝুলানো থাকতো স্টেথোস্কোপ। 

রোগীর বেডের পাশে দাঁড়িয়ে বুকের উপর স্টেথোস্কোপ ধরে রোগীকে লম্বা শ্বাস নিতে বলতেন। স্টেথোস্কোপ সরিয়ে সরিয়ে বুকের উপর ধরতেন আর মুখে বলতেন ‘শ্বাস, শ্বাস, শ্বাস।’ এই কথা বলতে স্যারের কখনো ভুল হতো না। আমরাও স্যারের মতো করে বলতে চেষ্টা করতাম ‘শ্বাস, শ্বাস, শ্বাস।’ 

একবার পাশের রোগীর শ্বাস দেখে স্যার চলে যাচ্ছিলেন অন্য রোগীর কাছে। কারণ, সিএ সাহেবের লিস্টে এই রোগী ভাল আছেন। স্যারকে দেখতে হবে না। 

ভাল রোগীটি স্যারকে ডেকে বললেন, ডাক্তার সাব আমাকে একটু দেখুন বলে বুকটা বের করে দিলেন। 
- স্যার মৃদু হেসে রোগীকে সন্তুষ্ট করার জন্য বুকের উপর স্টেথোস্কোপ ধরলেন তিন জায়গায়, আর বললেন ‘শ্বাস, শ্বাস, শ্বাস।’ 
- রোগী বললেন, ‘ডাক্তার সাব, আপনি স্টেথোস্কোপ কানে লাগাননি, লাগিয়েছেন আপনার গলায়।’ 
- স্যার আশ্চর্য হয়ে বললেন, ও তাই তো, এবার লাগালাম। শ্বাস, শ্বাস, শ্বাস।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স না পেলে এখন মেডিকেলে পড়ে!

ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে চান্স না পেলে এখন মেডিকেলে পড়ে!

মেইড ইন চায়না এখন শুধু জিনিসপত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। শুরু হয়েছে হিউম্যান রিসোর্স…

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

মুলারিয়ান এজেনেসিস: প্রকৃতির অবিবেচক খেয়াল ও প্রমিতির কান্না

প্রমিতি, বয়স- ১৬। এইচএসসি ১ম বর্ষে পড়ে। প্রাণবন্ত, উচ্ছ্বল প্রজাপতির মতো। যখন কথা…

সব মৃত্যুই দুঃখের, সুখের কোন মৃত্যু নেই!

সব মৃত্যুই দুঃখের, সুখের কোন মৃত্যু নেই!

তখন আমি সিওমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন। মেডিসিন ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছেন প্রফেসর ইসমাইল পাটোয়ারি…

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

ফাঁকিবাজির মহান ব্রত নিয়ে ইন্টার্নি শুরু করেছিলাম। আমি জন্মগত ভাবেই ফাঁকিবাজ। সবাই…

‘কেটা ফের জানতোক যে, পিঁপিয়া খাল্যে ছ্যালা ধলো হয়?’

‘কেটা ফের জানতোক যে, পিঁপিয়া খাল্যে ছ্যালা ধলো হয়?’

এক সদ্য গর্ভবতী রোগীকে কাঁচা পেঁপে খেতে নিষেধ করলাম। - আনারস আর কাঁচা…

‘বুকের ভিত্রে চ্যাংনা চ্যাঁও চ্যাঁও করে’

‘বুকের ভিত্রে চ্যাংনা চ্যাঁও চ্যাঁও করে’

ডাক্তার- আপনার সমস্যা কী? রোগী- বুকের ভিত্রে চ্যাংনা চ্যাঁও চ্যাঁও করে। ডাক্তার-…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর