ঢাকা      শনিবার ১৫, ডিসেম্বর ২০১৮ - ৩০, অগ্রাহায়ণ, ১৪২৫ - হিজরী



ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বিভাগীয় প্রধান, প্যাথলজি,

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ।


‘ডাক্তার সাব, আপনি স্টেথোস্কোপ কানে লাগাননি’

১৯৮৫ সনে যখন আমরা এমবিবিএস পাস করার পর ইন-সার্ভিস-ট্রেইনিং করতাম তখন প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে ক্লিনিক্যাল এসিস্টেন্ট বা সিএ থাকতেন। এখন এই পোস্টের নাম এসিস্টেন্ট রেজিস্টার। 

ওয়ার্ডের সকল রোগীর সার্বিক দায়িত্বে থাকতেন এই সিএ সাহেব। সিএ সাহেবকে আমরা ভাইয়া বা ভাই বলে সম্ভোধন করতাম। সকাল আটটায় এসে সিএ সাহেব সব রোগীর ফলোআপ দিয়ে ফাইলে লিখে রাখতেন। তার নোট বুকে লিখে রাখতেন যে সব রোগীর এবনর্মাল ফাইন্ডিং আছে। 

কোন কোন রোগীকে ডিপার্টমেন্টের হেডকে দেখাতে হবে। ডিপার্টমেন্টের হেড সকালে এসে অধ্যক্ষের সাথে মিটিং করে, লেকচার ক্লাস নিয়ে, লাইব্রেরি ওয়ার্ক করে হাসপাতালের চেম্বারে বসতেন। সিএ সাহেবকে ডেকে রোগীদের অবস্থা জেনে নিতেন। তারপর ওয়ার্ডে রাউন্ড দেয়া শুরু করতেন।

আমি যে ওয়ার্ডে ট্রেইনিং নিচ্ছিলাম সেই ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান রাউন্ড দেয়া শুরু করলেন। আমরা দলবদ্ধভাবে স্যারদের পিছু পিছু থেকে স্যারদের থেকে শিখে নিতাম। সব রোগী স্যার দেখতেন না। সিএ সাহেবের রিকুয়েস্ট অনুযায়ী তিনি রোগী পরীক্ষা করতেন। স্যারের গায়ে এপ্রোন থাকতো। গলায় ঝুলানো থাকতো স্টেথোস্কোপ। 

রোগীর বেডের পাশে দাঁড়িয়ে বুকের উপর স্টেথোস্কোপ ধরে রোগীকে লম্বা শ্বাস নিতে বলতেন। স্টেথোস্কোপ সরিয়ে সরিয়ে বুকের উপর ধরতেন আর মুখে বলতেন ‘শ্বাস, শ্বাস, শ্বাস।’ এই কথা বলতে স্যারের কখনো ভুল হতো না। আমরাও স্যারের মতো করে বলতে চেষ্টা করতাম ‘শ্বাস, শ্বাস, শ্বাস।’ 

একবার পাশের রোগীর শ্বাস দেখে স্যার চলে যাচ্ছিলেন অন্য রোগীর কাছে। কারণ, সিএ সাহেবের লিস্টে এই রোগী ভাল আছেন। স্যারকে দেখতে হবে না। 

ভাল রোগীটি স্যারকে ডেকে বললেন, ডাক্তার সাব আমাকে একটু দেখুন বলে বুকটা বের করে দিলেন। 
- স্যার মৃদু হেসে রোগীকে সন্তুষ্ট করার জন্য বুকের উপর স্টেথোস্কোপ ধরলেন তিন জায়গায়, আর বললেন ‘শ্বাস, শ্বাস, শ্বাস।’ 
- রোগী বললেন, ‘ডাক্তার সাব, আপনি স্টেথোস্কোপ কানে লাগাননি, লাগিয়েছেন আপনার গলায়।’ 
- স্যার আশ্চর্য হয়ে বললেন, ও তাই তো, এবার লাগালাম। শ্বাস, শ্বাস, শ্বাস।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন!

প্রেসক্রিপশনের ব্যাপারে যত্নশীল হোন!

রোগীর মুল সমস্যা, উপরের পেটে ব্যথা, বুকে জ্বালাপোড়া, পিঠে ব্যথা, দুর্বলতা। একটা…

আবেগীয় স্মৃতির গুদামঘর

আবেগীয় স্মৃতির গুদামঘর

ইন স্টিমের উপরে কাঠবাদামের আকারের অঞ্চলটির নাম "এমাগডেলা"। লিম্বিক সিষ্টেমের দুটি অংশ…

ক্লিনিক মালিকের আবদার টেস্ট বেশি দিতে হবে!

ক্লিনিক মালিকের আবদার টেস্ট বেশি দিতে হবে!

নোয়াখালী অঞ্চলে এক ক্লিনিকে কিছুদিন চাকুরী করেছিলাম। ডাক্তার সমাজে খন্ডকালীন এসব চাকুরীকে…

অধ্যাপক মনসুর খলিল স্যারকে শেষ দেখা!

অধ্যাপক মনসুর খলিল স্যারকে শেষ দেখা!

আজ থেকে তিন বছর আগে ২০১৫ সনের ডিসেম্বরের ৭ তারিখে আমি বদলী…

সুইসাইড ও পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার

সুইসাইড ও পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডার

"স্যার আদাব, অপিসি পয়সনিং, পুলিশ কেইস..." মোবাইলে ইমার্জেন্সী চিকিৎসকের ফোন পেয়ে আউট…

'এইবার মিয়াসাব তাবিজের পাশাপাশি ওষুধ খাইতে বলছেন'

'এইবার মিয়াসাব তাবিজের পাশাপাশি ওষুধ খাইতে বলছেন'

আফিয়া বেগম উদ্ভ্রান্তের মত ৩২ বছর এর ছেলেকে নিয়ে আমার চেম্বারে আসলেন।…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর