ঢাকা      শুক্রবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০১৮ - ৫, আশ্বিন, ১৪২৫ - হিজরী

ডা. রাগীব শাহরিয়ার নয়ন

একজন চিকিৎসক নাট্যনির্মাতার কথা

ঢাকা মেডিকেল কলেজের শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত ডা. রাগীব শাহরিয়ার নয়ন। পেশায় পুরোদস্তর একজন চিকিৎসক। কিন্তু এই চিকিৎসক ছাত্রজীবন থেকেই ছোটখাটো নাটক নির্মাণ করতেন। কিন্তু বর্তমানে তার পরিচালিত বেশ কয়েকটি নাটক ইতোমধ্যে প্রচারিত হয়েছে টেলিভিশনে। চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন নাটক নির্মাণেও। সম্প্রতি তার সাথে কথা হয়েছে মেডিভয়েসের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মামুন ওবায়দুল্লাহ

মেডিভয়েস: ডাক্তারি থেকে চলচ্চিত্রে কিভাবে?

ডা. রাগীব শাহরিয়ার নয়ন: মেডিক্যাল লাইফে আমরা প্রথমদিকে প্রতিবছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাটক । পনেরো মিনিটের তারপর বিশ মিনিটের এভাবে নাটেকর ডিউরেশন বাড়তো। এবং সেগুলো আমরা ইউটিউবে আপলোড করতাম। প্রথমদিকে সাত- আটহাজার দর্শক ছিল। তারপর সেটা তিন সাড়ে তিনলাখ দর্শক দেখতো।

একসময় চ্যানেল আই থেকে এক লোক আমাকে ফোন দিয়ে দেখা করতে বললো।  পরে উনি বললেন, তোমার নাটকগুলো আমি দেখেছি। তুমি তোমার নাটকটি নিয়ে এসো দেখবো প্রচার করা যায় কি না?

তারপর আমি আর বন্ধু সায়েম আমরা দুজন মিলে চ্যানেল আইতে যাই। এবং একটা  হার্ডকপি রেখে আসি। তারপর তারা আমাদেরকে জানান, নাটকটি তাদের পছন্দ হয়েছে। নাটকটির নাম ছিল “গল্পটা বন্ধুত্বের” এটি ছিল টেলিভিশনে প্রচারিত আমার প্রথম নাটক। পরে চ্যানেল আইতে নাটকটির নাম পরিবর্তন করে “বন্ধু বৃত্ত” নামে ঈদের নাটক হিসেব অনএয়ার হয়। বলতে পারেন এভাবেই আসলে শুরুর গল্পটা। কিন্তু ইউটিউবে এখনো নাটকটি “গল্পটা বন্ধুত্বের” নামেই  আছে।

পরে আমার দ্বিতীয় নাটক ছিল “এ জার্নি টু বাস”। পরে “কবির হোসেন একজন কাপুরুষ” নামে আরেকটি নাটক বানাই। সেখানে রিয়াজ, কাজী নওশাবাসহ আরো অনেকে কাষ্টিং করেন।

মেডিভয়েস: কোনটাকে উপভোগ করেন?

ডা. রাগীব শাহরিয়ার নয়ন: ডাক্তারি পেশা আসলে উপভোগ করার কিছুই নেই; এটা আসলে দায়বদ্ধতার জায়গা। আর নাটক বানাই মনের খোরাকের জন্য । সত্যি বলতে কি আমি আর আমার বন্ধু সায়েম দুজন মিলেই নাটক নির্মাণ করি। আমাদের দুই জনের বাবা মা এসব পছন্দ করেন। 

পরিবারকে মানানোর জন্যই ডাক্তারি করতে হয়। কিন্তু তারপরও নেশার জায়গাটা আসলে আমার নাটক নির্মাণ। ডাক্তারি আর নাটক নির্মাণ দুটোকে একসাথে এগিয়ে নিতে চাই।

মেডিভয়েস:ভবিষ্যত পরিকল্পনায় ডাক্তারি নাকি চলচ্চিত্র?

ডা. রাগীব শাহরিয়ার নয়ন: দুটোকেই সমানভাবে চালিয়ে নিতে চাই। কোনটাকে কমবেশি নয়।  আমরা পেটের দায়ে কখনোই নাটক বানাবো না। মনের ক্ষুধা মেটাতে নাটক বানাবো। নাটক নিয়ে কখনো পরিবার চালানোর চিন্তা নেই। পেট চালানোর জন্য ডাক্তারি করবো। কিন্তু মনের চাহিদা মেটানোর জন্য নাটক নির্মাণ করতে চাই।

মেডিভয়েস.স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আপনার পরিকল্পনা?

ডা. রাগীব শাহরিয়ার নয়ন:একটি বিষয় আমাদের খুব ভাবায়। আমাদের (ডিএমসি) পরীক্ষা নিরীক্ষার মান খুব খারাপ।  কখনো কোয়ালিটি বিবেচনা করা হয় না। যুগ ধরে এখানকার মেশিনগুলো চলছে।  মাঝে মাঝে আমরা বিভিন্ন রোগীকে বলি এসব টেস্ট অন্য জায়গা থেকে করে আনেন।  আমি যদি ভবিষ্যতে একটা জায়গায় যেতে পারি তাহলে একটা স্টান্ডার্ড মানে আনার চেষ্টা করবো।

মেডিভয়েস:ইদানিং দেখা যায় গণমাধ্যম-ডাক্তার সমস্যা, তা দূর করতে করণীয় কি?

ডা. রাগীব শাহরিয়ার নয়ন: প্রায়ই গণমাধ্যমে দেখা যায় ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু। এখন বিষয় হলো রোগী ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন এটা কে নির্ধারণ করবে? মিডিয়া নাকি সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ডাক্তার? কিন্তু আমাদের দেশে এটা প্রমাণিত হওয়ার আগেই গণমাধ্যমে চলে আসে। এতে করে একজন ডাক্তার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। এ বিষয়টার একটা সূরাহা হওয়া দরকার। তাহলে দুই পেশার মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি কমে আসবে বলে মনে করছি।

মেডিভয়েস: আপনার বেড়ে ওঠা? শৈশব কৈশোর কোথায় কেটেছে?

ডা. রাগীব শাহরিয়ার নয়ন: আমি প্রথম থেকে ষষ্ঠ শ্রেনী পর্যন্ত পড়াশুনা করি চুয়াডাঙ্গায় তারপর ঝিনাইদাহ ক্যাডেট কলেজে পড়াশুনা করি। এরপর ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাই। এখান থেকেই এমবিবিএস শেষ করি। বর্তমানে শেখ হাসিনা বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পোস্ট গ্রাজুয়েশন করছি।

মেডিভয়েস: আপনাকে ধন্যবাদ।

ডা. রাগীব শাহরিয়ার নয়ন: আপনাকেও।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


জীবন ও কর্ম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ময়মনসিংহ মেডিকেলের শিক্ষার্থী!

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ময়মনসিংহ মেডিকেলের শিক্ষার্থী!

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট: ভুটানের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ডা. লোটে শেরিং। ৫০ বছর বয়সী ডা.…

প্রতি মাসে বিনামূল্যে অন্তত ৩০০ রোগী দেখেন তিনি

প্রতি মাসে বিনামূল্যে অন্তত ৩০০ রোগী দেখেন তিনি

গ্রামের গরিব অসহায় মানুষের টাকার অভাবে চিকিৎসাহীনতা ও তাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে বড়…

আরো সংবাদ














জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর