ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

ডা. মো. ফজলুল কবির পাভেল

সহকারী সার্জন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১০:৩৮ এএম

চিকুনগুনিয়া জ্বর সম্পর্কে জেনে নিন

চিকুনগুনিয়া জ্বর সম্পর্কে জেনে নিন

এটি একটি ভাইরাস ঘটিত রোগ। এক ধরনের মশার কামড়ে এ জ্বর হয়। মশাটির নাম এডিস ইজিপ্টি। এ মশা সাধারণত দিনে কামড়ায়। চিকুনগুনিয়া জ্বর জীবনের জন্য হুমকি নয় কিন্তু আক্রান্ত হলে শারীরিক এবং আর্থিক ক্ষতি হয়। তাঞ্জানিয়া এবং মোজাম্বিকের এক জাতি কিমাকুন্দি। চিকুনগুনিয়া নামটি এসেছে কিমাকুন্দি ভাষা থেকে। এর মানে ‘যা বাঁকিয়ে দেয়’। এ জ্বরে এত বেশি শরীর ব্যথা হয় যে রোগী বেঁকে যায় ব্যথায়। 

উপসর্গঃ
ভাইরাসে আক্রান্ত মশার কামড়ের ২-৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ শুরু হয়। যে যে উপসর্গ দেখা যায় তার মধ্যে আছে; 
- জ্বর
- গায়ে ফুস্কুড়ি 
- অস্থিসন্ধিতে ব্যথা। অনেক সময় খুব তীব্র ব্যথা হয়। 
- মাংসপেশীতে ব্যথা
- বমি বমি ভাব
- বমি   
- দুর্বলতা 
- কনজাংটিভাইটিস 

চিকুনগুনিয়া জ্বর খুব মারাত্মক নয়। কিন্তু ভাল হয়ে যাবার পর দীর্ঘদিন ক্লান্তি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকে। তবে ভাল খবর হচ্ছে এ ভাইরাস মা থেকে বাচ্চার মধ্যে যায় না। 

ডায়াগনসিসঃ
চিকুনগুনিয়া জ্বরের সাথে বেশ কিছু অসুখের মিল আছে। ডেঙ্গু জ্বররের সাথে এর প্রচুর মিল। তাই নিশ্চিত হবার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা লাগে। PCR এবং ELISA এর মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে চিকুনগুনিয়া জ্বর ধরা যায়। 

চিকিৎসাঃ
চিকুনগুনিয়া জ্বরের সুনির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়। এ অসুখের কোন ভ্যাকসিন নেই। তবে কোন কোন দেশে ট্রায়াল চলছে। আশা করা যায় দ্রুত সফলতা আসবে। এ রোগে যে জ্বর ও ব্যথা হয় তার জন্য অ্যাসপিরিন তেমন কার্যকরী নয়। তবে ক্লোরোকুইন ব্যবহার করে ভাল ফল পাওয়া গেছে। 

চিকুনগুনিয়া জ্বরের প্রতিরোধ খুব একটা কঠিন নয়। মশার কামড়ের হাত থেকে বাঁচলেই এ রোগ হয় না বললেই চলে। মশারী ব্যবহার করা উচিত। আশেপাশের পরিবেশ মশামুক্ত রাখতে হবে। কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে অসুখটি প্রতিরোধ আরো সহজ হবে।  

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে