হাফিজ উদ্দিন নাঈম

হাফিজ উদ্দিন নাঈম

শিক্ষার্থী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা। 


০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:০৬ পিএম

বিশ বছর পর

  • বিশ বছর পর
  • বিশ বছর পর

বিশ বছর পরের কথা। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের বয়েজ হোস্টেলের ১১০ নাম্বার রুমের দশম ব্যাচের পুনর্মিলনী। হ্যাঁ, সত্যি বিশ বছর পার হয়ে গেছে এক সাথে আড্ডা দেওয়া হয়নি।

সবাইকে একটা দিন বের করতে বলেছিলাম। আর আজ সেই দিন, এটা  ছিল ১১০ এর গ্রীন হাউস হওয়ার দিন। গ্রীন হাউস আমাদের ১১০ নাম্বার রুমের নাম।

সকালে যখন বাসা থেকে বের হয়ে বাসে উঠলাম মনে হচ্ছিল আমি ফার্স্ট ইয়ারের সেই নাঈম। এই তো সেদিন  মেডিকেলে ভর্তি হয়েছি। অন্যরকম একটা সময় বলা চলে। কিন্তু এটা ছিল বিশ বছর পরের কথা।

বিশ বছর আগে মাথার দুই চারটা চুল বাদে সবগুলো কাল ছিল আর আজকে দুই চারটা চুল বাদে সবগুলো সাদা কিংবা ফ্যাকাশে বর্ণ ধারণ করেছে।

কলেজ গেটে নেমে সেই পথ ধরে হাঁটতে লাগলাম যেই পথ ধরে হেঁটেছি বহু দিন। আস্তে আস্তে হেঁটে চললাম।

সবাই এসে গেছে, আমার অপেক্ষায় বসে আছে।

বাঁধন আর সাজেদুর পরিবার নিয়ে এসেছে।

আমি শান্তনু একাকী এসেছি, আর তন্ময় এসেছে ভাবীকে নিয়ে।

বাঁধনের ছেলেটা বাঁধন থেকে লম্বা হয়েছে বটে। বাঁধন আর তার বউয়ের উচ্চতা সমান।

সাজেদুরের মেয়েটা সাজেদুরের মত হয়নি এটা বলতে পারি।

তন্ময়কে দেখে দার্শনিক মনে হচ্ছিল। বললাম- ভাই, রোমান্টিকতা তো সেই চলছে, একেবারে বাচ্চা কাচ্চা বাদ দিয়ে ভাবীকে নিয়ে চলে এলেন।

তন্ময় তার চিরাচরিত হাসি দিয়ে বললো এই তো চলছে।

শান্তনুকে বললাম, ভাই কি ভাবীর সাথে রাগ করেছেন? ভাবী কোথায়?

নাঈম ভাই এখনো মজা নেয়া ছাড়তে পারেননি, শান্তনু বললো।

ততক্ষণে আমাদের মাঝে উপস্থিত হলেন আনপ্রেডিকটেবল সহল। সবাই উচ্চ স্বরে সালাম। আচমকা সহল ভয় পেয়ে গেল।

সহলকে দেখে শান্তনু বলে উঠলো, ভাই একটা পার্সোনাল প্রশ্ন করি?

সহল উচ্চস্বরে হাসি দিয়ে বললো, না ভাই আর প্রশ্ন করতে হবে না।

দার্শনিক তন্ময় এখনো দার্শনিকই আছেন। তন্ময়কে আমরা কখনো কখনো সক্রেটিস বলে ডাকতাম।

হাজারী মামার দোকানে এসে কিছুক্ষণ বসলাম। শুনেছি আমরা চলে আসার তিন চার বছর পর মামাও তার গ্রামের বাড়ি ফিরে গেছেন। সেই দিনগুলো মনে পড়ে যাচ্ছে। নুডলস খাওয়ার দিনগুলো। এটা ছিল আমাদের কফি হাউস। মাগরিবের নামাজের পর এখানে দুই চারটা কথা হত নিজেদের মাঝে তারপর যে যার মত ছুটে যেত। কেউ যেত রিডিং রুমে কেউ যেত ব্যবসায় আর আমি ফিরতাম রুমে। ব্যবসা! ব্যবসা মানে টিউশনি, এটা ছিল এক বিশেষ টার্ম।

রুমে ঢুকে চোখের পানি ধরে রাখতে আর পারিনি।

রুমের দেয়ালে এখনো আমাদের নামগুলো ঠায় ক্যানভাসের মত দেখা যাচ্ছে। বুঝতে পারলাম, আজ বিশ বছর দেয়ালে কোন নতুন রং করা হয়নি। এই রুমের নতুন সদস্যরা হয়তো জানে না এরা কারা?

তিনতলার হসপিটালটা এখন ছয়তলা হয়ে গেছে। কী অপূর্ব লাগছে। ছাত্রজীবনে এরকম একটা হসপিটালের স্বপ্ন দেখতাম। হৃদয়টা হু হু করে উঠলো। ওইপাশে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে ইন্টার্ন হোস্টেল। আমরা যে বছর পাশ করি সেবারই এটা হয়েছিল। চারদিক ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। উড়ে যাওয়া ফুলের রেণু কিংবা এ ধুলি আর এই পথ আমাদের চেনে। মনে হচ্ছিল পেছন থেকে কেউ সেদিনের মত ডাকছে। একটা এম্বুলেন্স এল! হুম সেটা মর্গের দিকে ছুটে চলছে।

বাঁধনকে বললাম, ফরেনসিকের দিনগুলো কি মনে পড়ে? সেলিম স্যারের লাঠিপেটা আর জোরালো গলার স্বর?

মর্গ পেরিয়ে সামনে গেলাম। গার্লস হোস্টেলের সীমানা দেয়ালে এখনো মাথাচাড়া দিয়ে আছে একটি গেইটফুল গাছ। এই গাছটার শুদ্ধ বাংলা কি আদৌ জানি না। এটা বিশ বছর আগের সেই গাছটি নাকি নতুন তাও জানি না।

এইতো সেই হতাশার মোড়। হতাশার মোড় এখানে ক্যাম্পাসের ক্লান্ত প্রেমিকরা এসে হতাশ হয়ে যেত।

এটাই সেই রিডিং রুমের সামনের পথটা, এখানে ছিল বিহারী মামার ভ্রাম্যমাণ হোটেল। জানি না এখন উনি কোথায় আছেন। তার পাশে ছোট্ট ঝোপড়ার মত ছিল ফজলু মামার দোকান। শুনেছি ফজলু মামা অসুস্থ আছেন।

সবকিছুই চেনা জানা অথচ আজ আমিই এখানে সবার কাছে অজানা কেউ।

মুরালের সামনে গিয়ে দেখি সাজেদুর ভাবীকে নিয়ে স্যিউডো কাপলদের বসার জায়গাটাতে বসে আছে। এটা রোজ গার্ডেন, এখানে ক্যাম্পাসের স্যিউডো কাপলরা আড্ডা দিত।

বললাম, কী ব্যাপার সাজেদুর? বুড়ো বয়সে আবার কী হল?

সাজেদুর বললো, ছাত্র বয়সে এখানে প্রেমিক-প্রেমিকাদের দেখতাম খুব সুখে আড্ডা দিত; চাইলেও ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে আড্ডা দেয়া হয়নি। সে সময় মনে মনে বলতাম ইনশাল্লাহ একদিন নিজের স্ত্রীকে নিয়ে এখানে বসবো।

বললাম, বাহ!

ইহা আমার ক্যাম্পাস, বাংলাদেশের চিকিৎসা জগতের লালদুর্গ।  

করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

এক বছর প্রয়োগ হবে সেনা সদস্যদের দেহে

চীনে করোনার প্রথম ভ্যাকসিন অনুমোদন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না