ডা. ছাবিকুন নাহার

ডা. ছাবিকুন নাহার

মেডিকেল অফিসার, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


০৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১০:০১ এএম

বুক রিভিউ: পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইন অবসটেট্রিক্স এন্ড গাইনোকোলজি 

বুক রিভিউ: পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট ইন অবসটেট্রিক্স এন্ড গাইনোকোলজি 

আমরা মেডিকেল সায়েন্সের যে বইগুলো পড়ি, সেগুলোর সবই প্রায় বাইরের লেখকদের লেখা। কেস হিস্ট্রি, সিনারিও সব তাদের দেশের প্রেক্ষাপটে লিখিত। বিদেশী জল হাওয়া যেমন আমাদের সাথে মেলে না। তেমনি সে পরিবেশের রোগ শোকও মেলে না। তারপরও তাদের বই আমরা পড়ি, আমাদের মতো করে রোগী ম্যানেজমেন্ট করি। অনেকটা অন্যের হাতে খাওয়ার মতো। এতে পেট হয়তো ভরে কিন্তু মন ভরে না।

খুব আক্ষেপ ছিলো, আমাদের এত্ত এত্ত প্রতিভাবান শিক্ষক আছেন, তারা যদি আমাদের জন্য কোন বই লিখতেন! টেক্সট বুক। যা পড়ে আমরা ঠিকঠাক চিকিৎসা করতে পারব। দেশী জল ও ঘামে বেড়ে ওঠা রোগের। দেশের আলো বাতাসে বেড়ে ওঠা মানুষের।
 
অন্যান্য ডিসিপ্লিনের কিছু কিছু বই থাকলেও গাইনীর ক্ষেত্রে আক্ষেপটা বাড়ছিল দিনে দিনে। কিন্তু না, আমার আমাদের সেই আক্ষেপ এখন আশাবাদে রুপান্তরিত হয়েছে। আর যিনি এ অসাধ্য সাধন করেছেন, তিনি আর কেউ নন, আমাদের সবার প্রিয় প্রফেসর রাশিদা বেগম ম্যাডাম। যিনি ইতোমধ্যে ডাক্তার সমাজের বাতিঘর হিসাবে আমাদের মাঝে প্রমাণিত। যার মানবিকতা, সহকর্মীদের প্রতি ভালোবাসা, ডাক্তার সমাজের ওপর ঘটমান অন্যায়ের প্রতিবাদি কন্ঠস্বর এবং বলিষ্ঠ জীবন ঘনিষ্ঠ লেখা আমাদের মন ভরিয়ে দেয়। আর প্রফেশনাল হিসাবে কী বলব! যার তুলনা তিনি নিজেই। টিচার হিসাবেও তিনি অনন্য!

ম্যাডাম বই লিখেছেন। টেক্সট বুক! একেবারে ক্লিনিক্যাল অরিয়েন্টেড। আমাদের জন্য, এদেশের হতে যাওয়া এবং হয়ে যাওয়া গাইনোকলোজিষ্টদের জন্য। আমরা যারা পোষ্ট গ্রাজুয়েট পরীক্ষার্থী, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা নিয়ে আতংকে থাকি; তাদের জন্য এই বই আশির্বাদ হিসাবে কাজ করবে বলে আমার বিশ্বাস।

একটা কেস যত ভাবে প্রেজেন্ট করতে পারে তার সবগুলোই তুলে ধরা হয়েছে এবং সেই আলোকে ম্যানেজমেন্ট করা হয়েছে। পড়তে পড়তে শ্রদ্ধেয় প্রফেসর টি.এ. চৌধুরী স্যারের পড়ানোর কথা মনে পড়ছিলো। স্যার এমন সিনারিও দিয়ে দিয়ে পড়ান। আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনি। এই বইটার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। পৃথিবীর কোনো টেক্সট বুক এত্ত সুন্দর কেস ভিত্তিক এবং জীবন ঘনিষ্ঠ আছে কিনা জানি না। বইটা পড়তে গিয়ে একটুও বোর লাগে না। একটা সমস্যা সামনে আসে, এরপর সমাধান। একেবারে লেটেস্ট আপডেটসহ।

শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডা. রাশিদা বেগম ম্যাডামের পাশাপাশি আরো আটজন ম্যাডামের লেখা আছে বইটিতে। যারা নিজ নিজ অঙ্গনে স্বনামধন্য। তারা হলেন অধ্যাপক ডা. রেহানা পারভিন, অধ্যাপক ডা. সারিয়া তাসনীম, অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হোসাইন, অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগম, অধ্যাপক ডা. হোসনে আরা বেবি, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মুনা শালিমা জাহান এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার খানম; তাদেরকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সাধ্য আমার নেই। প্রত্যেকেই এক একজন নক্ষত্র, জ্বলজ্বল করে আলোকিত করেন আমাদেরকে।

বইটি যদিও পোষ্ট গ্রাজুয়েশান পরীক্ষার্থীদের ক্লিনিক্যাল কেস অরিয়েন্টেড করে লেখা, তবে প্রাকটিস করেন এমন গাইনিকলোজিষ্টদের ও প্রাকটিসে কাজে লাগবে এবং আন্ডার গ্রাজুয়েটদের জন্যও সংগ্রহে রাখার মতো!

গাইনি অবস্ মিলে একুশটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টার নিয়ে বইটি করা হয়েছে। প্রকাশ করেছে মেডিকেল বই পাবলিশিংয়ের কিংবদন্তি জায়পি প্রকাশনী। এবার রিকারেন্ট প্রেগন্যান্সি লস নামক নতুন এবং পূর্নাঙ্গ একটি আলাদা চ্যাপ্টার করা হয়েছে। ইতোপূর্বে কোন বইয়ে, এ নিয়ে আলাদা করে তেমন কোন লেখা ছিলো না। নতুন সংস্করণে আরো অনেক চ্যাপ্টার এড হবে।

ম্যাডাম তার বিশ্রাম ও নিদ্রার আয়েশটুকু বিসর্জন দিয়ে আমাদের জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তথা রোগীদের ভালোর জন্য যে উদ্যোগটি নিয়েছেন, আমরা মেইন বইটি কিনে এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে ভুল ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে ম্যাডামের এই মহৎ উদ্যোগকে তরান্বিত করতে পারি।

বইটি পাওয়া যাবে, নিউমার্কেট কাঁচা বাজার সংলগ্ন, ৪৪/১, রহিম স্কয়ার, নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স, নিউমার্কেট, ঢাকা ঠিকানায়।

ম্যাডামের এই কর্মযজ্ঞ তাকে আমাদের মাঝে বাঁচিয়ে রাখবেন যুগ যুগ। তাঁর সুদীর্ঘ সুন্দর জীবন কামনা করছি। এই বই সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য রইল বিনম্র শ্রদ্ধা। সবাইকে সৃষ্টিকর্তা সুস্থ সুন্দর রাখুন। একজন ভবিষ্যত গাইনোকলজিষ্ট হিসাবে, বহুল আকাংখিত প্রিয় বই সম্বন্ধে রিভিউ লিখতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। 

আশা করছি, ম্যাডামদের দেখানো পথ ধরে হেঁটে যাবো এক অন্য আলোর খোঁজে। যে আলোয় আলোকিত হবো আমারা, আলোকিত হবে আমার দেশের মেয়েরা, আমার দেশের মায়েরা।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত