ডা. মুহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর

ডা. মুহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর

নিউরোসার্জন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ এন্ড মিটফোর্ড হাসপাতাল


০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১২:৪৮ এএম

মেয়ের চিকিৎসায় অনীহা কেন?

মেয়ের চিকিৎসায় অনীহা কেন?

ডাক্তারি করতে গিয়ে অনেক সামাজিক অসঙ্গতি চোখে পড়ে। যদিও যথেষ্ট ব্যস্ত থাকি, তবু ফেসবুকে লেখালেখির সময়টা করে দেয়ার জন্য ঢাকা শহরের জ্যামের কাছে কৃতজ্ঞ। এইগুলো লিখতে না পারলে দম আটকাই মরে যাইতাম। কইতাম তো কারে কইতাম? শুনবো ক্যাডায়?

ফেসবুকের মজাটাই এখানে, কেউ শুনুক না শুনুক, পড়ুক না পড়ুক, আমি কইতে পারি. দিলকা বোঝ হাল্কা হোতা হ্যায়...

যাউক, আইজকার কাহিনী হইল বাচ্চা লইয়া নিউরোসার্জারিতে কাজ করার কারণে অনেক অনেক বাচ্চা মাথার সমস্যা নিয়ে আসেন। একটা বিরাট অংশ আসে মাথায় ব্যথা পেয়ে, রোড একসিডেন্ট হোক বা ডোমেস্টিক, বাচ্চারা মাথায় ব্যথা পেলে প্রায়ই সার্জারি লাগে; রক্ত জমে যায়, ব্রেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় আরো অনেক ডিটেইলস যেটা ডাক্তার ছাড়া কেউ বুঝবেন না।

একটা বাবু আসছিল হাত থেকে ফ্লোরে পড়ে গিয়ে মাথার খুলির হাড় ফেটে যায়। ভেতরে রক্তপাত হয়। বাবুটা অজ্ঞান হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে প্রচুর বমি করে ও নন স্টপ কান্নাকাটি করতে থাকে। সিটিস্ক্যান দেখে বুঝলাম সার্জারি প্রয়োজন।

সমস্যা হচ্ছে মেয়েটার বাবা মাকে বোঝানোর পর উনারা বললেন, অপারেশন করাবেন না, অনেক খরচ!

বললাম, সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান কোন খরচ লাগবে না, বলে তাতেও ঔষধপাতি, আসা যাওয়ার অনেক খরচ।

এরপর আর কথা থাকে না। এথিক্সের ভেতর থেকে যথাসম্ভব বোঝানোর চেষ্টা করলাম, অপারেশন না করলে কী ঘটতে পারে সব বললাম. তবু তারা রাজি না।

আমি অবাক হয়ে গেলাম। ফুটফুটে একটা দুই বছরের বাচ্চা। তারা এত গরিব ও না। চাইলে সরকারি তো বটেই, বেসরকারিভাবেও অপারেশন করাতে পারবে সহজেই!

যাইহোক, দুইদিন পর বাচ্চাটা মারা যায়। এরপর আরেকটা ছেলে বাচ্চা দেখেছি, যে সিঁড়ি থেকে পড়ে আঘাত পায়, তার অপারেশন প্রয়োজন এবং কোনো কথা ছাড়া সেটা ম্যানেজ হয়ে যায়, বাচ্চাটা ভালো আছে এখন।

আরেকটা মেয়ে ফ্যানের ব্লেডে মাথা ফাটিয়ে আসে, তার ও অপারেশন হয়. সেও ভালো আছে। এরকম প্রায় পঞ্চাশটা রোগীর অপারেশন এবং সব হিস্ট্রি, সিটিস্ক্যানের ছবি মোবাইল থেকে ল্যাপটপে স্থানান্তর করতে গিয়ে একটা প্যাটার্ন আবিষ্কার করলাম।

বাচ্চা যদি ছেলে হয় তাহলে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত যে পরিবার থেকেই আসুক, তার অপারেশন লাগলে সেটা হবেই, সম্পূর্ণ চিকিৎসাও হবে। একেবারে দরিদ্র না হলে প্রাইভেট হাসপাতালেই করাবেন বাবা-মা।

যেভাবেই হোক বাচ্চাটা মেয়ে হইলে দুইটা কথা আছে। উচ্চবিত্তের কাছে ছেলেমেয়ে সমান। নিম্নবিত্তেরও মায়া মহব্বত বেশি। মেয়ের জন্য সব আত্মীয়-স্বজনরা সরে গেলেও, বাবা গ্যাঁট হয়ে বইসে থাকবেই, তার কন্যা সে সুস্থ করতে সর্বোচ্চটা করবে। বেসরকারিতে না কুলোলে সরকারিতে দৌঁড়াবে। মধ্যবিত্তের মধ্যে বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্তের মধ্যে বিশাল ক্যাঁচাল। মেয়ে সন্তানের জন্য এরা সর্বোচ্চ এফোর্টটা দেবে না। গড়িমসি করবে। সময় নষ্ট করবে। নড়াচড়া করবে না। দায় যেন সব ডাক্তারের এমন ভাব ধরবে!

এভাবে অতি মূল্যবান সময় নষ্ট করে পরে রোগী মারা গেলে চেঁচামেচি করে বিল কমানোর চেষ্টা করে বিদায় নেবে নিথর পুতুলের দেহটা নিয়ে...

জুতা মারতে ইচ্ছা করে। বিশ্বাস করেন, জুতায় চাপা ফাটায় ফেলতে ইচ্ছা করে! বাবারে, গরিব হওয়া দোষ না. গরিবের জন্য সব ডাক্তার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। সরকারি হাসপাতাল আছে; আমাদের দেশের মেডিকেল কলেজগুলোয় ইমার্জেন্সি সার্ভিস ঈর্ষণীয়।

কোনোভাবে ঢাকা মেডিকেলের বারান্দায় আনতে পারলে তার চিকিৎসা হবেই হবে। অপারেশন লাগলে হবেই হবে। কিন্তু না এনে খরচের দোহাই দিলে আমাদের দায় কই? তখন কসাই বলা কেন? চেষ্টা করার সুযোগ দিলে কিছু ভুল ভ্রান্তি হলেও হতে পারে। কিন্তু আপনি একেবারেই কিছুই না করলে তখন আমাদের কী করার আছে?

একজন বাবার জন্য আল্লাহর সর্বোচ্চ উপহার তার কন্যা। আমরা চার ভাই। আমাদের বোন নেই। আমার এক ছেলে এক মেয়ে। কন্যা ছাড়া এখন যেন আমার কিছুই প্রয়োজন নাই। কাউকে প্রয়োজন নাই এমন অবস্থা!

মানুষ কীভাবে তার কন্যা আর পুত্রের জন্য আলাদা চিন্তা করে? কীভাবে? এইটা কি সম্ভব? সম্ভব তো অবশ্যই, নিজের চোখে দেখা! কিন্তু কী করে সম্ভব?

এইটা অন্যায়। এইটা জুলুম। এইটা অত্যাচার। প্রতিটা শিশু সে হোক পুত্র বা কন্যা; তার বাবা এবং মায়ের সমান ভালবাসা, সমান কেয়ার ডিজার্ভ করে।

পুরো পৃথিবী আউলায় যাক, বাবা-মার সামনে কন্যা পুত্রের বিভেদ আসতে পারবে না। আসা উচিত না। এইটা কেয়ামতের লক্ষণ যে, বাবা মা ও তার পুত্র আর কন্যার মধ্যে তফাৎ করবে।

আল্লাহ, যেসব বাবা তার পুত্র এবং কন্যার মধ্যেও পক্ষপাতিত্ব করে তাকে পুত্র বা কন্যা কিছুই দিও না। সে কন্যা তো দূরের কথা, পুত্র ও ডিজার্ভ করে না্। সে মানুষ না, সে জানোয়ারও না। কারণ জানোয়ারও হয়তো নিজেদের সন্তানের ক্ষেত্রে এভাবে বৈষম্য করে না।  সে শয়তান. সাক্ষাৎ শয়তান।

পিতৃত্বের স্বাদ নেবার অধিকার তাদের নাই।

সিন্ডিকেট মিটিংয়ে প্রস্তাব গৃহীত

ভাতা পাবেন ডিপ্লোমা-এমফিল কোর্সের চিকিৎসকরা

প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অক্টোবর-নভেম্বরে ২য় ধাপে করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না