ঢাকা      শুক্রবার ২১, সেপ্টেম্বর ২০১৮ - ৫, আশ্বিন, ১৪২৫ - হিজরী




বিল কি ডাক্তাররা করে?

সিএমসির NICU-র অবস্থা যাইহোক কিন্তু এতশত বাচ্চার মাঝে রাখার সাহস হয়নি। তাই প্রাইভেটে নিয়ে এলাম। এই সম্পর্কিত আমার অভিজ্ঞতা এত বেশি যে ভবিষ্যতে কারো বাচ্চা প্রি-ম্যাচিউর কিংবা অসূস্থ (আল্লাহ না করুন) হলে কি কি করা লাগবে তা আমার থেকে জেনে নিতে পারেন। NICU-র ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে দেখলে খারাপ লাগে। একেবারে নাজুক অবস্থা নিয়ে আসে একেকটা। 

ইদানিং ম্যাক্স হাসপাতালের কাহিনী নিয়ে বহু কিছু হয়ে গেল। এ ব্যাপারে মন্তব্য করব না, যেহেতু পুরো ঘটনা আমার কাছে ক্লিয়ার না। যেহেতু মামলাসহ বহু কিছু হয়ে, পক্ষেবিপক্ষে বহু বক্তব্য এসেছে।

এবার আমি একটি কমন ঘটনা বলি যা বিল হাতে পাওয়ার পর বাঙ্গালী স্বভাবজাত অভ্যাস থেকে করে। 

নবজাতককে খুব খারাপ অবস্থায় NICU-তে ভর্তি করানো হলো। হার্টরেট খুব লো ছিল যতটুকু জানা গেছে। তারপর দীর্ঘদিন রাখার পর আল্লাহর রহমতে বাচ্চা সারভাইভ করলো। তারপর রিলিজ করার দিন বিল হাতে পেয়ে বাচ্চার অভিভাবক মহল লোকজন নিয়ে ডিউটি ডাক্তারকে মারতে গেল। মেয়ে ডাক্তারটি রীতিমতো অপদস্থ হয়ে গেল। কয়েকটি প্রশ্ন- 

ভাই বিল কি ডাক্তাররা করে?

ডাক্তারদের নির্ধারিত ফি ছাড়া বাকি সব টাকা কি তারা পান নাকি ক্লিনিকের মালিক?

আপনার বাচ্চা যদি ভাল না হতো তার দোষও যেহেতু ডাক্তারকে দেয়া হয়, তাহলে একটি মরণাপন্ন বাচ্চা ভাল হয়ে যাওয়ার পর ডাক্তারকে কি আপনি একস্ট্রা টাকা দিয়ে এসেছেন? না দেননি বা দেয়া উচিতও না। উনি উনার ডিউটি করেছেন এবং এজন্য উনাকে বেতন দেয়া হয়।

তাহলে ভাল খারাপ যাই রেজাল্ট হোক আপনার তাকে জবাবদিহি করানোর কোন অধিকার নাই। আপনার সমস্ত অভিযোগ আপনি সেই হাসপাতাল ম্যানেজমেন্টকে করবেন। তা না করে ডাক্তার মারতে যাচ্ছেন। দেশের সবচেয়ে ভাল রেজাল্ট করা মেধাবী ছাত্রগুলোকে আপনারা প্রতিনিয়ত অপমান করে যাচ্ছেন এমন অপরাধে যা তাদের নয়। 

আপনি অন্য কোন পেশার লোকের কাছ থেকে সার্ভিস নিতে গিয়ে নাখোশ হলে, আপনি কিন্তু অন্য দেশে গিয়ে সেই সার্ভিস নিতে পারবেন না। শুধুমাত্র চিকিৎসা পেশাটা সার্বজনীন হবার কারণে আপনি দেশের বাইরে যেতে পারেন। কিন্তু কয়জনের সামর্থ আছে?

তাহলে কোন সাহসে কিংবা কার প্ররোচনায় আপনি পত্রিকার পাতায় খবর লিখছেন "অমুক হাসপাতালে ডাক্তারের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু" আবার সেই পাতায়, তার পাশেই বিজ্ঞাপন "ভারতের বিখ্যাত সার্জন(কোন বালের বিখ্যাত তা প্রতিবেদক নিজেও জানেনা) অমুক গুপ্ত বা অমুক প্রকাশ চিকিৎসাসেবা দিবেন অমুক ক্লিনিকে"? 

আমার কাছে গত কয়েক বছরে যেটা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো কোন একটি অপশক্তি এইদেশের বিভিন্ন পেশাজীবীদের মাঝে ইন্টেনশনালী দ্বন্দ্ব লাগিয়ে দিচ্ছে। ডাক্তার/ সাংবাদিক, ডাক্তার/ উকিল, ছাত্রসমাজ/ পরিবহন শ্রমিক এইরকম শতশত বিভাজন তৈরী করে তাদের কোন সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। আমাদের ছোট্ট আর ঋণের ভারাক্রান্ত দেশ যখন আরেকটি বৃহৎ দেশের ৪র্থ সেরা রেমিটেন্সের উৎস হয়, তখন এটা বুঝতে কারো বাকি থাকে না। 

সময় থাকতে সাবধান হতে না পারলে এইদেশের পাবলিক সার্ভিসগুলো যা জোড়াতালি দিয়ে টিকে আছে তাও থাকবে না। এতে কোটি কোটি প্রান্তিক লোকজন কোথায় যাবে বলতে পারেন?

মিনিমাম পেশাগত স্বাধীনতা, মিনিমাম পেশাগত সম্মান আমরা সকল পেশাজীবী চাইতেই পারি। আমি সকল পেশাজীবীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমাদের আলাদা আলাদা পেশাগত সংগঠন নয় বরং সকল পেশাজীবীর স্বার্থ, স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কিছু একটা দরকার। নয়তো মামলায় হেরে গেলে আমার মতো উকিলরেও কিন্তু মক্কেলে পিটাবে। যদিও মামলায় যে কেউ হারতে পারে। 

আমরা আসলে এত নপুংশক আর দূর্বল যে এরকম পেশাজীবীদের বিরুদ্ধে বহু কিছু করতে পারি। কিন্তু পুরো ম্যানেজমেন্ট যাদের হাতে, সিস্টেম যাদের হাতে তাদের বিষয়ে কিছুই করতে পারি না। কারণ তাতে দেশদ্রোহীতার মামলা খেতে হবে। আর কোন অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতেও পারবেন না। কারণ ইতিপূর্বে আপনি তো ডাক্তার পিটাইছেন, আপনি শ্রমিক হয়ে ছাত্র পিটাইছেন কিংবা ছাত্র হয়ে শ্রমিক৷ এখন কিভাবে তাদেরকে ঐক্যের আহবান করবেন। 

রাজনীতি মানে আওয়ামীলীগ বিএনপি দলাদলি না। রাজনীতি আরো ভালভাবে বুঝা উচিত। আমাদেরকে ভিতর থেকে কিভাবে দূর্বল করা হচ্ছে তা যত দ্রুত বুঝবেন, ততই মঙ্গল।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কেন আত্মহত্যা প্রবণতা?

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে কেন আত্মহত্যা প্রবণতা?

মুশফিক মাহবুব নামে ঢাকা ভার্সিটির এক ছাত্র সম্প্রতি ফেইসবুকে একটি স্টাটাস দেওয়ার…



জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর