ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাছির উদ্দিন আহমেদ

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাছির উদ্দিন আহমেদ

পরিচালক 

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


২৯ অগাস্ট, ২০১৮ ০৬:১৬ পিএম

চিকিৎসকগণ কী করবেন?

চিকিৎসকগণ কী করবেন?

সাম্প্রতিক কালে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। তাতে ডাক্তারদের চাকরির কিছু বিধি বিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে। দ্বিমত থাকতেই পারে। অযৌক্তিক কোন কিছুই টিকে থাকে না। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে। যৌক্তিক ভাবে দাবী উপস্থাপন করে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। আমার দীর্ঘ চাকরি জীবনে দেখেছি কিছু ব্যতিক্রম বাদে ডাক্তারগণ পেশাজীবী হিসেবে নিতান্তই অসামাজিক।

মেডিক্যাল জীবনে শুদ্ধাচার ও অবহেলায় বেড়ে উঠা মেধাবী মানুষগুলো আর্থিক নিরাপত্তা হীনতায় ৩৫ থেকে ৩৭ বছর পার করে দেয়। নিজ পেশার অগ্রজদের কাছ থেকে নিরপেক্ষ ও প্রাণদায়ী প্রেরণা পায় না। যোগ্যতা অর্জনের সময় সহানুভূতি পায় খুব কম ডাক্তার।

এর জন্য মূলত দায়ী আমরাই, আমাদের প্রশাসনিক দক্ষতা ও অফিসার, সুলভ আচরণে ঘাটতি আছে।

প্রতিষ্ঠিত ডাক্তারগণের অধিকাংশ কর্পোরেট ব্যবস্থায় বিক্রি হয়ে গেছেন। দালাল প্রাকটিস, কোম্পানীর টাকায় বিদেশ ভ্রমণ, এম আর দের হোন্ডায় চড়া, নগদ টাকা নেয়া, পারসেন্টেজ নেয়া, ডিউটি বিক্রি করা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আমলাদের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাইভেট প্র্যাক্টিস ভিত্তিক অতিরিক্ত রোগী কম সময়ে দেখা, ব্যবহার খারাপ, বিদেশের দালালদের স্বাস্থ্য সেক্টরে আধিপত্য, নিজেদের পেশাগত উন্নতির দিকে নজর না দিয়ে টাকার পিছনে ছোটার কারণে আজ গোটা ডাক্তারি পেশায় সংকট তৈরী করেছে।

এছাড়া গত ১৫ বছরে অধিকাংশ প্রাইভেট মেডিক্যালের অনুমোদন, জেলা পর্যায়ে সরকারি মেডিক্যালে শিক্ষক স্বল্পতা মেডিক্যাল শিক্ষার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ।কিছু ব্যাতিক্রম বাদে কোন মান নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না।

এছাড়া টেকনোলজিস্ট ও নার্সদের পেশাগত আচরণ ও দক্ষতার যথেষ্ঠ ঘাটতি আছে। তাছাড়া রোগীর অতিরিক্ত চাপ, অবকাঠামোগত অপ্রতুলতা ও যন্ত্রপাতির অভাব মান সন্মত চিকিৎসাকে ব্যহত করছে।

উত্তরণের উপায় জাতীয় পর্যায়ে স্বনামধন্য চিকিৎসক ও রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বীকৃত গুনিজনদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করে একটি সুসমন্বিত নীতিমালা তৈরী করা। যার মধ্যে মেডিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা, ডাক্তারদের কর্মপরিবেশ, পদন্নোতি, অন্যান্য সুবিধা, প্রাইভেট প্র্যাক্টিসের নীতিমালা, সিলেবাস, আচরণ বিজ্ঞান, পোষ্ট গ্র্যাজুয়েশান এর কাঠামোগত নীতিমালা প্রনয়ণ করতে হবে।

আবেগ প্রবণ বা হতাশ হয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। দেশের উন্নতির স্বার্থে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বেঁচে থাকতে হলে আমাদেরকে নিরপেক্ষতা নিয়ে পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে। তা না করতে পারলে সাধারণ জনগণ ও প্রান্তিক চিকৎসক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ডাক্তাদের ও এই পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ব্যবহারে আরো মানবিক হতে হবে। অনেক ডাক্তারকে দেখেছি তাদের ব্যবহার অনেক মানবিক এবং ওনাদের দেখে শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে। মনে রাখতে হবে চিকিৎসকগণ আর আমলাদের বা পুলিশের আচরণ এক হতে পারে না। জনগণকে আরো দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। জনগণের সচেতন অংশ পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট নিয়ে সচেতন হয়ে পজিটিভ ভূমিকা পালন করতে হবে। কোয়াক চিকিৎসক, দালাল, প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোকে আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

যারা দেশকে ভালবাসেন তাদের দায়িত্ব আছে। শুধু ডাক্তারদের দোষারোপ করলে সমস্যার সমাধান কোন দিনই হবে না। সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। অন্ধকার আসবেই কিন্তু সূর্যের আলোকে কেউ আটকাতে পারবে না।

মেডিভয়েসকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে পরিচালক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক করোনা বেড ফাঁকা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত